হিপ্পি আন্দোলনের ইতিহাস

হিপ্পি আন্দোলনের ইতিহাসঃ

১৯৬০ এর দশকের শুরুর দিকে "ইয়ুথ মুভমেন্ট" বা তরুণ প্রজন্মের সক্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে প্রথমে আমেরিকায় এবং পরে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে হিপ্পি উপসংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে। ১৯ শতক এবং ২০ শতকের শুরুতে ইউরোপীয় সমাজে বিদ্যমান "বোহেমিয়ান" -র মত বিদ্যমান সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই হিপ্পির উদ্ভব হয়।হিপ্পি মূলত প্রাচ্যদেশীয় ধর্ম বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিকতায় প্রভাবিত একটি সামাজিক আন্দোলন। এর মূলনীতি হলো,প্রাকৃতিক জগতের সাথে ঐক্যের সম্পর্ক গড়ে তোলা,একই মতাদর্শের বেশ কয়েকজন মিলে একসাথে বসবাস করা(কম্যুনাল লিভিং),গানের মধ্য দিয়ে আর্টিস্টিক এক্সপেরিমেন্টেশন ফুটিয়ে তোলা এবং বিশেষ করে মাদকজাতীয় দ্রব্যগুলোকে বিনোদনের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা। ১৯৬০ এর দশক জুড়েই সমাজে বিদ্যমান নীতি এবং নৈতিকতার বিপরীতে গিয়ে (কাউন্টারকালচার) এক ধরনের উপসংস্কৃতি গড়ে ওঠে।এই নতুন গড়ে ওঠা জীবন ধরনই হিপ্পি আন্দোলন নামে পরিচিত।  

হিপ্পি আন্দোলনের উদ্ভবের কারণঃ-

গতানুগতিক সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রেরণাঃ-

 

হিপ্পি আন্দোলনের ঐতিহাসিক যোগসূত্র অনুসন্ধানে বেশ অতীতে ফিরে যেতে হয়। পারসিয়ান "মাজদাকীয়" সংস্কার থেকে হিপ্পিরা অনুপ্রাণিত হয়েছে। মাজদাকীয় সংস্কারের রূপকার পারসিয়ান সংস্কারক মাজদাক;যে কম্যুনাল লিভিং,সম্পদের বণ্টনভিত্তিক ব্যবহার,নিরামিষ ভোজন এবং বন্ধনবিহীন ভালোবাসার প্রবর্তক হিসেবে সংস্কার কর্ম শুরু করে।১৯৬৭ সালে প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনের একটি আর্টিকেলে দেখা যায়, প্রাচীন গ্রীসের দার্শনিক Diogenes of Sinope কর্তৃক প্রবর্তিত সিনিক দর্শনের সাথে হিপ্পি আন্দোলনের ঐতিহাসিক মিল রয়েছে।আর্টিকেলটি আরো দাবি করে যে, হিপ্পিরা যিশু খ্রিস্ট,হিলেল দ্য এল্ডার,বুদ্ধ,সেন্ট ফ্রান্সিস অব আসিসি,হেনরি ডেভিড থরো,গান্ধী এবং আরো অনেক ব্যক্তিবর্গের মতাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত।আবার কিছু নিদর্শন অনুযায়ী বলা হয়, ১৬২৫ সালে ঘটে যাওয়া মেরিমাউন্ট কলোনি(ন্যাথানিয়েল হথর্ন কর্তৃক পরবর্তীতে The Maypole of Merry Mount লেখা হয়) হলো আমেরিকা মহাদেশের প্রথম হিপ্পি আন্দোলন।

১৯ শতক থেকে ২০ শতকের প্রথমার্ধে ইউরোপঃ-

১৮০০ শতকের শেষের দিক থেকে ১৯০০ শতকের প্রথমার্ধে জার্মানিতে লেবেন্সরিফর্ম(Lebensreform)  আন্দোলন সংঘটিত হয়।এতে প্রাকৃতিক ভারসাম্যের প্রতি গুরুত্ব প্রদান সহ,শিল্পায়নের কারণে সমাজ,মানুষ এবং প্রকৃতির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব, মানুষের ব্যক্তিত্ব,শরীর ও মনের সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানের প্রয়োজনীয়তা  এবং "পুরনো রীতি-প্রথার" মধ্যেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে,এরকম ধ্যানধারণার ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়। এই লেবেন্সরিফর্ম আন্দোলনের বিপরীতে,এর কাউন্টারকালচার হিসেবে ডার ভ্যান্ডারফোগেল(Der Wandervogel) রীতির উদ্ভব হয়।সংগঠিত সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক  ধারা,যেখানে জার্মানের ঐতিহ্যবাহী সংগীতের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হতো;এরকম এক ধারার বিপরীতে গিয়ে উদ্ভাবিত এই ডার ভ্যান্ডারফোগেল মুভমেন্টের মূল নায়ক ছিলো তরুণ সম্প্রদায়।তারা গতানুগতিক সাংগঠনিক ধারার বাইরে গিয়ে শখের বশে করা অপেশাদার সংগীতচর্চা এবং বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারের পাশাপাশি নিত্য-নতুন ঘরানার পোশাক,দলবেঁধে হাইকিং বা ক্যাম্পিং এ যাওয়ার মত কাজগুলোকে প্রাধান্য দিতে থাকে।তরুণ সমাজের এই পরিবর্তনের পেছনে ফ্রেডারিক নিৎসে,গ্যোথে,হারমান হেসে এবং এডওয়ার্ড বালৎজারের মত কৃতিমান ব্যক্তিদের চিন্তা পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে।জার্মানে তখন শহরায়ণ এবং পূর্বপুরুষদের আদিম বিশ্বাসের প্রতি ফিরে যাওয়া প্রচলিত ট্রেন্ডের মধ্যে পরিণত হয়েছিলো।কিন্তু এর বিপরীতে হাজার হাজর তরুণ ডার ভ্যান্ডারফোগেলের মত প্রচলিত সামাজিক প্রথা বিরুদ্ধ মুভমেন্টে অংশগ্রহণ করতে থাকে।  

সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার নেচার বয়েসঃ-

জার্মান তরুণদের এই মতাদর্শ ২০ শতকের প্রথমার্ধে আমেরিকায় পরিচিতি পেতে শুরু করে।কারণ ততদিনে এই তরুণেরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে নতুন অঞ্চলে আবাস গড়তে থাকে।এদের কেউ কেউ আবার "স্বাস্থ্যকর খাবারের দোকান" নামক নতুন ধারণার জন্ম দেয়।উদাহরণস্বরূপ, ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা বারবারা এলাকার প্রথম স্বাস্থ্যকর খাবারের দোকান(Health Food Store) ১৯৩৪ সালে হারমান সেক্সআওয়া প্রথম চালু করেন।তিনি জার্মানের তেনিংগেন-এ ৪ মার্চ,১৮৮৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ এর ডিসেম্বরে মারা যান।১৯০৬ সালের দিকে তিনি জার্মান ত্যাগ করে নিউইয়র্ক হয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় গিয়ে আবাস গড়েন এবং শান্তিবাদী,নিরামিষাশী জীবন যাপন শুরু করেন।সে সময়কালে মূলত বিদ্যমান জীবনযাত্রার বিকল্প হিসেবে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে   জার্মান থেকে অনেকেই সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমায়।এই নতুন অভিবাসীদের জীবন ধারা,বিশ্বাস,মতাদর্শ এবং কর্মে লেগে থাকার বাসনা আমেরিকার তরুণ প্রজন্মকে অনেক প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়। আমেরিকান সংস্কৃতির এই তরুণেরা ইতিহাসে নেচার বয়েস(Nature Boys) নামে পরিচিত।নেচার বয়েসদের একজন William Pester,যিনি ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমিতে স্থানান্তরিত হন,অরগানিক খাবার ফলাতে শুরু করেন এবং প্রাকৃতিক জীবনধারাকে( Back-to-Nature) আমেরিকানদের মাঝে জনপ্রিয় করে তোলার কাজে মনোনিবেশ করেন।এ দলেরই আরেক সদস্য, Eden Ahbez,  Nature Boy নামে একটি গান রচনা করেন,যা  ১৯৪৭ সালে Nat King Cole কর্তৃক রেকর্ড করা হয়।এই গানটি Back-to-Nature মুভমেন্টকে স্থানীয় আমেরিকান অধিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।ধীরে ধীরে নেচার বয়েসদের অনেকেই,যেমন- Gypsy Boots, ১৯৬৭ সালের দিকে নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে চলে যায়।আর এই স্থানান্তরের সময়টিতেই সান ফ্রান্সিসকোতে Summer of Love আদর্শ জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহণ করে।

বিট জেনারেশন(Beat Generation)ঃ-

বিট জেনারেশন বলতে মূলত, সানফ্রান্সিসকো সংস্কার আন্দোলনের সাথে জড়িত তরুণদের একটা অংশকে বোঝায়,যারা ১৯৬০ এর দশকের কাউন্টারকালচার থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়।তবে তাদের কারণে কিছু নতুন পরিশব্দ যেমন,beatnik,freak, hippie যুক্ত হয়।তাদের মধ্যে অনেকেই সক্রিয় আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে।যেমন,অ্যালেন গিন্সবার্গ,যিনি যুদ্ধ-বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। অন্যদিকে জ্যাক ক্যারুয়াক আবার গিন্সবার্গের সঙ্গ ত্যাগ করে সমালোচনা করে বলেন যে,১৯৬০ এর প্রতিবাদী আন্দোলনে গিন্সবার্গের অংশগ্রহণ ছিলো একপ্রকার বিদ্বেষপরায়ণতা।বব ডিলান গিন্সবার্গের কাছের বন্ধুতে পরিণত হন,আর গিন্সবার্গের কাছের বন্ধু হন টিমোথি ল্যারি।ল্যারি আর গিন্সবার্গ উভয়েই ১৯৬০ এর দশকের প্রথম দিকে এলএসডি মাদকের সাথে পরিচিত হন মাইকেল হোলিংসহেড কর্তৃক এবং দুজনেই তাদের সাইকেডেলিক ঘরানার গান ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের দ্বারা হিপ্পি আন্দোলনে নতুন ধারা যুক্ত করেন।

গিন্সবার্গ ১৯৬৩ সালের দিকে সানফ্রান্সিসকোতে নেয়াল ক্যাসাডে এবং চার্লস প্লিমেলের সাথে বসবাস করতে শুরু করেন।এসময়েই তিনি ক্যান ক্যায়সের সাথে পরিচিত হন,যিনি সিআইএর জন্য এলএসডি ট্রায়াল কর্মসূচিতে জড়িত ছিলেন,এবং তিনি মেনলো পার্ক ভেটেরান হাসপাতালে রাতের ডিউটি করার পাশাপাশি স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রও ছিলেন।ক্যাসাডে,ক্যান ক্যায়সের  কম্যুনাল গোষ্ঠী মেরি প্রাঙ্কস্টার্সের জন্য গাড়ি চালাতেন,এবং তিনি ক্যারুয়াককে এ দলে যুক্ত করানোর পায়তারায় ছিলেন।কিন্তু ক্যারুয়াক রাগের সাথেই এই নিমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে এবং তাদের সবাইকে আমেরিকান সংস্কৃতি নষ্ট করার জন্য দায়ী করে।

লেখক এড স্যান্ডার্সের মতে,বিটনিক থেকে হিপ্পিতে উত্থানের বিষয়টি জনগণের দৃষ্টিতে প্রথম ধরা পড়ে ১৯৬৭-র পর থেকে,যখন সানফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট পার্কে হিউম্যান বি-ইন নামক সমাবেশে গিন্সবার্গ,গ্যারি স্নাইডার এবং মাইকেল ম্যাকক্লুরে একত্রে "ওম" শব্দটি জপতে থাকেন।গিন্সবার্গ ১৯৬৮ সালের ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে অংশগ্রহণ করেন,এবং অ্যাবি হফম্যান সহ শিকাগো সেভেনের অন্যান্য সদস্যদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।বিটনিক এবং হিপ্পিদের মাঝে ফ্যাশনের ব্যাপারে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।যেমন,বিটনিকরা যেখানে সাদাসিধে ফ্যাশনের অনুসারী ছিলো,সেখানে হিপ্পিরা গাঢ় রঙের পোশাক,গোটি স্টাইলের দাড়ি আর লম্বা চুলকে ফ্যাশন হিসেবে বেছে নিয়েছিলো। বিটনিকরা আত্মপ্রচার এবং কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলতো,আর হিপ্পিরা সবসময় ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে প্রচারের ব্যাপারে সক্রিয় ছিলো।

           

বিটনিক থেকে হিপ্পিতে রূপান্তরের প্রামাণ্য ঘটনাবলী নিয়ে প্রথম লেখা বই হলো,Been Down So Long It Looks Like Up to Me।এটি লিখেছিলেন বিখ্যাত বিটনিক শিল্পী জোয়ান বায়েজের বোনজামাই  রিচার্ড ফারিনা,যিনি নিজওে একজন শিল্পী ছিলেন।তিনি এটি ১৯৬৩ সালে লিখেছিলেন, এবং এটি ১৯৬৬ সালের ২৮ এপ্রিল প্রকাশিত হয়।আর প্রকাশের দু'দিন আগে মোটরসাইকেল আঘাতে তাকে হত্যা করা হয়।


১৯৬০ থেকে ১৯৬৬ঃ-

ক্যান ক্যায়সে এবং মেরি প্রাঙ্কস্টার্সঃ

আমেরিকান ঔপন্যাসিক ক্যান ক্যায়সে মেরি প্রাঙ্কস্টার্স নামক এমন এক দলের প্রবক্তা,যারা সাইকেডেলিক আন্দোলনের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলো;আর ক্যান ক্যায়সের ক্যালিফোর্নিয়া ও অরেগনের বাড়িতে কম্যুনালি বসবাস করতো। এ দলটির উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে-ক্যায়সের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ক্যান ব্যাবস্,নীল ক্যাসাডি,মাউন্টেন গার্ল (প্রকৃত নাম-ক্যারোলিন অ্যাডামস্ হলেও মিসেস জেরি গার্সিয়া নামে ততোধিক পরিচিত),ওয়েভি গ্র্যাবি,পল ক্র্যাসনার,স্টুয়ার্ট ব্র্যান্ড,ডেল ক্লোস,পল ফস্টার,জর্জ ওয়াকার প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ অধিক সুপরিচিত। তাদের প্রথম দিকের কীর্তি-কলাপ লেখক টম উলফ্ তার The Electric Kool-Aid Acid Test বইতে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন।

ক্যান ক্যায়সে এবং মেরি প্রাঙ্কস্টার্সের সদস্যরা তাদের ১৯৬৪ সালের দীর্ঘ পথযাত্রার মাধ্যমে সামাজিক গতিধারায় ব্যাপক ভূমিকা রেখে গিয়েছে। তারা এ সময় তাদের নিজস্ব পরিচয় বাহক,সাইকেডেলিক মতাদর্শে পেইন্ট করা "Further"লেবেলকৃত স্কুলবাসে  করে আমেরিকার পুরোটা ভ্রমণ করেন এবং তাদের " এসিড টেস্ট" ধারণাকে ছড়িয়ে দেন।ক্যায়সে বিশ্বাস করতেন যে,সামাজিক পরিবর্তনের জন্য সাইকেডেলিক সর্বোত্তম উপাদান হিসেবে ব্যবহারযোগ্য এবং যদি সমাজে বসবাসকারীদের একটা বড় অংশ সাইকেডেলিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম হয়,তাহলে সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার আনয়ন সম্ভব। তাই তারা আগ্রহী সবার জন্যই এলএসডির সরবরাহকে সহজ করে দিয়েছিলো।এটি তারা করত "এসিড টেস্ট " নামক সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে,যেখানে "electric kool-aid" নামের আড়ালে অংশগ্রহনকারীদেরকে এসিড অর্থাৎ এলএসডি সরবরাহ করা হতো।এরকম অনুষ্ঠান ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকটি জায়গাতেই আয়োজন করা হয় এবং অনেক সময় "তুমি কি এসিড টেস্ট থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারবে?" (Can you pass the acis test?) এরকম শিরোনামের দ্বারা এলএসডির প্রচারণা চালানো হতো।১৯৬৫ সালের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলতো নামক এলাকায় প্রথম এসিড টেস্ট করা হয়।(এলএসডি ১৯৬৬ সালের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত আমেরিকায় বৈধ ছিলো)।সাইকেডেলিক ব্যান্ড গ্রেটফুল ডেড এসকল অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করতো।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা