প্রধান মেনু খুলুন

কথাকলি

ভারতীয় নৃত্যকলা বিশেষ
ভারতের কেরালার কথাকলি নৃত্যশিল্পী

কথাকলি হল ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের একটি অন্যতম প্রধান ধারা।[১] এতে এক প্রকার গল্প বলা হয়ে থাকে, যেখানে প্রথাগতভাবে অভিনেতা-নৃত্যশিল্পীরা বিভিন্ন রঙের রূপসজ্জা, পোশাক ও মুখোশ পড়েন।[২][৩][৪] এটি ভারতের মালয়ালম ভাষী দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের (কেরালা) হিন্দু প্রদর্শন কলা।[২][৩][৫]

কথাকলির প্রথাগত বিষয়বস্তু হল হিন্দু মহাকাব্য ও পুরাণে বর্ণিত লোক-পৌরাণিক গল্প, ধর্মীয় কিংবদন্তি, ও আধ্যাত্মিক ধারণা।[৬] নৃত্যের সাথে পরিবেশিত গান সংস্কৃত মালয়ালম ভাষায় গাওয়া হয়ে থাকে।[৭] আধুনিক রীতিতে ভারতীয় কথাকলি দলে নারী শিল্পীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে,[৪] এবং পশ্চিমা গল্প, যেমন উইলিয়াম শেকসপিয়রের নাটক, উপযোগ করা হয়ে থাকে।[৮]


ইতিহাসসম্পাদনা

‘কথা’ শব্দের অৰ্থ কাহিনী ও ‘কলি’ শব্দের অৰ্থ অভিনয়। সামগ্ৰিকভাৱে কথাকলি শব্দের অভিধানিক অৰ্থ অভিনয় বা নাটক। এই নৃত্যের উদ্ভব হয় সপ্তদশ শতকে। তৎকালীন কেরেলার কোট্টারাক্কারার রাজা কেরল বৰ্মা কাষরিয়া ছামুরি রাজ্যে প্ৰচলিত ‘কৃষ্ণনাট্যম’ নৃত্য প্ৰদৰ্শনের জন্য সেই নৃত্যের প্ৰতিষ্ঠাতা ছামুরিরাজ মানবেদ রাজকে নিমন্ত্ৰণ করেছিলেন। কিন্ত সমগ্ৰ দক্ষিণ ভারতে তার নৃত্য বোঝার লোক নেই বলে ছামুরিরাজ কেরল বৰ্মার নিমন্ত্ৰণ প্ৰত্যাখান করেন। এতে অপমানিত হয়ে কেরল বৰ্মা নিজে ‘রামঅট্যম’ নামে এক নৃত্যের প্ৰচলন করেন। এতে শ্ৰীরামচন্দ্ৰের চরিত্ৰকে নিয়ে রচিত রামঅট্যমের মূল বিষয়বস্তু রামায়ণ, শিব পুরাণ, ভাগবত প্রভৃতি থেকে নেয়া হয়েছিল। কোট্টারাক্কারার রাজা কেরল বৰ্মাকেই কথাকলি নৃত্যের প্ৰবৰ্তক বলা হয়। ১৫৭৫ - ১৬৫০ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করা এই রাজা কথাকলি নৃত্যের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার পরবৰ্তী রাজারা এই নৃত্যের অধিক উন্নতি ও সংস্কার সাধন করে। কালক্ৰমে পথে-ঘাটে ‘রামঅট্যম’ই কথাকলি রুপে প্ৰসিদ্ধি ও বিকাশ লাভ করে। কথাকলি নৃত্য এক ধরণের মূক অভিনয়। নৃত্যশিল্পী সকলে গান করে না ও কথাও বলে না। মঞ্চে গানের সাথে ঘণ্টা ও করতাল সংযোগে কাহিনী বিবৃত করা হয়। নৃত্যশিল্পীরা সংলাপের সাথে নানান অংগ-ভংগি ও মুখভঙ্গীর দ্বারা মনের ভাব প্ৰকাশ করে। চৌষষ্ঠি প্ৰকার হস্ত সঞ্চালন রীতি কথাকলি নৃত্যতে প্ৰচলিত। এই নৃত্যতে চোখের পাতা ও ভ্ৰূর দ্ৰুত সঞ্চালন অতি সূক্ষ্ম ও অৰ্থপূৰ্ণ। এই নৃত্যের সাজসজ্জাতে লাল, সবুজ, হলুদ, কমলা ও বেগুনি রঙের পোশাকের অধিক প্ৰচলন দেখা যায়। বিভিন্ন শ্ৰেণীর নৃত্যশিল্পীরা বিভিন্ন ধরণের রুপসজ্জা ব্যবহার করে। পুরুষ চরিত্ৰতের থেকে নারী চরিত্ৰের সাজসজ্জা আপেক্ষাকৃত ভাবে সরল।

ভারতের প্ৰসিদ্ধ কথাকলি নৃত্যশিল্পীসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. উইলিয়ামস ২০০৪, পৃ. ৮৩-৮৪, অন্য ধারাগুলো হচ্ছে কত্থক, ভরতনট্যম, কুচিপুড়ি, মণিপুরী, ওড়িশি, চাউ, সাত্রিয়া, যগসগ্ন, ও ভগবত মেলা।।
  2. লোচেফেল্ড, জেমস জি. (২০০২)। The Illustrated Encyclopedia of Hinduism: A-M। দ্য রোসেন পাবলিশিং গ্রুপ। পৃষ্ঠা ৩৫৯। আইএসবিএন 978-0-8239-3179-8 
  3. ক্লাউস, পিটার জে. Claus; ডায়মন্ড, সারা; মিলস, মার্গারেট অ্যান (২০০৩)। South Asian Folklore: An Encyclopedia। রোটলেজ। পৃষ্ঠা ৩৩২–৩৩৩। আইএসবিএন 978-0-415-93919-5 
  4. ক্রামারে, চেরিস; স্পেন্ডার, ডেল (২০০৪)। Routledge International Encyclopedia of Women: Global Women's Issues and Knowledge। রোটলেজ। পৃষ্ঠা ২৯৫–২৯৬। আইএসবিএন 978-1-135-96315-6 
  5. জারিলি ২০০০, পৃ. xi, ১৭–১৯।
  6. জারিলি ২০০০, পৃ. ৩।
  7. জারিলি ২০০০, পৃ. ১৯১।
  8. ডহার্টি, ডায়ান (২০০৫)। "The Pendulum of Intercultural Performance: Kathakali King Lear at Shakespeare's Globe"। Asian Theatre Journal। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস। ২২ (১): ৫২–৭২। doi:10.1353/atj.2005.0004 

গ্রন্থপঞ্জিসম্পাদনা