কুরাসাওয়ের ইতিহাস

ইতিহাসের বিভিন্ন দিক

কুরাসাও এর ইতিহাস এর সূচনা দক্ষিণ আমেরিকার মূল ভূ-খণ্ড থেকে আগত আমেরিকান আদিবাসী গোষ্ঠী আরাওয়াকদের (Arawak) বসতি স্থাপনের মাধ্যমে। ধারণা করা হয়, ইউরোপীয়দের আগমনের কয়েকশ' বছর আগে থেকেই তারা এই দ্বীপের বসবাস করে আসছিল।

প্রাক-ঔপনিবেশিক ইতিহাসসম্পাদনা

 
হাতো গুহায় প্রাপ্ত ১,৫০০ বছরের পুরনো প্রস্তরচিত্র (Petroglyph)

এই দ্বীপে মানব বসতির প্রাচীনতম নিদর্শন পাওয়া যায় রুই রিঙ্কন (Rooi Rincon)– এ। এর নমুনা প্রাক-মৃত্তিকাশিল্প (preceramic) যুগের অধিবাসীদের ব্যবহৃত পাথরের গায়ে, প্রাকৃতিকভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। এখানে যেসব ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে রয়েছে খোলকের স্তূপের বর্জ্য, পশুর হাড়গোড় জাতীয় পদার্থ, এবং পাথর। জিনিসপত্রগুলো পাথর এবং খোল দ্বারা তৈরি, যা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এখানে প্রস্তর-চিত্রও দেখতে পাওয়া যায়। কুরাসাওয়ে প্রাপ্ত সবচেয়ে পুরনো ধ্বংসাবশেষগুলোর সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব ২৯০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২৩০০ অব্দের মাঝামাঝি। একই ধরনের ধ্বংসাবশেষ এবং মানুষের সমাধি পাওয়া যায় সিন্ত মিশিল্‌সবেয়ার (Sint Michielsberg) এ, আনুমানিক ২০০০ থেকে ১৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।

যেসব স্থান থেকে মৃৎশিল্প যুগের মাটির কাজের ভগ্নাবশেষ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে নিপ্‌ (Knip) ও সান হুয়ান (San Juan) অন্যতম। এগুলোর সময়কাল আনুমানিক ৪৫০ থেকে ১৫০০ অব্দের মধ্যে। জিনিসপত্রগুলো দাবাহুরইদ (Dabajuroid) সংস্কৃতির অন্তর্গত ছিল, নির্দিষ্ট করে বললে কাকেতিও (Caquetio) জনপদের, যারা উত্তর–পশ্চিম ভেনেজুয়েলার নিকটবর্তী অঞ্চল থেকে এসেছিল। তাদের ভাষার ওপর ভিত্তি করে এই আদিবাসীদের আরাওয়াক (Arawaks) গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কাকেতিওরা প্রায় চল্লিশজন পর্যন্ত অধিবাসী নিয়ে ছোট ছোট বসতি তৈরি করে বসবাস করত। অধিকাংশ গ্রামই মূলত দক্ষিণ উপকূলের অভ্যন্তরীণ উপসাগরীয় (inland bays) এলাকায় অবস্থিত ছিল। পরের দিকের কাকেতিওরা ক্ষুদ্র পরিসরে কাসাভা চাষ, মৎস্যশিকার, খোলসি মাছ (shellfish) এবং ছোটখাট প্রাণি শিকার করে জীবন নির্বাহ করতো। এছাড়াও, তারা অন্যান্য দ্বীপ ও মূল ভূ-খণ্ডের আমেরিকান আদিবাসীদের সাথেও বাণিজ্য করতো। নিপ (Knip) এবং সান্তা বারবারা (Santa Barbara) সহ বেশ কয়েকটি স্থানে বসতির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

১৯শ শতকে ওলন্দাজ দীপপুঞ্জের সর্বপ্রথম অধিবাসীদের নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা শুরু হয়, যার মধ্যে ছিলেন শৌখিন গবেষক এ.জে. ভ্যান কুলওয়াইক (A. J. Koolwijk), যিনিই প্রথম সরেজমিন অনুসন্ধান শুরু করেন। এছাড়াও তিনি দ্বীপে আবিষ্কৃত প্রস্তরচিত্রগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন। সেই সময় থেকে, অনেকেই কুরাসাওয়ের আদি অধিবাসীদের নিয়ে কাজ করেছেন।

ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনসম্পাদনা

 
সমুদ্র থেকে দৃশ্যমান আমস্টারডাম দূর্গ

স্প্যানিশ যুগসম্পাদনা

স্প্যানিয়ার্ড আলোনসো দে ওহেদা ২৬ জুলাই, ১৪৯৯ খ্রিস্টাব্দে কুরাসাওয়ে উপনিবেশ স্থাপন করেন। ঐ সময় এ দ্বীপে প্রায় ২,০০০ কাকেতিও (Caquetios) বাস করত। ১৫১৫ সালের মধ্যে প্রায় সব কাকেতিওকে বন্দি করে দাস হিসেবে ইস্পানিওলায়(Hispaniola) নিয়ে যাওয়া হয়। ১৫২৭ সালে স্প্যানিশরা এখানে বসতি স্থাপন করে এবং স্প্যানিশ-ভেনেজুয়েলার একটি শহর থেকে দ্বীপটির তত্ত্বাবধান করে। স্প্যানিশরা বাইরের অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণি কুরাসাওয়ে নিয়ে এসেছিল। ইউরোপ বা অন্যান্য স্প্যানিশ উপনিবেশ হতে ঘোড়া, ভেড়া, ছাগল, শূকর এবং গবাদিপশু এখানে আনা হয়েছিল। স্প্যানিশরা বিভিন্ন বহিরাগত গাছপালাও রোপণ করেছিল এখানে।

এগুলো অবশ্য অনেক ক্ষেত্রেই পরীক্ষা ও ত্রুটি (trial and error) নির্ভর ব্যাপার ছিল। স্প্যানিশরা কাকেতিওদের শস্য এবং চাষাবাদ পদ্ধতি শিখে নিয়েছিল। বিভিন্ন সূত্র থেকে অন্যান্য ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সম্পর্কেও জানা যায়। আমদানি করা সব প্রজাতিই অবশ্য সমানভাবে সফল ছিল না। পশুপালন মোটের ওপর সফল ছিল; স্প্যানিশরা গবাদি পশুদের ক্ষেত (kunuku) এবং চারণভূমিগুলোতে (savannas) ছেড়ে দিত। কাকেতিও এবং স্প্যানিশ রাখালদের দিয়ে পশু চরানো হত। ভেড়া, ছাগল আর গবাদি পশুপালন ভালোই চলত। ঐতিহাসিক সূত্রমতে, দ্বীপে হাজার হাজার এমন প্রাণি ছিল। অন্যদিকে, কৃষিকাজে সাফল্য এর ধারে-কাছেও ছিল না। কৃষি উৎপাদনের পরিমাণ হতাশাজনক হওয়ায়, লবণ ধারকগুলোর (salt pan) ফলনও ভালো ছিল না, এবং কোন মূল্যবান ধাতুও পাওয়া যায়নি। এজন্য স্প্যানিয়ার্ডরা এই দ্বীপকে অকেজো দ্বীপ (isla inutil) বলে আখ্যা দিয়েছিল।

দিন দিন কুরাসাওয়ে বাসকারী স্প্যানিয়ার্ডদের সংখ্যা কমতে থাকে। অন্যদিকে, আমেরিকান আদিবাসীদের সংখ্যা স্থিতিশীল হয়। ধারণা করা হয়, স্বাভাবিক বৃদ্ধি, প্রত্যাবর্তন, এবং উপনিবেশের কারণে কাকেতিওদের জনসংখ্যা বেড়ে গিয়েও থাকতে পারে। স্প্যানিশ উপনিবেশের শেষ দশকে কুরাসাও মূলত বিশাল গবাদি পশু চারণভূমি হিসেবেই ব্যবহৃত হত। সান্তা বারবারা, সান্তা আনা, এবং দ্বীপের পশ্চিম অংশের গ্রামগুলোতে কিছু কিছু স্প্যানিশ লোকজন বাস করত। কাকেতিওরা পুরো দ্বীপজুড়েই বসবাস করত।

ডাচ ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্তৃত্ব গ্রহণসম্পাদনা

 
কুরাসাও দ্বীপের মানচিত্র

ওলন্দাজদের কর্তৃত্ব সংহতকরণসম্পাদনা

ক্রীতদাস বাণিজ্য এবং উন্মুক্ত বন্দরসম্পাদনা

ওলন্দাজ উপনিবেশসম্পাদনা

আধুনিক ইতিহাসসম্পাদনা

১৮৬৯ সালের শ্রমিক বিদ্রোহসম্পাদনা

স্বায়ত্তশাসন লাভসম্পাদনা

বিষয়শ্রেণী:কুরাসাও এর ইতিহাস