২০০৭ কলকাতা দাঙ্গা

২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর কলকাতা শহরে ২০০৭ কলকাতা দাঙ্গা ঘটেছিল। এই দিন অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি ফোরামের ছত্রছায়ায় কয়েকজন প্রতিবাদকারী তসলিমা নাসরিনকে কলকাতায় থাকতে না দেওয়ার দাবিতে মধ্য কলকাতা অঞ্চলের একটি বড়ো অংশ অবরোধ করে এবং সহিংস দাঙ্গার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।[১] সেই দিন সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার শহরে সেনা মোতায়েন করে দেয়।

প্রেক্ষাপটসম্পাদনা

১৭ অগস্ট কলকাতার মুসলমান ধর্মযাজকেরা বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিনকে হত্যার ফতোয়া জারি করেছিলেন।[২]

ঘটনাসম্পাদনা

এই দাঙ্গার সময় কলকাতার বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকরা দাঙ্গাকারীদের ছোঁড়া পাথরের ঘায়ে আহত হয়েছিলেন। দাঙ্গাকারীরা ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)র দুটি পার্টি অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই দাঙ্গার ফলে মধ্য কলকাতার শিয়ালদহ, মল্লিকবাজার, সি.আই.টি রোড, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট, পদ্মপুকুর, মৌলালি ও এন্টালি এলাকায় যানবাহন স্তব্ধ হয়ে যায়।

কলকাতার রাস্তাগুলি রণক্ষেত্রের আকার নিলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ছয় কোম্পানি সেনা মোতায়েন করে। দুপুর তিনটে নাগাদ দুই কোম্পানি সেনা শহরে ফ্ল্যাগ মার্চ শুরু করে। প্রত্যেক কোম্পানিতে ১০০ থেকে ১২০ জন জওয়ান ছিলেন।[৩] কিছুক্ষণ পরেই আরও চার কোম্পানি সেনা মোতায়েন করা হয়।

প্রতিক্রিয়াসম্পাদনা

এই ঘটনার দুই মাস পরে, ধর্মমুক্ত মানববাদী মঞ্চ নামে ধর্মনিরপেক্ষ মুসলমানদের একটি সংস্থা কলকাতা প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে তসলিমা নাসরিনকে কলকাতা ছেড়ে যেতে বাধ্য করার প্রতিবাদ জানায়।[৪]

পাদটীকাসম্পাদনা

  1. "Army deployed after Calcutta riot"BBC। নভেম্বর ২১, ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ১২, ২০১১ 
  2. "Kolkata's clerics threaten Taslima Nasreen"Reuters। আগস্ট ১৭, ২০০৭। ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ১২, ২০১১ 
  3. "Army out in Kolkata after street riots over Nandigram, Taslima"TwoCircles.net। নভেম্বর ২১, ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ১২, ২০১১ 
  4. "'Secular' Muslims want Taslima back"Sify News। জানুয়ারি ১৫, ২০০৮। নভেম্বর ২৭, ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ১২, ২০১১