গোরক্ষবাসলি হল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলায় কলকাতার নিকটবর্তী দমদমে অবস্থিত নাথযোগীদের একটি প্রসিদ্ধ সাধনতীর্থকেন্দ্র। গাজন ও শিবরাত্রিতে বিশেষ উৎসব-অনুষ্ঠানের সময় গোরক্ষনাথের ভক্ত বিভিন্ন শাখার নাথযোগীরা এখানে সমবেত হন। মাঘী পূর্ণিমার সময় এখানে বেশ বড় মেলা হয়।[১]

মন্দিরের বিবরণসম্পাদনা

এখানে মন্দিরের মধ্যে গোরক্ষনাথ, মৎস্যেন্দ্রনাথ ও দত্তাত্রেয়ের নরমূর্তি-সদৃশ তিনটি মূর্তি আছে। মূর্তিগুলির পরনে গেরুয়া বসন, কানে কুণ্ডল, শেলীনাদ ইত্যাদি বর্তমান। মন্দিরের উত্তর-পশ্চিমে একটি প্রোথিত ত্রিশূলের পাশে ধুনী জ্বালানো থাকে। মন্দিরের মধ্যে কপিলমুনির শ্বেতপাথরের একটি ছোট মূর্তি আছে। মন্দিরের উল্টোদিকে ভৈরব, বিষ্ণু, হনুমান, কালী, মনসা সহ একটি শিবমন্দির আছে। মন্দিরের ভিতর বাগানের মধ্যে যোগীদের ছোট-ছোট কয়েকটি সমাধি সহ একটি বড় লাল সমাধি আছে।

গোরক্ষবাসলির ঐতিহাসিকত্বসম্পাদনা

দমদমের এই গোরক্ষক্ষেত্রটি কত পুরানো, তা জানা যায় না। কথিত আছে, কপিলমুনি প্রাচীনকালে এখানে সাধনা করতেন। তারপর গোরক্ষনাথ এসে এখানে ধুনীর আগুন প্রজ্জ্বলিত করেন, যে আগুন এখনও জাজ্জ্বল্যমান।দীনেশচন্দ্র সেনের মতে, গোরক্ষনাথই কালীঘাটের কালীকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উল্লেখ্য, নেপালে ও সিকিমে শক্তি উপাসক গোরক্ষনাথের নামে বহু মন্দির-গুম্ফা আছে। নাথযোগীদের বেশভূষা, আচার-আচরণের সঙ্গে ইন্দো-মঙ্গোলয়েত জাতির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। [১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. ঘোষ, বিনয়, "পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি", তৃতীয় খন্ড, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশ ভবন, পৃষ্ঠা: ১৭৫-১৭৮