প্রধান মেনু খুলুন

উলাই চণ্ডী হলেন নদিয়া জেলার উলা-বীরনগর গ্রামের একজন লৌকিক হিন্দু দেবী। তার উৎসব ও জনপ্রিয়তা একসময় এই অঞ্চলের অন্যান্য সমস্ত দেবদেবীর থেকে বেশি ছিল। প্রাক-বৌদ্ধযুগের বাংলার লোকায়ত ধর্মাচরণের সঙ্গে এই দেবীর গভীর সম্পর্ক আছে। প্রতি বছর বৈশাখী পূর্ণিমায় দেবীর বারোয়ারি বা সার্বজনীন বার্ষিক পূজা হয়ে থাকে।[১]

দেবীর ঐতিহাসিকত্বসম্পাদনা

বাংলায় বৌদ্ধযুগ তথা প্রাক-বৌদ্ধ আমলে বৈশাখী পূর্ণিমার রাতে হাড়ি জাতির অধিবাসীরা প্রথমে শুয়োর বলি দিয়ে বটবৃক্ষমূলে শিলাখণ্ডে চণ্ডীদেবীর পূজা দিত। পরবর্তীকালে ব্রাহ্মণরা ও জমিদাররা বহু মন্দির ও দেবদেবী প্রতিষ্ঠা করলেও লোকায়ত এই দেবীর পূজাকে নির্মূল করতে পারেননি।[১]

বারোয়ারি যুগের পূজাসম্পাদনা

১২২৬ বঙ্গাব্দের (১৮১৯ খ্রিষ্টাব্দ) ২৭শে বৈশাখ 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকায় প্রকাশিত উলাই চণ্ডীর বিবরণী:

২৮ বৈশাখ ৯ মে রবিবারে বৈশাখী পূর্ণিমাতে মোং উলাগ্রামে উলাই চ্ণডীতলানামে একস্থানে বার্ষিক চণ্ডীপূজা হইবেক।.....অনেক২ স্থানে বারঞয়ারি পূজা হইয়া থাকে কিন্তু এইক্ষণে উলার তুল্য কোথাও হয় না।

এইসময় উলা-বীরনগরে একাধিক বারোয়ারি বা সার্বজনীন পূজা প্রচলিত হয়। যেমনঃ বিন্ধ্যবাসিনী পূজা, মহিষমর্দিনী পূজা, গণেশজননী পূজা ইত্যাদি। বৈশাখী পূর্ণিমা থেকে যাত্রা, তরজা, ঝুমুর গান প্রভৃতি বিনোদনের ব্যবস্থা থাকত। স্থানীয় ধনীদের পোষকতায় ময়ূরপঙ্খী সঙ্ বার করে ব্যাঙ্গাত্মক গান গেয়ে গ্রাম পরিক্রমা চলত একদল অন্যদলকে হেয় প্রতিপন্ন করতে। তবে উলাই চণ্ডীর সংস্কৃতি লোপ পায় নি। ১৮২৪-২৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত উলার দুর্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের 'গঙ্গাভক্তিতরঙ্গিনী' কাব্যে আছে:

অম্বিকা পশ্চিম পারে, শান্তিপুর পূর্বাধারে,
                   রাখিল দক্ষিণে গুপ্তিপাড়া,
উল্লাসে উলায় গতি, বটমূলে ভগবতী,
                   চণ্ডিকা নহেন যথা ছাড়া।
বৈশাখেতে যাত্রা হয়, লক্ষ লোক কম নয়,
                   পূর্ণিমা তিথিতে পুণ্যচয়,
নৃত্য গীত নানা নাট, দ্বিজ করে চণ্ডিপাঠ,
                   মানে যে, মানস সিদ্ধ হয়।[১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. ঘোষ, বিনয়, "পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি", তৃতীয় খন্ড, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশ ভবন, পৃষ্ঠা: ১১৫-১১৭