হার্বার্ট স্ট্রাডউইক

ইংরেজ ক্রিকেটার

হার্বার্ট বার্ট স্ট্রাডউইক (ইংরেজি: Herbert Strudwick; জন্ম: ২৮ জানুয়ারি, ১৮৮০ - মৃত্যু: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০) সারের মিচাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯১০ থেকে ১৯২৬ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অংশগ্রহণ করেছেন।

হার্বার্ট স্ট্রাডউইক
Herbert Strudwick postcard c1910.jpg
আনুমানিক ১৯১০ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে হার্বার্ট স্ট্রাডউইক
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামবার্ট স্ট্রাডউইক
জন্ম(১৮৮০-০১-২৮)২৮ জানুয়ারি ১৮৮০
মিচাম, সারে, ইংল্যান্ড
মৃত্যু১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০(1970-02-14) (বয়স ৯০)
শোরহাম-বাই-সী, সাসেক্স, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনঅজানা
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক, কোচ
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৬৮)
১ জানুয়ারি ১৯১০ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট১৮ আগস্ট ১৯২৬ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ২৮ ৬৭৪
রানের সংখ্যা ২৩০ ৬,৪৪৫
ব্যাটিং গড় ৭.৯৩ ১০.৮৮
১০০/৫০ ০/০ ০/৯
সর্বোচ্চ রান ২৪ ৯৩
বল করেছে ১৩৮
উইকেট
বোলিং গড় - ১০২.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং - ১/৯৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৬১/১২ ১২৩৭/২৫৮
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৮ মার্চ ২০১৮

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন হার্বার্ট স্ট্রাডউইক। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন।

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

শৈশবে দশ বছর বয়সে স্থানীয় এক ভদ্রমহিলার পরামর্শক্রমে উইকেট-রক্ষণের দিকে অগ্রসর হন হার্বার্ট স্ট্রাডউইক। ১৯০২ সালে সারে দলের সদস্যরূপে প্রথম খেলতে নামেন ও কয়েকটি খেলায় অংশ নেন। পরের বছর পূর্ণাঙ্গ মৌসুম কাউন্টি ক্রিকেটে অতিবাহিত করেন তিনি। ৭১ ক্যাচ ও ২০ স্ট্যাম্পিং করে ৯১ ব্যাটসম্যানকে বিদায় করে রেকর্ড গড়েন। তবে, সারের শীর্ষস্থানীয় বোলার টম রিচার্ডসনউইলিয়াম লকউডের পাশাপাশি ভেজা গ্রীষ্মের সহায়তায় তার এ রেকর্ড অনেকাংশেই ম্লান হয়ে যায়। ঐ সময় থেকে স্ট্রাডউইককে ইংল্যান্ডের টেস্ট উইকেট-রক্ষক ডিক লিলি’র সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীরূপে গণ্য করা হতো। ফলশ্রুতিতে ১৯০৩-০৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। কিন্তু কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়নি তার। খেলায় চমৎকার ক্রীড়াশৈলী অব্যাহত রাখায় ১৯০০-এর দশক পর্যন্ত শীর্ষ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে স্থান দখল করে রেখেছিলেন।

টেস্ট ক্রিকেটসম্পাদনা

১৯০৯-১০ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে অভিষেক ঘটে হার্বার্ট স্ট্রাডউইকের। ১ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৯১১ সালে কেন্টের প্রথিতযশা ফ্রেড হুইশের দক্ষতার কাছে তার সাফল্য ম্লান হয়ে যায়। তাস্বত্ত্বেও স্ট্রাডউইক প্রথম পছন্দের উইকেট-রক্ষক হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ফ্রাঙ্ক ফস্টারসিডনি বার্নসের বোলিং দক্ষভাবে মোকাবেলায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর কাউন্টি ক্রিকেট চালু হলে স্ট্রাডউইক নিজেকে মেলে ধরেন যা ১৯২৭ সালে তার অবসরগ্রহণকালীন পর্যন্ত ইংল্যান্ড দলে অব্যাহত ছিল। তবে এর মাঝে ১৯২১ সালে আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে বিপর্যয়কর ফলাফলের পর সাময়িকভাবে মাঠের বাইরে অবস্থান করেছিলেন।

১৯১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাটিং উইকেটে সিডনি বার্নসের বিধ্বংসী বোলিং মোকাবেলা করে খ্যাতি অর্জন করেন। এ সময় বার্নসের বলগুলো বাউন্স ও বাঁক খাওয়া ছিল। পরের মৌসুমে স্ট্রাডউইকের দক্ষতার কারণে সারে দলের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা লাভে একবারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অর্জনসমূহসম্পাদনা

 
আনুমানিক ১৯০৫ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে হার্বার্ট স্ট্রাডউইক

১৯১২ সালে উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন তিনি।[২]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ১৪৯৩ ডিসমিসালে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। সংখ্যার দিক দিয়ে এটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। ব্যাটসম্যান হিসেবে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেননি হার্বার্ট স্ট্রাডউইক। তবে দুইবার দশম উইকেট জুটিতে বিল হিচের সাথে জুটি গড়ে শতাধিক রান তুলেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে চারজনের একটি জুটি হিসেবে একাধিকবার শতাধিক রানের জুটি গড়েছেন।

অবসরসম্পাদনা

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এছাড়াও আরও অনেকগুলো বছর সারে দলের পক্ষে খেলেছিলেন।

জীবনের শেষদিকে ধূমপান ও মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান তার অনুষঙ্গ ছিল। উইজডেনে ক্রিকেটকে ঘিরে অনেক নিবন্ধ লিখেন। ১৯৫৯ সালে উইজডেনে ‘ফ্রম ড. গ্রেস টু পিটার মে’ শীর্ষক নিবন্ধটি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা লাভে সক্ষমতা দেখায়। এতে তিনি তার খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর দর্শক হিসেবে খেলাকে ঘিরে তার দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরেন।

১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে ৯০ বছর বয়সে সাসেক্সের শোরহাম-বাই-সী এলাকায় তার দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. [১] ESPNcricinfo, ESPN, সংগ্রহের তারিখ: ২৩ জুলাই ২০১৯
  2. "Wisden Cricketers of the Year" (English ভাষায়)। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০২-২১ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা