কর্মপরিবেশ বিদ্যা

কর্মীর শারীরিক ও মানসিক কর্মদক্ষতা ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী কর্মপরিবেশ নকশাকরণের

কর্মপরিবেশ বিদ্যা (ইংরেজি: ergonomics আর্গোনমিক্‌স) বলতে বৃহত্তর অর্থে কর্মপরিবেশ ও তার অভ্যন্তরে অবস্থিত মানুষের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্কের অধ্যয়নকে বোঝায়। আরও বিশেষ অর্থে একজন কর্মপরিবেশবিদ কাজের পরিবেশ এমনভাবে নকশা করেন বা এতে এমন পরিবর্তন সাধন করেন, যাতে তা কর্মীর সাথে খাপ খায়। কর্মপরিবেশ বিদ্যার লক্ষ্য কাজে অস্বস্তি দূর করা, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং কাজের কারণে আঘাতের ঝুঁকি দূর করা।

শারীরিক কর্মপরিবেশবিদ্যা: ব্যবহারকারীর সাথে মানানসই সরঞ্জাম ও কর্মক্ষেত্রের সাথে ব্যবহারকারীর ইন্টারঅ্যাকশন ডিজাইনের বিজ্ঞান।

আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশ বিদ্যা সংস্থার দেওয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী "কর্মপরিবেশ বিদ্যা বা মানব উপাদানসমূহ বলতে বিজ্ঞানের একটি শাখাকে বোঝায় যেখানে কোনও ব্যবস্থাতে অবস্থিত মানুষ ও অন্যান্য উপাদানের মধ্যকার আন্তঃক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করা হয়। একই সাথে এটি একটি পেশা যেখানে তত্ত্ব, মূলনীতি, উপাত্ত ও পদ্ধতিসমূহ ব্যবহার করে কর্মপরিবেশ বা ব্যবস্থাটিকে এমনভাবে নকশা করা হয় যাতে মানব কল্যাণ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থার কর্মসাধম সর্বোচ্চ সন্তোষজনক হয়।"[১]

কারও কর্মক্ষেত্র যেন তার দেহের ক্ষতির কারণ না হয়, তার জন্য কী করা দরকার এবং কীভাবে তা করা দরকার, সে সম্পর্কে এখানে বর্ণনা থাকে। যেমন যে কর্মী ঢালাইয়ের কাজ করেন তাঁর যেকোনও সময়ে আগুনের স্ফুলিংগ দ্বারা চোখ বা শরীরের ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু ক্ষতি যেন না হয় তার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেবেন, তার সবিশেষ বর্ণনা কর্মপরিবেশ বিদ্যা থেকে পাবেন। এরূপ প্রতিটি পেশার জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিবেশ নকশাকরণের নীতি আছে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. International Ergonomics Association. Human Factors/Ergonomics (HF/E) ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩ মে ২০২০ তারিখে. Website. Retrieved 7 June 2020.