কুরুশের চোঙ

দুই হাজার ৬০০ বছরের পুরোনো মাটির তৈরি কিউনিফর্ম লিপিতে লেখা সিলিন্ডার আকৃতির সনদ

কুরুশের চোঙ (ফার্সি: استوانه کوروش‎‎‎; ওস্‌তোভ'নে কুরুশ) মাটির তৈরি চোঙ যা কিউনিফর্ম হরফে লেখা সনদ[২] পারস্যের সম্রাট কুরুশের নামে নামাঙ্কিত।[৩] চোঙটি দুই হাজার ৬০০ বছরের পুরোনো।[২] যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত ব্রিটিশ মিউজিয়ামের অধিকারে আছে চোঙটি। খ্রিষ্টপূর্ব ৫৩৯ সালে ব্যাবিলন দখল করার পর কুরুশের নির্দেশে চোঙটি তৈরি করা হয়েছিল। এতে খোদাই করে লেখা আছে পারস্য সাম্রাজ্যজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সহিষ্ণুতা ও মানবাধিকার বাস্তবায়নের কথা।

কুরুশের চোঙ
Front view of a barrel-shaped clay cylinder resting on a stand. The cylinder is covered with lines of cuneiform textRear view of a barrel-shaped clay cylinder resting on a stand. The cylinder is covered with lines of cuneiform text
কুরুশের চোঙ, সামনের দিক ও পিছনের দিক
উপাদানপোড়া মাটি
আকার২২.৫ সেন্টিমিটার (৮.৯ ইঞ্চি) x ১০ সেন্টিমিটার (৩.৯ ইঞ্চি) (maximum)
লিখনAkkadian cuneiform script
আবিষ্কৃতBabylon, Mesopotamia by Hormuzd Rassam in March 1879
নির্মিতAbout 539–530 BC
সময়কাল / সংস্কৃতিAchaemenid Empire
আবিষ্কৃতBabylon, Mesopotamia by Hormuzd Rassam in March 1879
বর্তমান অবস্থান৫২ নং রুম[১] (previously 55), ব্রিটিশ মিউজিয়াম, লন্ডন
সনাক্তকরণBM 90920
নিবন্ধনটেমপ্লেট:British-Museum-db

কুরুশের চোঙটিতে বর্ণিত রয়েছে সম্রাট কুরুশের ব্যাবিলন আক্রমণের ইতিহাস। তিনি ব্যাবিলনের দেবতা মারদুকের আমন্ত্রণে প্রথম সেখানে গিয়েছিলেন। আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর তিনি মুক্তি দিয়েছিলেন ব্যাবিলনীয়দের হাতে নির্যাতিত দাস জাতিগোষ্ঠীকে। এ ছাড়া তাদের প্রার্থনালয়ে বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল কুরুশের নির্দেশেই। মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ইহুদিরাও ছিল। তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন কুরুশ। এসব অসাধারণ পদক্ষেপ বা অবদানের জন্য একজন ‘উদার ও আলোকিত সম্রাটের’ সুনাম অর্জন করেন কুরুশ।[৩]

মানবাধিকার সনদসম্পাদনা

কুরুশের চোঙ দেখতে অনেকটা পিপার মতো। পিপা আকৃতির চোঙটি ব্যাবিলনের ভিত্তিস্তম্ভে ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এটিই বিশ্বের ‘প্রথম মানবাধিকার সনদ’।[৪]

আবিষ্কারসম্পাদনা

 
মসুলে প্রায় ১৮৫৪ সালে হরমুজদ রাসাম। কুরুশের চোঙটি বেবিলনে ১৮৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি - মার্চে তার প্রত্নতাত্ত্বিক খননকালে আবিষ্কৃত হয়েছিল।

ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক ও কূটনীতিক হরমুজদ র‌্যাসামের নেতৃত্বে মেসোপটেমিয়া (বর্তমান ইরাক) থেকে চোঙটি ১৮৭৯ সালে উদ্ধার করা হয়।[৪]

কুরুশকোষ (সাইরোপিডিয়া)সম্পাদনা

কুরুশের জীবনীর ওপর ভিত্তি করে গ্রিক চিন্তাবিদ জেনোফন লিখেছেন সাইরোপিডিয়া। জোনোফন লিখেছেন কুরুশ কীভাবে সহিষ্ণুতার ওপর ভিত্তি করে একটি বৈচিত্র্যময় সমাজ শাসন করতেন। বইটি (গ্রিকলাতিন ভাষায়) ইউরোপে ১৭৬৭ সালে প্রকাশিত হয়। একটি কপি স্থান পেয়েছে ওয়াশিংটন ডিসির বিশেষ প্রত্নপ্রদর্শনীতে। আরেকটি কপি ছিল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসনের সংগ্রহে, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে সংরক্ষিত রয়েছে।[৪]

গ্যালারিসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. http://www.britishmuseum.org/explore/highlights/highlight_objects/me/c/cyrus_cylinder.aspx
  2. Dandamayev, (2010-01-26)
  3. Kuhrt (2007), p. 70, 72
  4. মানবাধিকারের প্রাচীন দলিল ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৬ জুন ২০১৭ তারিখে,আশিস আচার্য, দৈনিক প্রথম আলো। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ২৪-০৫-২০১৩ খ্রিস্টাব্দ।

গ্রন্থপঞ্জীসম্পাদনা

মিডিয়া আর্টিকেলসম্পাদনা

অন্যান্য উৎসসম্পাদনা

  • "British Museum Highlights web page"। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৬-০৮ 
  • "British Museum collection database web page, with full translation of the Cylinder's text"। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৬-১৯ 
  • Nayeri, F. (২০১০-০১-১১)। "British Museum Postpones Sending Artifact to Iran"। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৬-২৫'The agreement has been made with our colleagues in Iran that we'll postpone the loan to investigate this exciting discovery with them,' said Hannah Boulton, head of press and marketing at the British Museum. 'That's the reason for the postponement.' [...] Boulton said the latest postponement had no link to recent events. 
  • The Cyrus Cylinder। Inscription in room 55: British Museum। ১৯৭৯। For almost 100 years the Cylinder was regarded as ancient Mesopotamian propaganda. This changed in 1971 when the Shah of Iran used it as a central image in his own propaganda celebrating 2500 years of Iranian monarchy. In Iran, the Cylinder has appeared on coins, banknotes and stamps. Despite being a Babylonian document it has become part of Iran's cultural identity. 
  • The British Museum (২০১০-০১-২০)। "Statements regarding the Cyrus Cylinder"। British Museum। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৬-০১ 
  • "Note to Correspondents no. 3699" (PDF)। United Nations। ১৯৭১-১০-১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৬-০৮ 
  • Lendering, Jona (২০০৭-০১-২৮)। "The Cyrus Cylinder"। livius.org। ২০০৭-০২-২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৭-৩০ 
  • Dandamaev, M.A. (২০১০-০১-২৬)। "Cyrus II The Great"Encyclopædia Iranica। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৬-০৮ 
  • Dandamaev, M.A. (২০১০-০১-২৬)। "The Cyrus Cylinder"Encyclopædia Iranica। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৯-১৩ 
  • "United Nations Press Release SG/SM/1553/HQ263" (PDF)। ১৯৭১-১০-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৬-০৮ 
  • "Gift of Iran to the United Nations"। United Nations। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৬-১০ 
  • "The First Global Statement of the Inherent Dignity and Equality"। United Nations। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৯-১৩ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা