গার্ডেনরিচ উড়ালপুল

কলকাতার একটি উড়ালপুল

গার্ডেনরিচ উড়ালপুল হল দক্ষিণ কলকাতার বন্দর এলাকার গার্ডেনরিচ ও মাঝেরহাটের মধ্যে সংযোগকারী কটি উড়ালপুল।[১] ৪.৪ কিলোমিটার লম্বা এবং চার লেনের উড়ালপুল ৯ মার্চ ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধন করেন।[২][৩] গার্ডেনরিচের ব্রুকলিন মোড় থেকে উড়ালপুলটি এসে নামবে মাঝেরহাটের সেতুর কাছে। অন্য একটি শাখা নামবে রিমাউন্ট রোডের কাছে।

গার্ডেনরিচ উড়ালপুল
গার্ডেনরিচ উড়ালপুল.jpg
গার্ডেনরিচ উড়ালপুলের মাঝেরহাটের দিকের অংশ
বহন করেবাইক,যত্রীবাহি গাড়ি
স্থানকলকাতা,পশ্চিমবঙ্গ,ভারত
বৈশিষ্ট্য
নকশাগাডার সেতু
উপাদানইস্পাত,কংক্রিট
মোট দৈর্ঘ্য৪.৪ কিমি
ইতিহাস
চালু৯ মার্চ ২০১৮
পরিসংখ্যান
টোলনা

পেক্ষাপটসম্পাদনা

কলকাতা শহরের অন্যতম ঘিঞ্জি এলাকা খিদিরপুর ও গার্ডেনরিচ। ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি যানজট এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সমস্যা। যানজটের মূল কারণ বন্দর এলাকায় ঢোকা এবং বেরোনো বড় বড় ট্রেলার এবং ট্রাক। এই জটে আটকে অনেক সময়ে চূড়ান্ত হয়রানি হয় রোগীদেরও। নিত্য এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে বাসিন্দারা দীর্ঘ দিন ধরে একটি উড়ালপুল তৈরির দাবি জানিয়ে আসছিলেন।[৪]

২০১৪ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খিদিরপুরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখেছিলেন, সার্কুলার গার্ডেনরিচ রোডে তীব্র যানজট। ওই রাস্তাটি খিদিরপুর যাওয়ার প্রধান মাধ্যম। সে সময়েই এলাকার বিধায়ক তথা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম একটি উড়ালপুল তৈরির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি দেন মুখ্যমন্ত্রীও।[৪]

ইতিহাসসম্পাদনা

চার লেনের এই উড়ালপুল তৈরির কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে ফ্রেব্রুয়ারিতে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালে আগস্ট মাসে। জমি জটিলতায় সেই কাজ বারবার পিছিয়ে যায়। শেষমেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২০১৭ সালে জুলাই মাসের মধ্যে চালু করা হবে উড়ালপুল।

উড়ালপুল তৈরির দায়িত্ব পায় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের অধীনে থাকা কেএমডিএ। তারাই কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ সংস্থা রাইট্‌সকে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরির দায়িত্ব দেয়। তার পরেই কাজ শুরু হয়। উড়ালপুল তৈরির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার মঞ্জুর করেছে ₹৩৩৯ কোটি টাকা। জমি দিয়েছেন কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ[৪]

৪.৪ কিলোমিটার লম্বা এই উড়ালপুল তৈরির জন্য সময়সীমা ধরা হয়েছিল ৩০ মাস। কিন্তু ভূগর্ভস্থ জলের লাইন, বিদ্যুতের লাইন এবং নিকাশি নালা সরিয়ে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়।[৪]

নকশার অনুমোদনের গড়িমসিতে আটকে গার্ডেনরিচ ফ্লাইওভার তৈরির কাজ। রাজ্যের বারবার আবেদন সত্ত্বেও চক্ররেলের লাইনের উপর দিয়ে ফ্লাইওভার তৈরির অনুমতি দিচ্ছে না পূর্ব রেল। চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে উড়ালপুল চালু হবে কিনা তা নিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কিন্তু রেলের তরফে জমির ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমতি না মেলায় আপাতত আটকে সেই কাজ। পরে ছারপত্র মেলে, তবে নির্মানে বিলম্ব ঘটে।

নিরাপত্তাসম্পাদনা

উড়ালপুলের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বাস ও ট্রাক না চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত বন্দর এলাকার যানজটের হাত থেকে রেহাই পেতেই উড়ালপুলটি হয়েছে। তাই ট্রেলার বা লরি যাতে ওই উড়ালপুলে না ওঠে, তার জন্য সেটির দু’দিকে ‘হাইট বার’ বসানো হয়েছে।[৫]

উড়ালপুলটিতে সব সময় নজরদারি করার জন্য ১০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সেগুলি সাউথ-ওয়েস্ট ট্র্যাফিক গার্ডের তরফে নজরে রাখা হবে।[৫]

দূর্ঘটনাসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "One more flyover"। The Telegraph। ৭ মার্চ ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০১৮ 
  2. "CM inaugurates 4.4 km Garden Reach flyover"। Millenniumpost। ৯ মার্চ ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০১৮ 
  3. "Garden Reach flyover to be thrown open tomorrow"। The Times of India। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০১৮ 
  4. "নয়া উড়ালপুল খিদিরপুরে"। আনন্দবাজার পত্রিকা। ২৫ জানুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০১৮ 
  5. "নয়া উড়ালপুলে নিষিদ্ধ বাস ও ট্রাক"। আনন্দবাজার পত্রিকা। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০১৮