হাজার স্তম্ভ মন্দির

ভারতের একটি হিন্দু মন্দির

হাজার স্তম্ভ মন্দির বা রুদ্রেশ্বরের সোয়ামী মন্দিরটি [১] হল ভারতের ঐতিহাসিক হিন্দু মন্দির, যা ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের, হানামাকন্ডা [২] শহরে অবস্থিত। এটি শিব, বিষ্ণু এবং সূর্যকে নিবেদিত মন্দির।

হাজার স্তম্ভ মন্দির
1000 pillar temple warangal.jpg
১০০০ স্তম্ভ মন্দির
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিহিন্দুধর্ম
ঈশ্বরশিব, বিষ্ণু, সূর্য
অবস্থান
অবস্থানহানামাকন্ডা, ভারত য়রাঙ্গাল
রাজ্যতেলেঙ্গানা
দেশভারত
স্থাপত্য
ধরনকাকতীয়, চালুক্য
সৃষ্টিকারীরুদ্র দেবা

ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের স্থানের তালিকাতে "ওয়ারামাল ফোর্ট" এবং "রামাপ্পা মন্দির" সহ হাজার স্তম্ভ মন্দিরকে তালিকা ভূক্ত করা হয়েছে।[৩]

ইতিহাসসম্পাদনা

অনেক হিন্দু মন্দিরগুলি গণপতি দেব, রুদ্র দেব দেবী এবং প্রতাপরুদ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় কাকতীয় রাজবংশের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১১৭৫-১৩২৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রাজার আদেশ অনুযায়ী রাজার দেবের রাজত্বকালে হাজার স্তম্ভ মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল। প্রাচীন কাকতীয় বিশ্বকর্মা স্থপতি কর্তৃক স্থাপত্যের দক্ষতার পরিপ্রেক্ষিতে এটি একটি অন্যতম শ্রেষ্ট শিল্পকর্ম হিসেবে দাঁড়িয়েছে এবং উচ্চ মাত্রার খ্যাতি অর্জন করেছে। [৪]

দাক্ষিণাত্যের আক্রমণের সময় তুগল রাজবংশের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।

স্থাপত্যসম্পাদনা

হাজার পিলার মন্দির তার ধ্বংসাবশেষ সহ হায়দরাবাদ শহর থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মাইল), দূরে হায়নামকন্ডার নিকটে অবস্থিত। মন্দিরটি হয়- তেলেঙ্গানা রাজ্য মধ্যে হায়নামকন্ডার-ওয়ারঙ্গাল মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত।

মন্দিরটি তারকা-আকৃতির, সঙ্গে বেশ কয়েকটি মন্দির এবং লিঙ্গ রয়েছে। মন্দিরের তিনটি তীর্থস্থান রয়েছে যা ত্রিচলয়য়াম নামে পরিচিত, এটি শিব, বিষ্ণু ও সূর্যকে নিবেদিত। কাঠামোর মধ্যে ১,০০০ স্তম্ভ আছে, কিন্তু কোন স্তম্ভ ঈশ্বরকে দেখতে মন্দিরের যে কোন স্থানে বাধা দেয় না। মন্দিরটি একটি বড় বাগানের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয় যার মধ্যে অনেক ছোট লম্বা মন্দির দেখা যায়। একটি অত্যন্ত মসৃণ কালো ব্যাসাল্ট একপ্রস্তর স্তম্ভ আকারে একটি নন্দী ষাঁড়ের একটি খোদাই আছে।

হাজার স্তম্ভ মন্দিরটি একটি ভিত্তি বা ভিতের উপর নির্মিত হয় যা ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে ১ মিটার (৩.৩ ফুট) উচ্চতায় উন্নীত হয়। মন্দিরে পাথর কেটে তৈরি হাতি এবং ছিদ্রযুক্ত পর্দা তখন প্রবর্তিত রাজবংশের বৈশিষ্ট্য।

ভারত সরকারের দ্বারা ২০০৪ সালে এই মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ এবং আধুনিক প্রকৌশলী মন্দির আরও সংস্কারের জন্য কাজ করছেন।

যোগাযোগসম্পাদনা

সড়ক পথে মন্দিরের কাছে পৌঁছানোর জন্য একটি ভালো পরিবহন সুবিধা পাওয়া যায়। নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন ওয়ারঙ্গাল রেলওয়ে স্টেশন, যা মন্দির থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। হায়দ্রাবাদে অবস্থিত বিমানবন্দরটি এই মন্দিরের নিকটতম বিমানবন্দর।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Thousand Pillar Temple History"। ২৬ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০১৬ 
  2. 1,000-pillar temple to get facelift - Times Of India ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১২-১১-০৪ তারিখে. Articles.timesofindia.indiatimes.com (2003-07-20). Retrieved on 2013-08-25.
  3. Centre, UNESCO World Heritage। "The Glorious Kakatiya Temples and Gateways - UNESCO World Heritage Centre"whc.unesco.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০১৬ 
  4. http://www.templedetails.com/thousand-pillar-temple-warangal/

বহিসংযোগসম্পাদনা