এয়াজেন জ্যানসন

সুয়েডীয় চিত্রশিল্পী

এয়াজিন ফ্রেডরিক জ্যানসন (স্টকহোম, ১৮ মার্চ, ১৮৬২ - স্কারা, ১৫ জুন, ১৯১৫) ছিলেন একজন সুইডিশ চিত্রকর। তিনি তার নীল রং-প্রধান রাত্রিকালীন নিসর্গ ও নগরদৃশ্যাঙ্কনের জন্য বিখ্যাত। জীবনের শেষ পর্বে ১৯০৪ সাল থেকে তিনি প্রধানত নগ্ন পুরুষদের ছবি আঁকতেন। এর আগে তার চিত্রকলায় নীল রঙের প্রাধান্যের জন্য তাকে "নীল চিত্রকর" (blåmålaren) বলা হত।

এয়াজেন জ্যানসন
রিডারজারডেন ইন স্টকহোম, ১৮৯৮, ন্যাশানালমিউজিয়াম, স্টকহোম

জ্যানসনের পরিবার শ্রমজীবী নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণিভুক্ত হলেও, তারা শিল্প ও সংগীতে আগ্রহী ছিলেন এবং দুই পুত্র এয়াজেন ও তার ছোটোভাই অ্যাড্রিয়ানের ব্যাপারে উচ্চাশা পোষণ করতেন। এয়াজেন স্টকহোমের জার্মান স্কুলে পিয়ানো শিখেছিলেন। চোদ্দো বছর বয়সে স্কারলেট ফিভারে আক্রান্ত হয়ে এয়াজিনের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে। ভগ্নস্বাস্থ্য তার সারাজীবনের সঙ্গী হয়। তার দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি হ্রাস পায় এবং তিনি ধারাবাহিক কিডনির অসুখে ভুগতে থাকেন।

সানরাইজ ওভার দ্য রুফটপস, ১৯০৩, ন্যাশানালমিউজিয়াম, স্টকহোম
পুশিং ওয়েটস উইথ টু আর্মস, দ্বিতীয় চিত্র, ১৯১৩-১৪

জ্যানসন টেকনিস্কা স্কোলানে (অধুনা কোনসফাক) ভরতি হন এবং এডওয়ার্ড পেরসেউস নামে এক চিত্রকরের অধীনে আঁকা শিখতে থাকেন। স্টকহোমে এই চিত্রকরের একটি বেসরকারি স্কুল ছিল। ১৮৮১ সালে জ্যানসনকে অ্যানটিক স্কুল অফ দ্য রয়্যাল সুইডিশ আকাদেমি অফ আর্টস-এ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু প্যারিসে তার সমসাময়িকদের ব্যাপারে শিক্ষা করার উপযুক্ত অর্থবল তার ছিল না। তিনি স্টকহোমে থেকে যান। স্টকহোমই তাকে তার ছবির খোরাক জোগায়। ১৯০০ সালে প্রথম তিনি নর্ডিক দেশগুলির বাইরে ভ্রমণ করেন। ততদিনে তিনি চিত্রকর হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন এবং তার আর্থিক অবস্থাও ভাল হতে শুরু করেছিল।

যৌবনে পেরসেউসের কাছে শিক্ষাগ্রহণের সময় তিনি পোর্ট্রেট আঁকা ও স্টিল লাইফ আঁকা শেখেন। কিন্তু পরে দেখেন যে, তার শহরের ছবি আঁকতেই তার বেশি ভাল লাগছে।

তিনি সারাজীবন দক্ষিণ স্টকহোমের একটি বাড়িতে তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গে বাস করেন। তার বাড়ি থেকে রিডারজারডেন, গামলা স্টান ও মধ্য স্টকহোমের পুরোটাই দেখা যেত। এখানেই তিনি ১৮৯০-এর দশক থেকে ১৯০৪ সালের আগে আঁকা তার স্টকহোমের নৈশ দৃশ্যগুলি আঁকেন। এই ছবিতে নীল রঙের ব্যবহার চোখে পড়ার মতো। শেষের দিকে তার ছবিগুলি সরল ও বিমূর্ত হয়ে উঠেছিল।

১৯০৪ সালের পর, যখন তিনি স্টকহোমের ছবি এঁকে যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছেন, তখন এক বন্ধুর কাছে স্বীকারোক্তি বলেন যে, তিনি যেন ফুরিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আর আগের ধারায় ছবি আঁকতে চাইছিলেন না। তিনি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া বন্ধ করে দিয়ে ফিগার ড্রয়িং-এ মনোনিবেশ করলেন। ছেলেবেলা থেকে ভোগা অসুখের মোকাবিলা করার জন্য তিনি সাঁতার ও শীতস্নানে পারঙ্গম করে তুলেছিলেন নিজেকে। মাঝে মাঝেই চলে যেতেন নৌবাহিনীর স্নানাগারে। সেখানেই তিনি চিত্রাঙ্কনের এক নতুন বিষয়ের সন্ধান পান। তিনি সূর্যস্নানরত একদল নাবিকের ছবি আঁকেন। আর আঁকেন নগ্ন যুবকদের ভারোত্তোলন ও অন্যান্য ব্যায়ামের ছবি। শিল্প ঐতিহাসিক ও সমালোচকেরা তার ছবির হোমোইরোটিক মনোভাবের দিকটি দীর্ঘদিন এড়িয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালের গবেষণা থেকে জানা যায় যে, জ্যানসন সম্ভবত সমকামী ছিলেন এবং তার ছবির কোনো এক মডেলের সঙ্গে তার প্রণয় সম্পর্ক বর্তমান ছিল। তার ভাই অ্যাড্রিয়ান জ্যানসন নিজেও একজন সমকামী ছিলেন। তিনি এয়াজেনের মৃত্যুর পরও অনেক বছর বেঁচেছিলেন। অ্যাড্রিয়ান তার দাদাকে কেচ্ছার হাত থেকে রক্ষা করতে এয়াজেনের যাবতীয় চিঠিপত্র ও অন্যান্য অনেক কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলেন। উল্লেখ্য, ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত সুইডেনে সমকামিতা নিষিদ্ধ ছিল।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  • Brummer, Hans Henrik: "Blå skymning och atleter. Kring Eugène Janssons måleri", Konsthistorisk tidskrift, 68 (1999), pp. 65–79.
  • Zachau, Inga, Eugène Jansson: den blå stadens målare, Lund: Signum, 1997.