অলক্ষ্মী বিদায়

অলক্ষ্মী বিদায় হল দীপাবলির সন্ধ্যায় বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দু রমণীদের দ্বারা কৃত অনুষ্ঠান বিশেষ।[১] পূর্ববঙ্গে কিছু কিছু অঞ্চলে আশ্বিন সংক্রান্তিতে গাড়শি ব্রত পালন করে অলক্ষ্মী বিদায় ও লক্ষ্মী বরণ করা হয়।[২] অলক্ষ্মীকে অমঙ্গল ও অশুভের প্রতীক বলে মনে করা হলেও এই অলক্ষ্মীই হলেন অন্যব্রতদের লক্ষ্মী বা শস্যদেবতা। মাতৃশক্তির জ্যেষ্ঠা রুপকে বিদায় দিয়ে লক্ষ্মীরূপকে বরণ করা হয়। বাম হাতে গোবর নিয়ে দেবীর চোখের জায়গায় দু’টি কড়ি, সর্বাঙ্গে ছেঁড়া চুল দিয়ে অলক্ষ্মীর মূর্তি নির্মাণ করা হয় । মূর্তিকে ঘরের ভিতর আনা হয় না। উঠানের এক কোণে অলক্ষ্মীর মূর্তি রেখে বাম হাতে ফুল নিয়ে পূজা করা হয়। আচমন ও আসন শুদ্ধি করে অলক্ষ্মীর ধ্যান করা হয় এই মন্ত্রে-

মন্থন (পুত্র) এবং মন্থি (কন্যা) সহ দেবী অলক্ষ্মী
ওঁ অলক্ষ্মীং কৃষ্ণবৰ্ণাং কৃষ্ণবস্ত্রপরিধানাং কৃষ্ণুগন্ধানুলেপনাং 
তৈল্যাভ্যািক্তশরীরাং মুক্তকেশীং দ্বিভুজাং বামহস্তে গৃহীত 
ভস্মনীং দক্ষিণহস্তে সন্মার্জনীং গর্দভারূঢ়াং লৌহাভরণভূষিতাং বিকৃতদ্ৰংষ্ট্ৰাং কলহপ্ৰিয়াম ।[৩]

ধ্যান করে আবাহন করে অলক্ষ্মীর পূজা করা হয়। পূজার পরে আরেকটি মন্ত্র বলা হয় -

ওঁ অলক্ষ্মী ত্বং কুরূপাসি কুৎসিতস্থানবাসিনী 
সুখরাত্ৰৌ ময় দত্তাং গৃহ পূজ্যঞ্চ শাশ্বতীম্।[৪]

পূজা শেষে মেয়েরা কুলো পিটাতে পিটাতে মূর্তিটি তেমাথায় নিয়ে যায়। সেখানে পাটকাঠি জ্বালিয়ে সমবেত কন্ঠে অলক্ষী বাইরে যা, লক্ষী ঘরে আয় বা লক্ষ্মী আয়, অলক্ষ্মী যা ধ্বনি সহকারে মূর্তিটি ফেলে দেওয়া হয়। এরপর গৃহিণীরা গৃহে ফিরে লক্ষ্মীর পূজা করে।[৫]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "ভূত চতুর্দশীতে কেন ১৪ শাক-১৪ প্রদীপ, জানেন?"EI Samay। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-০১ 
  2. "পাহিমাংদেহিমহালক্ষ্মী – চতুর্থ পর্ব"BAARTA TODAY (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-১১-০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-০৮ 
  3. "পাতা:বাংলার ব্রত - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৯ - উইকিসংকলন একটি মুক্ত পাঠাগার"bn.wikisource.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-০১ 
  4. "পাতা:বাংলার ব্রত - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৯ - উইকিসংকলন একটি মুক্ত পাঠাগার"bn.wikisource.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-০১ 
  5. "Diwali Special: The mythological story of Alakshmi– News18 Bangla"News18 Bengali। ২০১৮-১১-০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-০১