প্রধান মেনু খুলুন

হনুমান (রামায়ণ)

হিন্দু দেবতা
(হনুমান (দেবতা) থেকে পুনর্নির্দেশিত)

হনুমান (/hʌnʊˈmɑn/) হলেন হিন্দু ধর্মের একজন দেবতা যিনি রামের একনিষ্ঠ ভক্ত। হিন্দু পুরাণে হনুমানকে বিশেষ স্থান দেয়া হয়েছে। রামায়ণ বর্ণিত হনুমান পবননন্দন হিসেবে হিন্দুদের নিকট পূজনীয়। রামায়ণের মূল চরিত্র রাম যাকে হিন্দুরা ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে দাবি করে তার অনুগত চরিত্র হিসেবে পাওয়া যায় এই হনুমানকে। তিনি বায়ুদেবতার পুত্র। হিন্দুদের কাছে হনুমান রামভক্ত হিসেবে পরিচিত।

হনুমান
ভক্তি
StandingHanumanCholaDynasty11thCentury.jpg
হনুমান মূর্তি, চোল ভাস্কর্য, একাদশ শতাব্দী
দেবনাগরীहनुमान्
সংস্কৃত লিপ্যন্তরHanumān
অন্তর্ভুক্তিরামভক্ত বৈষ্ণবধর্ম
আবাসকদলীবন (হিমালয়-সংলগ্ন পৌরাণিক অরণ্য)
মন্ত্রহং হনুমতে রুদ্রাত্মকায় হুং ফট্ হনুমতে নমঃ
অস্ত্রগদা
বাহননেই
Textsরামায়ণ, রামচরিতমানস, হনুমান চালিশা[১]
সঙ্গী'শুভরচলা
মাতাপিতা

রামায়ণের কাহিনী অনুসারে হনুমান সীতাকে উদ্ধারের জন্য লংকায় অভিযান চালান।[৪]

অন্যান্য নামসম্পাদনা

 
হনুমানের ইন্দোনেশীয় বালি কাঠের মূর্তি।

হনুমান নামটি এসেছে হনু ("চোয়াল") এবং মান ("বিশিষ্ট" বা "কদাকার") শব্দদ্বয় থেকে। অর্থাৎ "হনুমান" শব্দার্থ "কদাকার চোয়ালবিশিষ্ট"।[৫] অপর একটি সূত্র বলে হনুমান নামটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ হন ("হত্যা") এবং মানা ("গর্ব") থেকে। অর্থাৎ হনুমান অর্থ "যাঁর গর্ব হত হয়েছে"।[৫] কিছু জৈন পাতা থেকে জানা যায় হনুমান তার শৈশব হনুরাহা'তে কাটিয়েছেন এবং তাই তার নাম হনুমান।[৬]

অপর একটি তত্ত্বানুসারে, "হনুমান" নামটি প্রাক-দ্রাবিড়ীয় শব্দ (যা পুরুষ বানরের জন্য ব্যবহৃত) এনা-মান্দি থেকে এসেছে, যা পরবর্তীতে সংস্কৃতিতে "হনুমান" হয়। "হনুমান" শব্দের ভাষাগত পার্থক্যর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে হনুমাত, অনুমান (তামিল, অনোমান (ইন্দোনেশীয়, আন্দোমান (মালয় এবং হুনলামান (লাও। এছাড়া আরো রয়েছেঃ

  • অঞ্জন্যা,হনুমান্তা,
  • অঞ্জন্যা, অঞ্জনিপুত্র বা অঞ্জনেয়ুডু বা হনুমান্ঠুডু (তেলেগু), যার অর্থ "অঞ্জনার পুত্র".
  • অঞ্জনেয়ার, গ্রামীন তামিলীয়রা ব্যবহার করে।
  • কেশরী নন্দন ("কেশরী"পুত্র)
  • মরুতি ("মরুত পুত্র") or পবনপুত্র ("পবনপুত্র"); এই নামগুলোর উদ্ভব ঘটেছে বায়ুর বিভিন্ন নাম থেকে, যিনি অঞ্জনার গর্ভ থেকে হনুমানকে বহন করেন।
  • বজরং বলী, "একক শক্তিশালী (বালী), যার বজ্রর ন্যায় পা রয়েছে; গ্রামীন উত্তর ভারতে এই নাম ব্যবহৃত হয়।[৫] বজরং বলী বলতে আরো বোঝানো হয় একক শক্তিশালী বালী যার শরীরের রঙ বজ্রের ন্যায়।
  • সং কেরা পেমুজা দিওয়া রামা, হনুমান, ইন্দোনেশীয় "রাম এর বলশালী ভক্ত, হনুমান"

মহাভারতে হনুমানসম্পাদনা

মহাবীর হনুমান ‘রামায়ণ’-এর চরিত্র। তিনি অমর। তাই পরবর্তী মহাকাব্য ‘মহাভারত’-এও তার সাবলীল উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এই মহাকাব্যে তিনি কেমন যেন এক ধীর-শান্ত ব্যক্তিত্ব। তার বীরভাব এখানেও বজায় রয়েছে বটে। কিন্তু তার উপরে প্রলেপ পড়েছে জ্ঞানের, অভিজ্ঞতার।

• হনুমান এবং ভীম দু’জনেই পবনপুত্র। সেদিক থেকে দেখলে, তাঁরা ভ্রাতা। পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাসের সময়ে হনুমান এক অসুস্থ এবং বৃদ্ধ বানরের বেশে ভীমকে দেখা দেন। ভীম ছিলেন অসম্ভব আত্মগর্বী। তাঁকে শিক্ষা দেওয়াই ছিল বজরং বলীর উদ্দেশ্য। ভীমের পথ রুদ্ধ করে অসুস্থ বৃদ্ধের ছদ্মবেশে হনুমান শুয়ে ছিলেন। ভীম তাঁকে অতিক্রম করতে চাইলে তিনি ভীমকে বলেন তাঁর লেজটি সরিয়ে চলে যেতে। ভীম বহু চেষ্টাতেও সেই লেজ সরাতে পারেননি। শেষে তিনি অনুভব করেন, এই ব্যক্তি কোনও সাধারণ বানর নন। তিনি হনুমানের শরণ নেন।

• হনুমানের সঙ্গে অর্জুনেরও দ্বৈরথ ঘটেছিল। সেতুবন্ধ রামেশ্বরমে অবস্থান কালে অর্জুন এক ক্ষুদ্র বানরের সম্মুখীন হন। অর্জুন সেই বানরের সামনে গর্ব ভরে বলেন, বানরদের সাহায্য না নিয়ে রামচন্দ্র একাই সেই সমুদ্র-সেতু নির্মাণ করতে পারতেন। তির যোজনা করেই তো সেটা করা সম্ভব ছিল। ক্ষুদ্র বানর অর্জুনকে চ্যলেঞ্জ জানায় ওই কাজ করে দেখাতে। অর্জুন ব্যর্থ হলে ক্ষুদ্র বানরের ছদ্মবেশ ত্যাগ করে হনুমান প্রকট হন। অর্জুন তাঁর শরণ নিলে, তিনি অর্জুনের রথশীর্ষে অধিষ্ঠান করবেন বলে বর দেন। অর্জুনের রথের উপরে তাই ‘কপিধ্বজ’ শোভা পায়।

• কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শেষ হলে অর্জুন রথ থেকে নেমে আসেন। কৃষ্ণ, হনুমানকে ধন্যবাদ জানান রথশীর্ষে অবস্থান করার জন্য। হনুমানও ধ্বজা-রূপ ত্যাগ করে স্বমূর্তি ধারণ করেন। তিনি বিদায় নিলে রথটি ভস্মে পরিণত হয়। হতবাক অর্জুনকে কৃষ্ণ জানান, ভয়ানক সব অস্ত্র এই রথের উপরে বর্ষিত হয়েছে। হনুমান রক্ষা না-করলে রথটি অনেক আগেই ভস্মীভূত হতো।

• মাত্র চারজন ব্যক্তি শ্রীকৃষ্ণের মুখ থেকে ভগবদ্গীতা শুনেছিলেন এবং বিশ্বরূপ দর্শন করেছিলেন। এঁরা হলেন— অর্জুন, সঞ্জয়, বর্বরিক এবং ঘটোৎকচ। কিন্তু একথা মনে রাখতে হবে, ধ্বজ হিসেবে রথশীর্ষে অবস্থানের কারণে হনুমানও ছিলেন সেই তালিকায়।[৭]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Brian A. Hatcher (২০১৫)। Hinduism in the Modern WorldRoutledgeআইএসবিএন 9781135046309 
  2. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Williams2008p146 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  3. Bibek Debroy (২০১২)। The Mahabharata: Volume 3। Penguin Books। পৃষ্ঠা 184 with footnote 686। আইএসবিএন 978-0-14-310015-7 
  4. Swami Parmeshwaranand। Sarup & Sons। পৃষ্ঠা 411–। আইএসবিএন 978-81-7625-226-3 http://books.google.com/books?id=nmmkM0fVS-cC&pg=PA411। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১২  |শিরোনাম= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  5. Philip Lutgendorf (১১ জানুয়ারি ২০০৭)। Hanuman's Tale: The Messages of a Divine Monkey। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 31–32। আইএসবিএন 978-0-19-530921-8। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১২ 
  6. Philip Lutgendorf (১১ জানুয়ারি ২০০৭)। Hanuman's Tale: The Messages of a Divine Monkey। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 189। আইএসবিএন 978-0-19-530921-8। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১২ 
  7. http://ebela.in/entertainment/how-hanuman-was-reffered-in-the-mahabharata-dgtl-1.402318