হরেন ঘটক (২১ নভেম্বর ১৯০৪ — ১০ নভেম্বর ১৯৯৩) ছিলেন বিশিষ্ট শিশু-সাহিত্যিক ও ছড়াকার। [১] [২] বাংলায় সার্থক কমিক স্ট্রিপের খ্যাতনামা রচয়িতা তিনি।

হরেন ঘটক
জন্ম(১৯০৪-১১-২১)২১ নভেম্বর ১৯০৪
মৃত্যু১০ নভেম্বর ১৯৯৩(1993-11-10) (বয়স ৮৮)
কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ
জাতীয়তাভারতীয়
নাগরিকত্বভারতীয়
পরিচিতির কারণশিশু সাহিত্যিক ও ছড়াকার
পিতা-মাতা
  • ষোড়শীকান্ত ঘটক (পিতা)
  • জ্ঞানদাসুন্দরী দেবী (মাতা)
ব্যক্তিগত
জাতিসত্তাবাঙালি

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

হরেন ঘটকের জন্ম ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দের ২১ নভেম্বর বৃটিশ শাসনামলের দেশীয় রাজ্য ত্রিপুরায় , বিলোনিয়ার এক দরিদ্র পরিবারে। পিতা ষোড়শীকান্ত ঘটক এবং মাতা জ্ঞানদাসুন্দরী দেবী। পাঁচ ভাই ও এক বোনের অভাবের সংসারে পিতামাতাকে সাহায্য করতে নিজে প্রথাগত শিক্ষায় ইতি টেনে দিনে ফেরি করে বেড়িয়েছেন। চরম অভাবের সংসারে সারাদিন ঘুরেফিরে এসে সন্ধ্যায় নিজে বসতেন পড়াশোনায়। এভাবেই স্বশিক্ষিত হন তিনি। কবিতা ও গল্প ইত্যাদি বিষয়ে লেখালেখি শুরু করেন। আঠারো বৎসর বয়সে তার লেখা বড়োদের ছোটগল্প 'পঁচিশ বছর আগে' ঢাকার শিখা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। [১]

কর্মজীবনসম্পাদনা

একসময় কাজের সন্ধানে চলে আসেন কলকাতায়। অমৃতবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় 'ছোটদের পাততাড়ি' বিভাগে "স্বপনবুড়ো" তথা অখিল নিয়োগীর সহযোগী হিসাবে যোগ দেন। তিনি ধারাবাহিক ভাবে ছোটদের জন্য যুগান্তরে লিখতেন ছড়া ছবির কমিকস শেয়াল পণ্ডিত। তার ছড়ার সঙ্গে ছবি আঁকতেন কাফি খাঁ ছদ্মনামে পরিচিত প্রফুল্লচন্দ্র লাহিড়ী।তার ছডার সঙ্গে ছবির যুগলমিলন ছিল উপভোগের বিষয়। [২] তার প্রথম লেখা বই হল - ছড়া ও ছবিতে এবিসিডি। দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা হতে অবসরের পর তিনি যোগ দেন 'সত্যযুগ' পত্রিকায়। ছোটদের জন্য "নব পাঠশালা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। মাস্টারদা ছদ্মনামে কাজ করেন। এখানে তিনি সম্ভবনাময় অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রজন্মের লেখকদের উৎসাহ দিতেন। [৩] প্রয়োজনবোধে তাদের লেখাকে নিজে উপযুক্ত মানের করে ছাপার অক্ষরে নব পাঠশালা পাতায় প্রকাশ করার সুযোগও করে দিতেন। বাংলার বহু শিশু সাহিত্যিক ও ছড়াকার তার সংস্পর্শে এসেছেন। তাদের অন্যতম হলেন - সুখেন্দু মজুমদার, পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, সুদেব বক্সী প্রমুখেরা। তার উল্লেখযোগ্য ছড়ার বই হল-

ছড়া/কবিতার বই -
  • মাছরাঙা
  • টুনটুনি
  • টাপুর টুপুর
  • হবুচন্দ্র গবুচন্দ্র
গল্পের বই -
  • আহাম্মক দি গ্রেট
অনুবাদ-
  • সাগরপাড়ের ছড়া [১]

শিশু সাহিত্য সম্পর্কে হরেন ঘটকের বক্তব্য ছিল -

"শুধু তাকে আনন্দ দেওয়াই নয়, শিশুসাহিত্যের মাধ্যমে শিশুকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ইতিহাস এবং বিশ্ব প্রকৃতিকে জানবার আগ্রহী করে তোলবার উদ্দেশ্যও এতে বর্তমান।"

[৪]

ছোটদের জন্য ছড়া, কবিতা ও গল্প ছাড়াও তিনি গান রচনাও করতেন। তার লেখা প্রিয় যদি নাহি আসে গানটি গোপেন মল্লিকের সুরে গেয়েছেন জগন্ময় মিত্র


বাম মতাদর্শে বিশ্বাসী তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের কুসংস্কার ও শোষণের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু সবারই প্রিয়পাত্র ছিলেন।

সম্মাননাসম্পাদনা

হরেন ঘটক তার প্রথম বই ছড়া ছবিতে এবিসিডি বইটির জন্য রাষ্ট্রীয় পুরস্কার লাভ করেন। [১]

জীবনাবসানসম্পাদনা

১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দের ১০ নভেম্বর তিনি ৮৯ বৎসর বয়সে পরলোক গমন করেন। তবে চির বিদায়ের অনেক আগেই তিনি সবার কাছ থেকে ছুটি নিতে লিখেছেন-

"জীবনের এই শেষ সীমান্তে, সমন খাড়া আছে।

ছুটি নেওয়ার সময় হলো, তাই তো সবার কাছে।

ভালোবাসা যে সব পেলাম, রইল বুকে জমা।

ভুলচুক তো ঢের করেছি, চেয়ে নিলাম ক্ষমা।

স্নেহ-প্রীতির পরশ পেলাম আমি সবার কাছে,

আমার মত এমন জীবন আর কি কারো আছে?

যাবার বেলা ডাক দিয়ে যাই সবাব দ্বারে দ্বারে,

ভালোবাসার বিকল্প নাই এ বিশ্ব-সংসারে।"


তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, জানুয়ারি-২০১৯ পৃষ্ঠা ৪৭৭,আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-২৯২-৬
  2. শিশিরকুমার দাশ (২০১৯)। সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী। সাহিত্য সংসদ, কলকাতা। পৃষ্ঠা ২৪১। আইএসবিএন 978-81-7955-007-9 
  3. "চলার পথে লেখক অলেখক গল্পের পাতা"। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৩-১১ >
  4. আমিনুল হকের নিবন্ধ: শিশুসাহিত্যের সাম্প্রতিক কয়েকজন লেখক লেখিকা, কোরক সাহিত্য পত্রিকা শারদীয়া ১৩৯৯ বঙ্গাব্দ পৃষ্ঠা ১৬১,ISSN - RN-41092/82