বাসস্থান

(আবাসন থেকে পুনর্নির্দেশিত)

বাসস্থান, আবাসন, গৃহায়ন, গৃহসংস্থান বা গৃহনির্মাণ বলতে মানুষের বসবাসের জন্য স্থায়ী আশ্রয়ের বন্দোবস্তকে বোঝায়। বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটি মানুষের আশ্রয়ের প্রয়োজন। সার্বজনীন মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘোষণা ও দলিল অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের পর্যাপ্ত গৃহসংস্থানের অধিকার আছে। পর্যাপ্ত গৃহায়ন নিশ্চিত করা শুধু কোনও একক ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের সমস্যা নয়, বরং দেশ পরিচালনাকারী সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একারণে বেশিরভাগ সরকারের গৃহায়ন-সংক্রান্ত এক বা একাধিক কর্তৃপক্ষ, অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয় থাকে।

পৌর গৃহায়ন সমস্যাসম্পাদনা

 
দক্ষিণ আফ্রিকার সোয়েতো শহরের একটি অবৈধ বসতি বা বস্তি

বর্তমানে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি লোক পৌর এলাকায় অর্থাৎ শহর বা নগরীতে বাস করে। অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ লোক গ্রাম থেকে শহরে আসে, কিন্তু তাদের সিংহভাগই বাসযোগ্য গৃহে বসবাস করার সুযোগ পায় না। ফলে তারা নিম্ন মানের সেবাবিশিষ্ট আইন-বহির্ভূত আবাসন তথা বস্তিতে থাকতে বাধ্য হয়, যেখানে স্থায়ী বাসস্থানের কোনও নিশ্চয়তা নেই। এর কারণ সরকার পর্যাপ্ত গৃহের সংস্থান করতে পারছে না এবং বাজারে বাড়ি ক্রয় বা ভাড়ার মূল্য নিম্নবিত্তের লোকদের জন্য অত্যন্ত উচ্চ।

২০১৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি প্রকাশিত একটি নিবন্ধ অনুযায়ী বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লক্ষ লোকের বাস, কিন্তু এদের মধ্যে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অবৈধ বাসস্থানে বাস করেন।[১] ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতা নগরীতেও ২০০১ সালের হিসাব অনুযায়ী ৪৫ লক্ষ অধিবাসীর মধ্যে প্রায় ১৫ লক্ষ অধিবাসী (অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ) বস্তিতে বা অবৈধ বাসস্থানে বাস করতেন।[২]

অনুমান করা হয় যে সব মিলিয়ে সারা বিশ্বে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ জীবিকার তাগিদে উচ্ছেদের হুমকি মাথায় নিয়ে পৌর এলাকায় অপর্যাপ্ত সেবাবিশিষ্ট, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা অবৈধ বাসস্থান তথা বস্তিতে বসবাস করে। তারা বিশ্বের পৌর জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ গঠন করেছে। এ ধরনের লোকের সংখ্যা আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ ৩০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।[৩]

২০১৬ সালের আবাসন ও টেকসই পৌর উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন হ্যাবিট্যাট ৩-এ গৃহীত নতুন পৌর কার্যক্রমে পৌর এলাকায় সকল অধিবাসীর পর্যাপ্ত সেবাবিশিষ্ট বাসস্থানে আশ্রয় পাওয়াকে একটি মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়।[৪]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা