হযরত বেগম (৪ নভেম্বর ১৭৪১ – আনু. ১৭৭৪) (পশতু: حضرت بېګم) ছিলেন ৫ এপ্রিল ১৭৫৭ - ১৬ অক্টোবর ১৭৭২ পর্যন্ত দুররানি সাম্রাজ্যের একজন সম্রাজ্ঞী সঙ্গী, দুররানি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা আহমদ শাহ দুররানির স্ত্রী। মুগল সম্রাট মুহম্মদ শাহের কন্যা হিসেবে তিনি জন্মসূত্রে একজন মুগল রাজকন্যা ছিলেন।

হযরত বেগম
মুগল সাম্রাজ্যের শাহজাদি
দুররানি সাম্রাজ্যের সম্রাজ্ঞী সঙ্গী
কার্যকালে৫ এপ্রিল ১৭৫৭ - ১৬ অক্টোবর ১৭৭২
জন্মদিল্লি, ভারত
মৃত্যুআনু. ১৭৭৪ (বয়স ৩২–৩৩)
আফগানিস্তান
সমাধিমোহাম্মদ শাহের সমাধি, নিজামউদ্দীন আওলিয়া, দিল্লি
দাম্পত্য সঙ্গীআহমদ শাহ দুররানি
রাজবংশতিমুরীদ (জন্মগতভাবে)
দুররানি (বিয়ের ফলে)
পিতামুহাম্মদ শাহ
মাতাসাহিবা মহল
ধর্মইসলাম

পরিবার এবং বংশধরসম্পাদনা

হযরত বেগম মুগল রাজকন্যা হয়ে জন্মেছিলেন এবং মুগল সম্রাট মুহাম্মদ শাহ এবং তার স্ত্রী সাহিবা মহলের কন্যা ছিলেন।[১] ১৭৫৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৬ বছর বয়সে, তিনি তার অসাধারণ সৌন্দর্যের জন্য এত বিখ্যাত হয়েছিলেন যে মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আলমগীর, যিনি তখন প্রায় ৬০ বছর বয়সী ছিলেন, তিনি হযরত বেগমকে বিয়ে করার জন্য সাহিবা মহল, রাজকন্যার অভিভাবক এবং সৎ মা বাদশাহ বেগমকে চাপ প্রয়োগ করেন ও হুমকি দেন, হযরত বেগমকে তার হাতে তুলে দিতে।[২] রাজকন্যা ৬০ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধকে বিয়ে করার চেয়ে মৃত্যুকেই বেশি পছন্দ করেন এবং দ্বিতীয় আলমগীর তাকে বিয়ে করতে সফল হননি।[২]

বিবাহসম্পাদনা

এপ্রিল ১৭৫৬ সালে, দিল্লি সাম্রাজ্যের রাজধানী বিলুপ্তির পর, দুররানী রাজা আহমদ শাহ দুররানি মৃত সম্রাট মুহম্মদ শাহের ১৬ বছর বয়সী মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন।[৩] মাত্র ১৬ বছর বয়সী কন্যাকে বাদশাহ বেগম আবার ৩৫ বছর বয়সী আফগান রাজার সাথে বিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন, কিন্তু ১৭৫৭ সালের ৫ই এপ্রিল দিল্লিতে জোর করে শাহ তাকে বিয়ে করেন।[৪] বিবাহ উদযাপনের পরে, আহমদ শাহ তার নববধূকে আফগানিস্তানের নিজ জায়গায় নিয়ে যান। কাঁদতে থাকা নববধূর সঙ্গী ছিলেন বাদশাহ বেগম, সাহিবা মহল এবং কয়েকজন মহিলা যা মুঘল হারেমের বর্ণনা থেকে জানা যায়।[৪]

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Sarkar, Jadunath (১৯৯৯)। Fall of the Mughal Empire. (4th সংস্করণ)। Hyderabad: Orient Longman। পৃষ্ঠা 268। আইএসবিএন 9788125017615 
  2. Aḥmad, ʻAzīz; Israel, Milton (১৯৮৩)। Islamic society and culture: essays in honour of Professor Aziz Ahmad (ইংরেজি ভাষায়)। Manohar। পৃষ্ঠা 146। 
  3. A Comprehensive History of India: 1712-1772 (ইংরেজি ভাষায়)। Orient Longmans। ১৯৭৮। 
  4. Sarkar, Sir Jadunath (১৯৭১)। 1754-1771 (Panipat). 3d ed. 1966, 1971 printing (ইংরেজি ভাষায়)। Orient Longman। পৃষ্ঠা 89।