ওরিয়েন্ট হাউস

ওরিয়েন্ট হাউস (আরবি: بيت الشرق‎‎) হলো পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত একটি ভবন যা ১৯৮০ এবং ১৯৯০ এর দশকে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) এর সদর দপ্তর হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

ওরিয়েন্ট হাউস (জেরুজালেমে পিএলও-এর সাবেক সদর দপ্তর)

১৮৯৭ সালে ইসমাইল মুসা আল-হুসেইনি ভবনটি নির্মাণ করেন, তখন থেকে এটি আল-হুসেইনি পরিবারের মালিকানাধীন। মূলত একটি পারিবারিক বাসস্থান হিসাবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল। ১৮৯৮ সালে জার্মানির দ্বিতীয় কাইজার উইলহেম এবং ১৯৩৬ সালে ইথিওপিয়ার সম্রাট হাইল স্যালেসির মতো গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের আপ্যায়ন করার জন্য এটি মাঝে মাঝে খালি করা হয়েছিল।

বিবরণসম্পাদনা

১৯৪৮ সালের আরব-ইজরায়েল যুদ্ধের সময় ওরিয়েন্ট হাউস জর্ডান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যুদ্ধবিরতি লাইনের পূর্ব দিকে ছিল। ১৯৪৮-১৯৫০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইন রিফিউজিস ইন দ্য নিয়ার ইস্ট (ইউএনআরডাব্লিউএ) এর সদর দপ্তর সেখানে অবস্থিত ছিল এবং দুই বছর পর এর মালিক এটিকে "দ্য নিউ ওরিয়েন্ট হাউস" নামে একটি বিলাসবহুল হোটেলে পরিণত করেন।

১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধ এবং ইসরায়েল কর্তৃক পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর হোটেলটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ভবনটি বেশিরভাগই সময়ই অবহেলিত ছিল। কিরিয়াত ইত্রির উত্তর জেরুজালেম এলাকার প্রথম বাসিন্দাদের অনেকেই, যারা ১৯৬৮ সালে তাদের ফ্ল্যাট প্রস্তুত হওয়ার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছিলেন, তাদের সাময়িকভাবে ওরিয়েন্ট হাউসে রাখা হয়েছিল।[১]

১৯৮৩ সালে ফয়সাল হুসেইনির নেতৃত্বে পিএলও অনুমোদিত সংগঠন আরব সায়েন্টিফিক এসোসিয়েশন বাড়ির একটি অংশ ভাড়া নেয়। ১৯৮৮ সালে ইসরায়েল হাউসটি বন্ধ করে দেয় এবং এতে পিএলও-এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। চার বছর পরে ১৯৯২ সালে এটি পুনর্নবীকরণ করা হয়। এরপর হুসেইনি এটি ভাড়া নিয়ে সংস্কার করেন। ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির আগে চিঠি বিনিময়ের মাধ্যমে ইসরায়েল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা অবাধে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য হাউসের অধিকার লঙ্ঘন করবে না।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম মেয়াদে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সতর্কবাণীর মধ্যে ওরিয়েন্ট হাউস বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন এবং ব্যর্থ হয়েছিলেন। এই ধরনের পদক্ষেপকে খুব নেতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।"[২]

এহুদ ওলমার্ট যখন জেরুজালেমের মেয়র হিসেবে তার পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তিনি ওরিয়েন্ট হাউস যেভাবে কাজ করছিল তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেন, হুসেইনির সাথে দেখা করতে অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে ওরিয়েন্ট হাউসকে পৌর কর হিসেবে ৩০০,০০০ মার্কিন ডলার প্রদান করতে হবে। হুসেইনি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে ওরিয়েন্ট হাউস, একটি কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে কর প্রদান থেকে অব্যাহতি পেয়েছে।[৩] কয়েক বছর পর ২০০১ সালের মে মাসে হুসেইনি মারা যান।

২০১০ সালের জানুয়ারী মাসে মধ্যপ্রাচ্যের কোয়ার্টেটের এক বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রাশিয়ার প্রতিনিধিরা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার উপায় হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমের ওরিয়েন্ট হাউস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠান পুনরায় খোলার পরামর্শ দেন। জর্জ মিচেল বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের বলার পর এই পরামর্শ দেওয়া হয় যে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেছেন যে যতক্ষণ না ইসরায়েল শহরের পূর্ব অর্ধে সমস্ত বন্দোবস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে ততক্ষণ তারা আলোচনায় ফিরে আসবেন না।

সাংস্কৃতিক উল্লেখসম্পাদনা

জ্যাজ মিউজিশিয়ান গিলাড অ্যাটজমন তার ব্যান্ডের নাম দিয়েছেন দ্য ওরিয়েন্ট হাউস এনসেম্বল[৪]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Goldstein, Dov (৩০ আগস্ট ১৯৬৮)। "'הרב אלפנט ו'העולים שלו"Maariv (হিব্রু ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০১৫ 
  2. Eur, 2003, p. 48.
  3. Friendland and Hecht, 1996, pp. 450-451.
  4. Kristel, Todd। "[review of] Exile by Gilad Atzmon and The Orient House Ensemble"। সংগ্রহের তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 

গ্রন্থপঞ্জিসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা