৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট

বাঙালি পল্টন বা ৪৯তম বেঙ্গলী রেজিমেন্ট প্রথম মহাযুদ্ধকালে (১৯১৪-১৯১৮) বাঙালিদের নিয়ে গঠিত হয় । সে সময়ে এটিই বাঙালিদের প্রথম সামরিক সংগঠন। বাঙালি পল্টনের সৈনিক ছিল প্রায় ছয় হাজার সদস্যের বেশি। এই পল্টনের সৈন্যদের ইরাক অঞ্চল বা মেসোপটেমিয়াতে যুদ্ধের জন্য করাচি সেনানিবাস থেকে প্রেরণ করা হত।[১] এই রেজিমেন্টের ৪৯ জন সদস্য যুদ্ধে প্রাণ হারান। তাদের সম্মানে কলকাতায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে।

ইতিহাসসম্পাদনা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রচুর পরিমাণে লোকবলের দরকার পড়ে। তারা বাঙালি জাতিসহ আরও কয়েকটি জাতিকে 'অসামরিক জাতি' মনে করত। কিন্তু যুদ্ধের কারণে তারা বাঙালিদের সৈনিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা শুরু করে। ১৯১৬ সালের ৭ আগস্ট ঢাকায় লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সভায় গভর্নর লর্ড কারমাইকেল বাঙালি পল্টন গঠনের সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।[১] পল্টনে প্রায় ৪০ জন ভারতীয় কমিশন্ড অফিসার ছিলেন। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালি পল্টনের সৈনিক হিসেবে করাচিতে প্রায় তিন বছর অবস্থান করেছিলেন। নাম জানা যায় সৈনিকদের মধ্যে আছেন সুবেদার মন বাহাদুর সিংহ, সুবেদার মেজর অধিক্রম মজুমদার, হাবিলদার মোহিতকুমার মুন্সী প্রমুখ।[২]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষেসম্পাদনা

১৯১৯ সালের জুন মাসের শেষের দিকে লন্ডনে পিস সেলিব্রেশনে ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট হতে তিনজন প্রতিনিধিকে যেতে হয়। জমাদার রনদাপ্রসাদ সাহা, সেপাই নিত্যগোপাল ভট্টাচার্য এবং সুবেদার মন বাহাদুর সিংহ প্রতিনিধি হয়ে লন্ডনে পিস সেলিব্রেশনে যোগদানের জন্য নির্বাচিত হন।[২]

সর্বশেষ সৈনিক সদস্যসম্পাদনা

আকাদামি পুরস্কারপ্রাপ্ত যাত্রাভিনেতা সুরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্ভবত বেঙ্গল রেজিমেন্টে অংশগ্রহণকারী শেষ জীবিত সদস্য। বেনারস থেকে ১৯১৮ সালে ইনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন।[২]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. মুহাম্মদ লুৎফুল হক, বাঙালি পল্টন ও ঢাকা শহর, ৩০-০১-২০১১, দৈনিক প্রথম আলো।
  2. মুহাম্মদ লুৎফুল হক, সহযোদ্ধাদের চোখে সৈনিক নজরুল, ২৪-০৮-২০১২, দৈনিক প্রথম আলো।

বহিঃসংযোগসম্পাদনা