প্রধান মেনু খুলুন

ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ

ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ (১২ এপ্রিল ১৮৬৩ - ৪ জুলাই ১৯২৭) হলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার। তার পিতার নাম গুরুচরণ ভট্টাচার্য।[১]

ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ
জন্ম(১৮৬৩-০৪-১২)১২ এপ্রিল ১৮৬৩
কৃষ্ণনগর, নদিয়া, বাংলা প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
মৃত্যু৪ জুলাই ১৯২৭(1927-07-04) (বয়স ৬৩)
কলকাতা, বাংলা প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
পেশানাট্যকার
সময়কালবাংলার নবজাগরণ

ক্ষীরোদপ্রসাদ মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউট থেকে রসায়নে বিএ পাস করে প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে এমএ পাস করেন। ১৮৯২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইনস্টিটিউশনে অধ্যাপনা করেন।[১]

সাহিত্যকীর্তিসম্পাদনা

ছাত্র থাকাকালীন সময় থেকেই তিনি সাহিত্য চর্চা করতেন। ১৮৮৫ সালে তার রাজনৈতিক সন্ন্যাসী (দুই খণ্ড) প্রকাশিত হয়েছিল। ১৮৯৪ সালে তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দে ফুলশয্যা নাটকটি রচনা করেন। এটি উচ্চকবিত্বপূর্ণ বাংলা নাটক হিসাবে প্রশংসা পেয়েছিল। ক্ষীরোদপ্রসাদের সবথেকে জনপ্রিয় নাটক আলিবাবা (১৮৯৭)। আরব্য উপন্যাসের কাহিনী নিয়ে তিনি এই গীতিনাট্যটি লিখেছিলেন।[১]

তার ঐতিহাসিক নাটকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য রঘুবীর, বঙ্গের প্রতাপাদিত্য, আলমগীর, ও নন্দকুমার। এই নাটকগুলি দেশাত্মবোধক চেতনা জাগাতে সাহায্য করেছিল। তার রচিত ৬টি পৌরাণিক নাটকের মধ্যে ভীষ্মনরনারায়ন রঙ্গমঞ্চে বহুদিন অভিনীত হয়েছিল। তিনি মোট ৫৮টি বই লিখেছিলেন। এগুলির মধ্যে কয়েকটি উপন্যাস এবং গল্পের বইও আছে। তিনি ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীমদ্‌ভগবদগীতা অনুবাদ করেন। তিনি ১৩১৬ বঙ্গাব্দ থেকে ১৩২২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত অলৌকিক রহস্য নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন।[১]

গিরিশচন্দ্রকে অনুসরণ করেও তিনি পৌরাণিক নাটককে গিরিশচন্দ্রের প্রভাব থেকে কিছুটা মুক্ত করতে পেরেছিলেন। তার নাটক গিরিশচন্দ্রের নাটকের মত অতটা ভক্তি-রসাসিক্ত ছিল না। তিনি পৌরাণিক চরিত্রগুলিকে বুদ্ধির দিক দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের নাট্যকাব্যের প্রভাব তার কয়েকটি নাটকে সুষ্পষ্ট ভাবে পড়েছিল।[২]

উল্লেখযোগ্য নাটকসম্পাদনা

ক্ষীরোদপ্রসাদের নাটক গুলিকে মূলত নিন্ম লিখিত শ্রেণীতে তুলে ধরা যায়ঃ

নাটিকা
  • সপ্তম প্রতিমা (১৯০২)
  • রঘুবীর (১৯০৩)
  • রঞ্জাবতী (১৯০৪)
  • উলুপী (১৯০৬)
  • রক্ষঃ ও রমণী (১৯০৭)
  • দৌলতে দুনিয়া (১৯০৯)
  • মিডিয়া (১৯১২)
  • নিয়তি(১৯১৪)
  • রত্নেশ্বরের মন্দির (১৯২২)
  • জয়শ্রী (১৯২৬)
রঙ্গনাট্য ও গীতিনাট্য
  • ফুলশয্যা (১৮৯৪)
  • কবি-কাননিকা (১৮৯৬)
  • আলিবাবা (১৮৯৭)
  • প্রমোদরঞ্জন (১৮৯৮)
  • কুমারী (১৮৯৯)
  • জুলিয়া (১৯০০)
  • বভ্রুবাহন (১৯০০)
  • বেদৌরা (১৯০৩)
  • বৃন্দাবন বিলাস (১৯০৪)
  • বাসন্তী (১৯০৮)
  • বরুণা (১৯০৮)
  • দাদা ও দিদি (১৯০৮)
  • ভূতের বেগার (১৯০৮)
  • দৌলতে দুনিয়া (১৯০৯)
  • মিডিয়া (১৯১২)
  • ভীষ্ম (১৯১৩)
  • রূপের ডালি (১৯১৩)
  • মিনতি (১৯১৪)
  • রত্নেশ্বরের মন্দির (১৯২২)
  • জয়শ্রী (১৯২৬)
পৌরাণিক নাটক
  • প্রেমাঞ্জলি (১৮৯৬)
  • সাবিত্রী (১৯০২)
  • চাঁদবিবি (১৯০৭)
  • দুর্গা (১৯০৯)
  • ভীষ্ম (১৯১৩)
  • রামানুজ (১৯১৬)
  • মান্দাকিনি (১৯২১)
  • বিদুরথ (১৯২৩)
  • নরনারায়ণ (১৯২৬)

ইতিহাসাশ্রয়ী নাটক

  • বঙ্গের প্রতাপাদিত্য (১৯০৩)
  • পদ্মিনী (১৯০৬)
  • পলাশির প্রায়শ্চিত্ত (১৯০৭)
  • নন্দকুমার (১৯০৭)
  • অশোক (১৯০৮)
  • বাঙালার মনসদ (১৯১০)
  • খাঁ জাহান (১৯১২)
  • আহেরিয়া (১৯১৫)
  • রঙ্গের রাঠোর (১৯১৭)
  • আলমগীর (১৯২১)
  • গোলকুন্ডা (১৯২৫)

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান - দ্বিতীয় খণ্ড - সাহিত্য সংসদ
  2. বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা - সুকুমার সেন - সপ্তম সংস্করণ