প্রধান মেনু খুলুন

হ্যারল্ড বাটলার

ইংরেজ ক্রিকেটার
(Harold Butler (cricketer) থেকে পুনর্নির্দেশিত)

হ্যারল্ড জেমস বাটলার (ইংরেজি: Harold Butler; জন্ম: ১২ মার্চ, ১৯১৩ - মৃত্যু: ১৭ জুলাই, ১৯৯১) নটিংহ্যামশায়ারের ক্লিফটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন হ্যারল্ড বাটলার

হ্যারল্ড বাটলার
হ্যারল্ড বাটলার.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামহ্যারল্ড জেমস বাটলার
জন্ম(১৯১৩-০৩-১২)১২ মার্চ ১৯১৩
ক্লিফটন, নটিংহ্যামশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু১৭ জুলাই ১৯৯১(1991-07-17) (বয়স ৭৮)
লেন্টন, নটিংহ্যামশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩১৯
রানের সংখ্যা ১৫ ২৯৬২
ব্যাটিং গড় ১৫.০০ ১০.৫৪
১০০/৫০ -/- -/৪
সর্বোচ্চ রান ১৫* ৬২
বল করেছে ৫৫২ ৫৬৯৩৫
উইকেট ১২ ৯৫২
বোলিং গড় ১৭.৯১ ২৪.৪৪
ইনিংসে ৫ উইকেট - ৪৬
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ৪/৩৪ ৮-১৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ১১২/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৬ মে ২০১৯

কাউন্টি ক্রিকেটসম্পাদনা

মার্চ, ১৯১৩ সালে নটিংহ্যামশায়ারের ক্লিফটন এলাকায় হ্যারল্ড বাটলারের জন্ম।[১] ১৯৩৩ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন চলমান ছিল তার। ক্রমাগত আঘাতের কবলে পড়ে হ্যারল্ড লারউডের অবসর গ্রহণ ও বিল ভোসের দূর্বলমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের প্রেক্ষিতে হ্যারল্ড বাটলারকে শূন্যস্থান পূরণে সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবে ভাবা হচ্ছিল। তবে, সুন্দর বোলিংশৈলী প্রদর্শনে করা সত্ত্বেও লারউডের ন্যায় দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলিং করতে পারছিলেন না তিনি। তবে, ভোসের ন্যায় বলে একই ধরনের পেস বোলিং করে যাচ্ছিলেন। বাটলারের প্রধান গুণ হচ্ছে বলের উপর নিখুঁত ভাব বজায় রাখা ও বলে সীম আনয়ণ করা। পরিবেশের উপর নির্ভর করে বলের নিশানামাফিক বোলিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজে একবার গমনেই তা পরিলক্ষিত হয়েছিল। তবে, তার শারীরিক শক্তিমত্তা সর্বদাই সন্দেহজনক ছিল ও প্রায়শই আঘাতের কবলে নিমজ্জিত হয়ে পড়তেন।

১৯৩৩ সাল থেকে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে খেলতে শুরু করেন। ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ৫/৩৬ পান। এরপর থেকে ১৯৩৭ সালের পূর্ব-পর্যন্ত দলে আসা-যাওয়ার পালায় ব্যস্ত থাকতেন। লারউড ও ভোসের কারণে দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। ঐ বছরে সারের বিপক্ষে ৮/১৫ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে দলে নিজ স্থান পাকাপোক্ত করেন। ঐ মৌসুমে অসুস্থ হবার পূর্ব-পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে জাতীয় পর্যায়ে বোলিং গড়ে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছিলেন। পরের বছরে ১০৫ উইকেট পান। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে অনেকের ন্যায় তারও খেলোয়াড়ী জীবনে ছেদ ঘটে ও যুদ্ধের কারণে ছয় বছর নষ্ট হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ভারতে মোতায়েন করা হয় তাকে। এ পর্যায়ে সেখানে তিনি দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

১৯৪৬ সালে যুদ্ধ পূর্ববর্তীকালের অবিস্মরণীয় পেস বোলিং আক্রমণ তিরোহিত হলে হ্যারল্ড বাটলার নিজেকে গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালান। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার পাথরসম শক্ত পিচে তার বোলিং কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। ফলশ্রুতিতে তাকে দেশে ফেরৎ পাঠানো হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

১৯৪৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ইংল্যান্ড গমন করে। লিডসের ওল্ড ট্রাফোর্ডে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলার জন্যে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি বেশ ভালো বোলিং করেন। অভিষেক টেস্টে বেশ সুন্দর খেলেন। প্রথম ইনিংসে ২৮ ওভারে ৪/৩৪ পান। দ্বিতীয় ইনিংসেও মিতব্যয়ীতার স্বাক্ষর রেখে ৩/৩২ পান। ৬৬ রান খরচায় সাত উইকেট পান হ্যারল্ড বাটলার। খেলায় তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৫২-২৪-৬৬-৭। চূড়ান্ত টেস্টে তিনি খেলেননি।[১] কিন্তু আঘাতের কবলে পড়ে আবারও ওভালের পঞ্চম টেস্টে অংশগ্রহণ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হয়। ঐ মৌসুমে তিনি ১০৬ উইকেট পেয়েছিলেন।

ঐ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনের লক্ষ্যে দলে নেয়া হয়। সেখানে তিনি মাত্র একটি টেস্টে অংশ নিতে পেরেছিলেন। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দেড় স্টোন ওজন হারান। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩/১২২ পান। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও দুটি উইকেট পান। এরপর আর কোন টেস্টে তাকে খেলতে দেখা যায়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্যে তাকে মনোনীত করা হয়। এক টেস্টে বেশ ভালো ফলাফল করেন তিনি। খুব কম বোলারই ২০-এর গড়ে রান দিয়েছেন।

অবসরসম্পাদনা

সন্দেহাতীতভাবেই অ্যালেক বেডসারের যোগ্য সঙ্গীর প্রয়োজনীয়তা ইংল্যান্ড দল অনুধাবন করতে থাকে। তার বয়সও তখন কথা বলতে শুরু করেছে। এরপর তিনি আরও ছয় বছর নটসদের সাথে খেলে ১৯৫৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এছাড়াও, পায়ের আঘাত প্রাপ্তি তাকে খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।[১] ১৯৫০ সালের পর তিনি ৯৫ উইকেট পেয়েছিলেন। এরপর বাটলারের খেলোয়াড়ী জীবন উপর্যুপরি আঘাতে জর্জরিত ছিল। ১৯৫৪ সালের শুরুতে চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে অবসর নিতে বাধ্য হন তিনি। ২৪.৪৪ গড়ে উইকেট পান। কিন্তু অন্যান্য কাউন্টির মাঠ বিবেচনায় নটিংহ্যামশায়ারের পিচে তা বিশাল সাফল্যরূপে বিবেচিত ছিল।

১৭ জুলাই, ১৯৯১ তারিখে ৭৮ বছর বয়সে নটিংহ্যামশায়ারের লেন্টনে হ্যারল্ড বাটলারের দেহাবসান ঘটে।[১]

খেলার ধরনসম্পাদনা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগেপাছে নটিংহ্যামশায়ারের সেরা বোলারের মর্যাদা পেয়েছিলেন হ্যারল্ড বাটলার। তবে, এ সময়েই দলটি প্রায় পঞ্চাশ বছর পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে অবস্থানের পর অন্যতম নিচেরসারির দলে রূপান্তরিত হয়েছিল। ক্রিকেট সংবাদদাতা কলিন বেটম্যানের অভিমত, মোটাসোটা সুইং বোলার হিসেবে খেললেও ইংল্যান্ড দল থেকে ক্রমাগত উপেক্ষার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। তার দৌঁড়ানোর ভঙ্গীমা তেমন দর্শনীয় ছিল না। তবে, সঠিকভাবে দ্রুতলয়ে বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 36। আইএসবিএন 1-869833-21-X 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা