ইসরাইল সরকারে নারী

ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই তুলনামূলক ভাবে কমসংখ্যক নারী সরকারে অংশগ্রহণ করেছেন, নেতৃস্থানীয় মন্ত্রণালয় গুলোতে কাজ করেছেন আরো কম সংখ্যক নারী। যদিও ইসরায়েল সেই অল্প সংখ্যক রাস্ট্রগুলির একটি, যেখানে একজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- গোল্ডা মায়ার। আইনসভা কিংবা সরকার, নারীর অংশগ্রহণের বিষয়ে, উভয় ক্ষেত্রেই পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলির চেয়ে ইসরায়েল অনেক পেছনে পড়ে আছে।

২০১৯ সালে ১২০ সদস্যের ইসরায়েলের আইনসভা নেসেট এ নারী সদস্য ছিল ২৫ শতাংশ। তুলনায় আরব দেশ গুলোতে এই পরিমাণ ১৮.৭ শতাংশ, ইউরোপে তা ২৬.৫, স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় এই হার ৪২.৩শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি পরিষদে নারী সদস্যের পরিমাণ ১৯.৩ শতাংশ। নারীদের উপস্থিতির হার লক্ষ্যনীয় পরিমানে নির্ভর করে জনমিতির উপর, বেশিরভাগ নারী রাজনীতিবিদ এসেছেন সেক্যুলার দল গুলো থেকে, আরব অথবা ইহুদী ধর্মীয় রাজনৈতিক দল থেকে খুব কম সংখ্যক নারীদের রাজনীতিতে দেখা যায়। যদিও লেবার দলের নারী প্রতিনিধি কোটা তালিকা বলতে ঐতিহ্যগত ভাবেই সে দল থেকেই আসা নারী প্রতিনিধিদের বোঝায়, তবে ২০০০ সাল থেকে অন্য দলগুলিতেও নারী প্রতিনিধিদের সংখ্যা বেড়েছে।

লিঙ্গীয় পরিচয় সরকারে থাকা নারীদের অবস্থান এবং নারী প্রতিনিধিদের আনা প্রস্তাব, উভয়কেই প্রভাবিত করে। রাষ্ট্রের ধর্মভিত্তিক প্রকৃতির কারণে নারী প্রতিনিধিরা তাদের বিপরীত লিঙ্গের তুলনায় ঐতিহ্যগত লিঙ্গিয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক বাছাই প্রক্রিয়ায় অপেক্ষাকৃত বেশি বাধার সম্মুখীন হয়ে থাকেন।

ইসরায়েল এর নারী মন্ত্রীগণের তালিকাসম্পাদনা

মন্ত্রণালয় নাম সময়কাল
প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ার ১৯৬৯-১৯৭৪
উপ প্রধানমন্ত্রী জিপি লিভনি ২০০৬-২০০৯
পররাষ্ট্র মন্ত্রী গোল্ডা মায়ার ১৯৫৬-১৯৬৬
তিজপি লিভনি ২০০৬-২০০৯
স্বরাস্ট্র মন্ত্রী গোল্ডা মায়ার ১৯৭০
ন্যায় বিষয়ক মন্ত্রী জিপি লিভনি ২০০৪-২০০৬

২০১৩-২০১৪

আয়িলেট শাকেড ২০১৫-২০১৯
শিক্ষা মন্ত্রী শুলামিত আলোনী ১৯৯২-১৯৯৩
ইউলী তামির ২০০৬-২০০৯
শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী দালিয়া ইজিক ২০০১-২০০২
শ্রম মন্ত্রী গোল্ডা মায়ার ১৯৪৯-১৯৫৬
ওরা নামির ১৯৯২-১৯৯৬
স্বাস্থ্য মন্ত্রী শোসানা আলবেরি -আলমজলিনো ১৯৮৬-১৯৮৮
ইয়াএল গারমেন ২০১৩-২০১৪
পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা মন্ত্রী মিরি রেগেভ ২০২০-২০২১
বাসস্থান ও নির্মাণ মন্ত্রী জিপি লিভনি ২০০৪-২০০৫
ওয়াইফাত শাসা বাইটন ২০১৯-২০২০
পর্যটন মন্ত্রী রুহামা আভ্রাহাম ২০০৮-২০০৯
অরিত ফারকাশ - হাকোহেন ২০২০ হতে
যোগাযোগ মন্ত্রী শুলামিত আলোনী ১৯৯৩-১৯৯৬
লিমোর লিভনাত ১৯৯৬-১৯৯৯
দালিয়া ইজিক ২০০৫
কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী জিপি লিভনি ২০০২-২০০৩
অরিত নোকেড ২০১১-২০১৩
পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক মন্ত্রী ওরা নামির ১৯৯২
ইহুদিত নাওট ২০০৩-২০০৪
দালিয়া ইজিক ১৯৯৯-২০০১
গিলা গামলিয়েল ২০২০-২০২১
স্ট্রাটেজি বিশয়ক মন্ত্রী অরিত ফারকাশ - হাকোহেন ২০২০ হতে
আলিয়াহ ও ইন্ট্রিগেশন মন্ত্রী ইউলী তামির ১৯৯১-২০০১
জিপি লিভনি ২০০৩-২০০৬
সোফা ল্যান্ডভের ২০০৯-২০১৫

২০১৬-২০১৮

প্নিনা তামানো শাতা ২০২০ হতে
সংস্কৃতি মন্ত্রী লিমোর লিভনাত ২০০৯-২০১৫
মিরি রেগেভ ২০১৫-২০২০
সামাজিক সমতা বিষয়ক মন্ত্রী গিলা গামলিয়েল ২০১৫-২০২০
মেইরাভ কোহেন ২০২০ হতে
ডায়াস্পোরা অ্যাফেয়ার্স তিজিপি হোটোভেলি ২০২০
ওমের ইয়ানকেলেভিচ ২০২০-২০২১
সামাজিক ক্ষমতায়ন ও অগ্রায়ন অরলি লেভি আবেকাসিস ২০২০ হতে
বসতি স্থাপন মন্ত্রী তিজিপি হোটোভেলি ২০২০

ইসরায়েল সরকারের শীর্ষ পদে নারীসম্পাদনা

গোল্ডা মেয়ার হলেন একমাত্র নারী যিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কাজ করেছেন। লেভি এশকোলের মৃত্যুর পর ১৯৬৯ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে তাকে এই পদের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল এবং ১৯৭৪ সালে তার প্রধানমন্ত্রীত্ব শেষ হয়। ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন ইজরায়েলের কোন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী একমাত্র নারী।[১] কেবল তিনি এবং জিপি লিভনিই ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নারী। মায়ার ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১০ বছর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইজরায়েলি সরকারের দ্বিতীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করা একমাত্র নারী ছিলেন লিভনি।

নারী প্রতিনিধিদের উপর লিংগীয় পরিচয়ের প্রভাবসম্পাদনা

আইনসভা ও সরকারে নারীরা যে সকল আইন প্রস্তাব বা কাজের ক্ষেত্র নিয়ে কথা বলেন, তা তাদের পুরুষ সহকর্মীদের থেকে ভিন্ন। রিউত ইজকোভিচ এবং চেন ফ্রেডবার্গ এক সমীক্ষায় দেখেন যে, উত্থাপিত আইন প্রস্তাবগুলির মধ্যে লিঙ্গিয় বিভাজন বিদ্যমান। নারীদের প্রস্তাবিত আইন গুলি মুলত নারী অধিকার কিংবা পারিবারিক বিষয়গুলি কেন্দ্রিক, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার বিপরীতে, যে সকল ক্ষেত্র গুলিতে পুরুষদের তুলনায় নারীরা কম যুক্ত হন। ইজকোভিচ-মালকা এবং ফ্রেন্ডবার্গ দেখান যে,এই লিঙ্গিয় বিভাজন হয়তো বিদ্যমান, যেখানে নারীদের এই ধরণের (জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা) ইস্যুগুলি থেকে বাইরে রাখা হয় এবং আবহমান কাল ধরে চলে আসা লিঙ্গিয় ভুমিকা সম্পর্কিত ইস্যু গুলির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, অথবা সকার ও নেসেটের নারী প্রতিনিধিরা নিজেরাই চেস্টা করেন এই আগ্রহের ইস্যু গুলোতে যুক্ত হতে যা তাদের নির্বাচনি এলাকায় গুরুত্ব পেতে সাহায্য করে। তার উপর সরকার সেই ধরণের মন্ত্রণালয় নারী মন্ত্রীদের দিয়ে থাকে যেগুলো যুগ যুগ ধরে চলে আসা নারী বিষয়ক মতাদর্শকেই প্রতিফলিত করে।

রাজনৈতিক বাছাই প্রক্রিয়া এবং কোটাসম্পাদনা

লেবার দলের প্রার্থী তালিকায় নারীদের জন্য ২০% কোটা আছে, তবে অন্য দলগুলোতে যেমন লিকুদ, নারীদের জন্য এমন আনুষ্ঠানিক ভাবে কোন কোটা নেই এবং নির্বাচনী প্রার্থী তালিকায় কোন নিশ্চিত পদ নেই। ১৯৮৯ সালের আগে লেবার দলের প্রচলিত রীতি ছিল, তালিকার প্রথম ৫ জনে অবশ্যই একজন নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং আরেকজন নারীকে প্রথম ১০ জনের মধ্যে রাখা। এই কোটা পদ্ধতি ও কোটা নীতির ফল নিয়ে বিতর্ক আছে। প্রথমত, এই কোটার কারণে ২০০০ সালের আগে আইনসভার বেশিরভাগ নারী প্রতিনিধি ছিলেন লেবার দলের। সময়ের সাথে সাথে নেসেটে লেবার দলের নারী প্রতিনিধিদের সংখ্যা কমতে থাকে আর অন্য দলগুলিতে বাড়তে থাকে। হারজগ যুক্তি দেখান যে, নারীদের এই ন্যুনতম কোটা জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল আর একবার কোটা পুরণ হলে প্রার্থী তালিকায় নারীদের যুক্ত করার আগ্রহ খুব কম থাকে। হারজগ আরো বলেন যে, এরফলে তালিকায় যুক্ত হওয়ার পরিবর্তে কোটার সীমিত সংখ্যক পদে জায়গা পেতে নারীরা একে অন্যের প্রতিযোগি হয়ে ওঠেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Shapira, Assaf; Kenig, Ofer; Friedberg, Chen; Itzkovitch-Malka, Reut (২০১৬)। The Representation of Women in Israeli Politics: A Comparative Perspective। The Israeli Democracy Institute। পৃষ্ঠা 26–43। আইএসবিএন 978-965-519-190-5