ঙ্গোগে ওয়া থিয়ঙ'অ

কেনীয় লেখক

ঙ্গোগে ওয়া থিয়ঙ'অ[ক] (গেকোইয়ো: Ngũgĩ wa Thiong'o, উচ্চারণ [ᵑɡoɣe ðiɔŋɔ];[১] জন্ম জেমস ঙ্গোগে ৫ই জানুয়ারি ১৯৩৮)[২] একজন কেনীয় ঔপন্যাসিক, উত্তর-ঔপনেবেশিক তাত্ত্বিক, আকাদেমিক এবং সামজিক আন্দোলনকারী। তাঁর জন্ম কেনিয়ায় ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে, এক কৃষক পরিবারে। জন্মের পর তাঁর নাম রাখা হয়েছিল জেমস গুগি। ঔপনেবিশক স্মৃতি মুছে ফেলার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৬ সালে তিনি নাম পরিবর্তন করেন।[৩] সাহিত্যের নানা শাখায় তাঁর বিচরণ তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, সমালোচনা, ছোটগল্প এবং শিশুতোষ রচনাবলী সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও নন্দিত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৪৫। তিনি প্রথমে ইংরেজিতে লিখতে শুরু করেছিলেন কিন্তু ১৯৭৭-এ আমি যখন মন চায় বিয়ে করবো গ্রন্থটির কারণে তাকে কারাবন্দী করা হলে তিনি মাতৃভাষায় লেখার সিদ্ধান্ত নেন। ক্রুশকাঠের শয়তান গ্রন্থটি তিনি রচনা করেছিলেন বন্দীদশায়, টয়লেট পেপারের ওপর।

ঙ্গোগে ওয়া থিয়ঙ'অ
Ngũgĩ wa Thiong'o
২০১২ সালে থিয়ঙ'অ
উচ্চারণ[ᵑɡoɣe ðiɔŋɔ]
জন্ম
জেমস থিয়ঙ'অ

(1938-01-05) ৫ জানুয়ারি ১৯৩৮ (বয়স ৮৬)
জাতীয়তাকেনীয়
মাতৃশিক্ষায়তনম্যাকেরারি বিশ্ববিদ্যালয়
লিডস বিশ্ববিদ্যালয়
পেশা
কর্মজীবন১৯৬৪–বর্তমান
দাম্পত্য সঙ্গীঞ্জীরি
সন্তান
  • তী ঙ্গোগে
  • মোকমা ওয়া ঙ্গোগে
  • ন্দুশু ওয়া ঙ্গোগে
  • ওয়াঞ্জিকু ওয়া ঙ্গোগে
লেখক হিসেবে কর্মজীবন
ভাষা
সময়কালসমকালীন
ধরনউপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, স্মৃতিকথা, নকাল্পনিক রচনা
বিষয়উত্তর-ঔপনিবেশিকতাবাদ, বিউপনিবেশায়ন
ওয়েবসাইটngugiwathiongo.com

তাঁর প্রথম উপন্যাস কেঁদো না, বাছা প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে। এই ঐতিহাসিক উপন্যাসটি একজন শক্তিশালী ও রাজনৈতিক কথাসাহিত্যিকের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেছিল। তিনি এ উপন্যাসে কেনিয়ার মানুষ ও ব্রিটিশ উপনিবেশের সম্পর্ক উপজীব্য করেছেন।[৪] তিনি ম্যাকারিরি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনিভার্সিটি অব লিডস্‌-এ অধ্যয়ন করেছেন। বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (আর্ভিং) ডিস্টিংগুইশড্‌ প্রফেসর হিসাবে শিক্ষকতা করছেন। তাঁর বিষয় তুলনামূলক সাহিত্যতত্ত্ব। তিনি ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের সাহিত্যের নোবেল পুরস্কারের জন্য শর্টলিস্টেড হয়েছেন।[৫] একুশ শতাব্দীতে সম্ভাব্য নোবেল প্রাপকদের তালিকায় তাঁর নাম প্রায় প্রতি বছরেই উচ্চারিত হয়েছে।[৬]

তাঁর স্মৃতিকথা যুদ্ধে কালের স্বপ্ন উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামের একটি শিল্পীত দলিল। তার উইজার্ড অব দ্য ক্রো একটি নিপূর্ণ রচনা হিসাবে স্বীকৃত। তাঁর সাহিত্যকীর্তির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে নোনিনো ইন্টারন্যাশনাল প্রাইয ফর লিটেরেচার লাভ করেছেন। এছাড়া ২০০৯ পর্যন্ত ৭টি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূক ডিগ্রী প্রদান করেছে।

পাদটীকা

সম্পাদনা
  1. এই কেনীয় ব্যক্তিনামটির বাংলা প্রতিবর্ণীকরণে মূল গেকোইয়ো উচ্চারণানুগ বানানরীতি অনুসরণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. Archived at Ghostarchive and the Wayback Machine: "Ngũgĩ wa Thiong'o: 'Europe and the West must also be decolonised'"YouTube। ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯। 
  2. "Ngũgĩ wa Thiong'o: A Profile of a Literary and Social Activist"। ngugiwathiongo.com। ২৯ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০০৯ 
  3. "গুগি ওয়া থিয়োঙ্গো বিষয়ে তথ্যতীর্থ"। ২৯ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ অক্টোবর ২০১০ 
  4. নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গ'ও
  5. লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় ৫ অক্টোবর ২০১০ তারিখে প্রকাশিত নিবন্ধ
  6. সাহিত্যে নোবেল ২০২১

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা