স্বেচ্ছাসেবী কাজ

স্বেচ্ছাসেবী কাজ বলতে সাধারণত স্বার্থহীন কাজকে বোঝায় যা একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো আর্থিক বা সামাজিক লাভের জন্য করে না, "একজন ব্যক্তি বা দল বা সংস্থার সুবিধাৰ্থে করে"।[১] স্বেচ্ছাসেবী কাজ দক্ষতা বিকাশের জন্যও অতি পরিচিত এবং প্রায়ই সৎকর্ম প্রচার অথবা মানুষের জীবনমান উন্নত করার উদ্দেশ্যে করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী কাজ, স্বেচ্ছাসেবক সেই সাথে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী উভয়ের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।[২] এটি সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের জন্য যোগাযোগ তৈরি করতেও করা হয়। অনেক স্বেচ্ছাসেবক তাদের কাজের ক্ষেত্র গুলোতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত, যেমন চিকিৎসাশাস্ত্র, শিক্ষা বা জরুরি উদ্ধারকার্য। অন্যরা প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা প্রদান করে, যেমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতিক্রিয়া হিসাবে।

১৯১৯ সালের জুলাইয়ে বিশ্বের স্বেচ্ছাসেবকরা উইমেনস ইমার্জেন্সি কর্পস (পরে উইমেনস স্বেচ্ছাসেবক রিজার্ভ) এর মাধ্যমে ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী মোকাবেলার জন্য কুইন্সল্যান্ডের ইথাকা এসেছিলেন।
২০১২ সালের হারিকেন স্যান্ডির পরে স্বেচ্ছাসেবকরা ব্রোকলিন হাঁটার রাস্তা ঝাড়ুর সাহায্যে পরিষ্কার করছেন।
১৯৬১ সালের ২৮শে আগস্ট জন এফ. কেনেডি স্বেচ্ছাসেবকদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন।
লরা বুশ পিস কর্পস স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে ছবি তুলছেন।
২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে হারিকেন ক্যাটরিনার পরে স্বেচ্ছাসেবকরা হিউস্টন অ্যাস্ট্রোডোমে বেঁচে থাকাদের সহায়তা করছেন।

সামরিক সূত্রানুসারে, একজন সেচ্ছাসেবক  হলেন সেই ব্যক্তি যিনি সশস্ত্র বাহিনীতে, বাধ্যতামূলকভাবে নয় বরং নিজ ইচ্ছানুসারে যোগদান করেন এবং সাধারণত বেতন পান।

ব্যুৎপত্তি ও ইতিহাসসম্পাদনা

ক্রিয়া পদটি প্রথম নথিভুক্ত হয়েছিল ১৭৫৫ সালে। ধারণা করা হয়, ১৬০০, এটি বিশেষ্য পদ স্বেচ্ছাসেবক volunteer থেকে উদ্ভূত, যেটি মধ্য ফরাসি voluntaire থেকে এসেছে, যার অর্থ  "যিনি নিজেকে সামরিক বাহিনীতে যোগদানের জন্য বিবেচনা করেন"।[৩] অ-সামরিক অর্থে, শব্দটি ১৬৩০ এর দশকে প্রথম নথিভুক্ত হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবী শব্দটির আরও সাম্প্রতিক ব্যবহার রয়েছে- এখনও প্রধানত সামরিক - এটি নাগরিক সেবার সাথে মিলিয়ে ফেলা হয়।[৩][৪] সামরিক সূত্রানুসারে, একজন সেচ্ছাসেবক সেনা হল একটি সামরিক বাহিনী, যার সৈন্যরা বাধ্যতামূলকভাবে নয় বরং সেচ্ছায় চাকরিতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবীরা "বিনা মূল্যে" কাজ করেন না এবং তাদের নিয়মিত বেতন দেওয়া হয়।

১৯ শতকসম্পাদনা

এই সময়ে, আমেরিকায় মহা জাগরণ ঘটেছিলো। মানুষ সুবিধাবঞ্চিত হবার বিষয় সচেতন হয়েছিল এবং দাসত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কারণ বুঝতে পেরেছিলো। কম বয়সী জনসাধারণ তাদের সমাজের অভাবী লোকদের সাহায্য করা শুরু করে। ১৮৫১ সালে, প্রথম ওয়াইএমসিএ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছিল, প্রথম ওয়াইডাব্লুসিএ দ্বারা যা  সাত বছর পরে অনুসরণ করা হয়েছিল। আমেরিকা গৃহযুদ্ধের সময়, মহিলারা সৈন্যদের সেলাই সরবরাহ করে স্বেচ্ছাসেবীর কাজ করেছিলেন এবং "যুদ্ধক্ষেত্রের অ্যাঞ্জেল" ক্লারা বার্টন এবং স্বেচ্ছাসেবীদের একটি দল তাদের সাহায্য প্রদান শুরু করেছিলেন। বার্টন ১৮৮১  সালে আমেরিকান রেড ক্রস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ১৮৮৯  সালে জনস্টাউন বন্যার ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ত্রাণ তৎপরতা-সহ, দুর্যোগে ত্রাণ সরবরাহের জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের একত্রিত করতে শুরু করেছিলেন।

২০ এবং ২১ শতকসম্পাদনা

স্যালভেশন আর্মি  হচ্ছে অন্যতম পুরোনো ও বৃহত্তম সংস্থা যা সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পক্ষে কাজ করছে। যদিও এটি একটি দাতব্য সংস্থা, তবে শুরু থেকেই এটি অনেক সংখক স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচির আয়োজন করেছে।[৫] উনিশ শতকের পূর্বে, লোকদের প্রয়োজনে সহায়তা করার জন্য কিছু আনুষ্ঠানিক দাতব্য সংস্থা ছিল।

২০ শতকের প্রথম কিছু দশকে, অনেকগুলো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শুরু হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল রোটারি ইন্টারন্যাশনাল, কিয়ানিস ইন্টারন্যাশনাল, এসোসিয়েশন অফ জুনিয়র লিগ্স ইন্টারন্যাশনাল, আর লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল।

দ্য গ্রেট ডিপ্রেশন একটি প্রথম বৃহৎপরিসরে, দেশব্যাপী একটি নির্দিষ্ট প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী কাজের মধ্যে সমন্বয়ের উদ্যোগ দেখিয়েছিলো।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক অফিস স্বেচ্ছাসেবীদের তত্ত্বাবধান করে,যারা সামরিক এবং অসামরিক মানুষদের বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণ করেছিল, যার মধ্যে ছিল সরবরাহ সংগ্রহ, ছুটিতে থাকা সৈন্যদের বিনোদন, এবং আহতদের দেখাশোনা করা।[৫]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে, লোকেরা তাদের পরোপকারী আবেগের কেন্দ্রবিন্দুকে অন্য বিষয় গুলিতে স্থানান্তরিত করে, যার মধ্যে ছিল দরিদ্রদের সহায়তা করা এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজের জন্য বিদেশ গমন। ১৯৬০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, পিস কর্পস ছিল একটি বড় অগ্রগতি। ১৯৬৪ সালে যখন রাষ্ট্রপতি লিন্ডন বি জনসন দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন, স্বেচ্ছাসেবার   সুযোগগুলি প্রসারিত হতে শুরু করে এবং পরবর্তী কয়েক দশক ধরে অব্যাহত থাকে। অনেক স্বেচ্ছাসেবা কেন্দ্র গড়ে উঠায়, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ অনুসন্ধান করা আরও আনুষ্ঠানিক হয়ে ওঠে  এবং কাজ সন্ধান করার নতুন উপায় হয় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব। [৫]

কর্পোরেশন ফর ন্যাশনাল অ্যান্ড  কমিউনিটি সার্ভিস অনুসারে (২০১২) প্রায় ৬৪.৫ মিলিয়ন আমেরিকান বা ২৬.৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী, ৭.৯  বিলিয়ন ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করেছে যার মূল্য ১৭৫ বিলিয়ন ডলার । এটি হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় ১২৫-১৫০ ঘণ্টা প্রতি বছর অথবা প্রতি সপ্তাহে ৩ ঘণ্টা যেখানে প্রতি ঘণ্টা ২২ডলার হারে মূল্য হবে।  স্বেচ্ছাসেবীর সময় যুক্তরাজ্যে একরকম; অন্যান্য দেশের উপাত্ত পাওয়া যায়নি।

১৯৬০ সালে কিউবার তথাকথিত বিপ্লবী যুদ্ধ শেষ হবার পর, আর্নেস্তো চে গুয়েভারা স্বেচ্ছাসেবীর কাজের ধারণা তৈরি করেছিলেন। এটা তৈরি করা হয়েছিলএই উদ্দেশ্যে যে, দেশজুড়ে কর্মচারীরা  তাদের কাজের ক্ষেত্র গুলিতে কয়েক ঘণ্টা স্বইচ্ছায় কাজ করবে।

ধরণসম্পাদনা

স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম শিক্ষণীয়-কাজ কর্মসূচিগুলিতে ব্যবহৃত হয়সম্পাদনা

অনেক স্কুলের সকল শিক্ষার স্তরেই শিক্ষণীয়-কাজ কর্মসূচিগুলির জন্য নিবেদন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবীর কাজের মাধ্যমে সমাজের সেবা করার সুযোগ দেয়া হয় যা তাদের শিক্ষামূলক কৃতিত্বে যোগ হয়।[৬] জ্যানেট এইলার এবং ডিউইট  ই.গিলেস, জেআর. রচিত ওয়ার্স দা লার্নিং ইন সার্ভিস-লার্নিং? এর ভূমিকাতে আলেক্সান্ডার আস্তিন বলেছেন, "... আমরা শিক্ষণীয়-কাজকে উচ শিক্ষায় আরো বেশি ব্যাপকভাবে গ্রহণ করতে চাই কারণ আমরা দেখতে পাই এটা একটা শক্তিশালী উপায় শিক্ষার্থীদের আরো বেশি যত্নশীল এবং দায়িত্বপূর্ণ অভিভাবক আর নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলার এবং কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ভালোভাবে 'সমাজ-সেবার' প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ করার।" [৭] শিক্ষণীয়-কাজ সম্পর্কে সংজ্ঞায়িত করার সময় হার্ভার্ড-এর  চিকিৎসাশাস্ত্র বলেছে, "শিক্ষণীয়-কাজ পুঁথিগত শিক্ষা এবং স্বেচ্ছাসেবী নাগরিক সেবার মধ্যে পারস্পরিক শক্তিশালী উপায় যোগসূত্র স্থাপন করে।… শিক্ষণীয়-কাজকে একধরণের অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্কের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা যায়: শিক্ষার্থীরা সেবা দানকারী সংস্থা ও গোষ্ঠী থেকে শিক্ষা পায় এবং, বিনিময়ে, মানুষ এবং গোষ্ঠীর প্রয়োজন পূরণে শক্তি, বুদ্ধিমত্তা, প্রতিশ্রুতি, সময় আর দক্ষতা দেয়।"[৬] শিক্ষণীয়-কাজের জন্য স্বেচ্ছাসেবীর কাজ করলে এর ফলশ্রুতিতে দেখা যায় এটি শরীর আর মন দুটোই সংযুক্ত করে, এইভাবে একটি শক্তিশালী শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়; জ্যানেট এইলার এবং ডিউইট  ই. গিলেস, এর মতানুসারে, এর সাফল্য হলো প্রকৃত ঘটনা থেকে "…শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলে তাদের উন্নতির জন্য…" [৭]:১–২,৮ যদিও সবার কাছে ন্যায়সঙ্গত পথ হিসেবে বিবেচিত নয়, শিক্ষণীয়-কাজের যৌক্তিকতা নিয়ে গবেষণা অনেক বেড়েছে। জ্যানেট এইলার এবং ডিউইট  ই.গিলেস , শিক্ষণীয়-কাজ কর্মসূচির গুরূত্ব নিরুপন করতে মার্কিন কলেজের শিক্ষার্থীদের  উপর একটি জাতীয় পাঠপরীক্ষা করেছেন, [৭]:xvi এইলার এবং গিলেস এর মতে, এই পাঠপরীক্ষাগুলো করা হয়েছে একটি সেমিস্টার নাগরিক সেবার পূর্বে এবং পরে, শিক্ষার্থীদের উপর শিক্ষণীয়-কাজের প্রভাব পরীক্ষা করতে এটি করা হয়েছে।"[৭]:xvi শিক্ষণীয়-কাজের সাথে জড়িত শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে তারা তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন এভাবে: "শিক্ষার্থীরা শিক্ষণীয়-কাজ পছন্দ করে। যখন আমরা একদল শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষণীয়-কাজ সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা আলোচনা করছিলাম, তাদের উৎসাহ ছিল সুস্পষ্ট।… এটা পরিষ্কার [শিক্ষার্থীরা] বিশ্বাস করে যে, যা তারা শিক্ষণীয়-কাজ থেকে অর্জন করে তা গুণগতভাবে গতানুগতিক শিক্ষা থেকে পৃথক।" [৭]:১–২

দক্ষতা-ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী কাজসম্পাদনা

দক্ষতা-ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী কাজ ব্যক্তিবর্গের বিশেষ দক্ষতা আর মেধাকে সহায়ক করে ফলে এটি শক্তিশালী করে অলাভজনক স্থায়ী কাঠামোকে, বিকশিত হতে সাহায্য করে এবং সাফল্যের সাথে তাদের উদ্দেশ পূরণের লক্ষ্যে সামর্থ্য বজায় রাখে। [৮] এটি গতানুগতিক স্বেচ্ছাসেবী কাজের বিপরীত, যেখানে বিশেষ প্রশিক্ষণ জরুরি নয়। স্বাধীন বিভাগের দ্বারা গতানুগতিক স্বেচ্ছাসেবী কাজের গড় ঘণ্টার মূল্য ঠিক করা হয় প্রতি ঘণ্টায় ২৪.৬৯ ডলার।[৯] সময়ের বাজার মূল্য অনুসারে,দক্ষতা-ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী কাজকে মূল্যায়ন করা হয় প্রতি ঘণ্টায় ৪০–৫০০ ডলার। [১০]

উন্নয়নশীল দেশে স্বেচ্ছাসেবী কাজসম্পাদনা

স্বেচ্ছাসেবী কাজের একটি জনপ্রিয় প্রকার হলো তরুণদের মধ্যে,মূলত যেসব শিক্ষার্থী আর স্নাতকদের পড়াশোনায় কয়েক বছর বিরতি থাকে, তারা ভ্রমণ করে, উন্নয়নশীল দেশের সম্প্রদায়ের স্থানীয় সংস্থার প্রকল্পে কাজ করে। এই কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ইংরেজি শিক্ষা, অনাথাশ্রমগুলোতে কাজ করা, সংরক্ষণ, বেসরকারি সংস্থা এবং চিকিৎসাবিদ্যা বিষয়ক কাজে সাহায্য করা। এই দেশগুলোর সম্প্রদায় এবং সংস্থাকে উপকৃত করা ছাড়াও আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী কাজের প্রায়শই মূল লক্ষ থাকে অংশগ্রহণকারীদের মূল্যবান দক্ষতা এবং জ্ঞান প্রদান করা ।[১১]  

ভার্চুয়াল স্বেচ্ছাসেবী কাজসম্পাদনা

ই-স্বেচ্ছাসেবী কাজ বা অনলাইন স্বেচ্ছাসেবী কাজ-ও বলা হয়, ভার্চুয়াল স্বেচ্ছাসেবী কাজে একজন সেচ্ছাসেবক কাজ শেষ করে, সম্পূর্ণ অথবা আংশিক, সংস্থার বাইরে থেকে কাজে সহযোগিতা করে। তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং বাসা, স্কুল, টেলিসেন্টার অথবা কম্পিউটার বা ইন্টারনেটযুক্ত যন্ত্র যেমন পিডিএ অথবা স্মার্টফোন এর মাধ্যমে কাজ করে।ভার্চুয়াল স্বেচ্ছাসেবী কাজ সাইবার সেবা,টেলিমেন্টরিং আর টেলেটউটোরিং ছাড়াও আরো অন্যান্য নামে পরিচিত। ভার্চুয়াল স্বেচ্ছাসেবী কাজ অনেকটা টেলিকমুটিং এর ন্যায়, এছাড়াও পার্থক্য হলো অনলাইন কর্মচারীরা বেতন পায়, এরা অনলাইন সেচ্ছাসেবক যারা বেতন পায় না। [১২][১৩]

মাইক্রো-স্বেচ্ছাসেবী কাজসম্পাদনা

মাইক্রো-স্বেচ্ছাসেবী কাজটি করা হয় একটি ইন্টারনেট যুক্ত যন্ত্রের মাধ্যমে। একজন ব্যক্তি একটি বাড়তি সময়ে সাধারণত ক্ষুদ্র পরিসরে, অবৈতনিক ভাবে এই কাজটি  করে। মাইক্রো-স্বেচ্ছাসেবী কাজ ভার্চুয়াল স্বেচ্ছাসেবী কাজ থেকে স্বতন্ত্র এই অর্থে যে সাধারণত একজন স্বেচ্ছাসেবী ব্যক্তির এজন্য আবেদন প্রক্রিয়া, স্ক্রীনিং প্রক্রিয়া, অথবা প্রশিক্ষণ সময়ের প্রয়োজন পরে না। [১৪][১৫]  

পরিবেশগত স্বেচ্ছাসেবী কাজসম্পাদনা

পরিবেশগত স্বেচ্ছাসেবী কাজ বলতে সেই স্বেচ্ছাসেবকদের  (https://volunteerencounter.com/) কাজ কে বোঝায় যারা পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা বা সংরক্ষণের কাজে জড়িত।স্বেচ্ছাসেবকরা অনেক ধরনের কাজ করে থাকে যার মধ্যে রয়েছে পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ, বাস্তুসংস্থান পুনরূদ্ধার যেমন পুনরায় গাছপালা লাগানো এবং আগাছা অপসারণ, বিপন্ন পশুপাখিকে রক্ষা করা, আর অন্যান্যদের প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া।[১৬]  

জরুরী পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবী কাজসম্পাদনা

স্বেচ্ছাসেবী কাজ প্রায়শই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোতে যেমন সুনামি, বন্যা, খরা, হারিকেন এবং ভূমিকম্প থেকে পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদহারণস্বরূপ বলা যায়,১৯৯৫ সালের বৃহৎ হাঁসিন-আওয়াজি ভূমিকম্প জাপানের জন্য ছিল এক চরমমুহূর্ত, যা তখন প্রথম অনেক স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকম্প প্রতিক্রিয়ার জন্য একত্রিত করে। ২০০৪ সালের ইন্ডিয়ান ওশান  ভূমিকম্প এবং সুনামি পৃথিবীর অনেক বিরাট সংখক স্বেচ্ছাসেবকদের আকৃষ্ট করে, যাদেরকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থাসমূহ আর জাতিসংঘ থেকে মোতায়েন করা হয়।[১৭][১৮]

২০১২ সালের হারিকেন স্যান্ডি সংকটের সময়, অকুপাই স্যান্ডি স্বেচ্ছাসেবকরা, একটি প্রয়োজনীয় সাহায্য প্রদানের জন্য দ্রুত-প্রতিক্রিয়া দল গঠন করে যা ঝড়ের পূর্বে আর পরে, খাদ্য, আশ্রয় থেকে শুরু করে পুনর্বাসন হওয়া পর্যন্ত সহযোগিতা করবে। এটি একটি কর্মক্ষেত্রে পারস্পরিকতার উদাহরণ, যেখানে সম্পদসমূহকে একত্রিত করা আর সহযোগিতা করা এবং সামাজিক মাধ্যমে সাহায্য করা।

স্কুলে স্বেচ্ছাসেবী কাজসম্পাদনা

বিশ্বজুড়ে দরিদ্র স্কুলগুলির অনুদানের জন্য সরকারী সহায়তা বা স্বেচ্ছাসেবী এবং বেসরকারী তহবিলের উপর নির্ভর করতে হয়, যথাযথ ভাবে কার্যক্রম চালানোর জন্য। কিছু দেশে, যখন আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়, স্বেচ্ছাসেবক এবং অনুদানের প্রয়োজন অনেক বেড়ে যায়।[১৯] স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য স্কুল ব্যবস্থায় অনেক ধরনের সুযোগ আছে। যদিও, স্কুল ব্যবস্থায় স্বেচ্ছাসেবক  হবার জন্য খুব বেশি যোগ্যতার দরকার হয় না। যদি একজন একটি উচ্চ বিদ্যালয় বা টিইএফএল (বিদেশী ভাষা হিসাবে ইংরেজি শেখানো) স্নাতক বা কলেজ ছাত্র হয়, তবে বেশিরভাগ স্কুলেই শুধু স্বেচ্ছাসেবী এবং নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা এই যোগ্যতার দরকার হয় ।[২০]

যে কোনো ধরনের স্বেচ্ছাসেবী কাজের সুবিধাগুলোর মতোই স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থী এবং স্কুলের জন্য রয়েছে বড় পুরস্কার। বস্তুগত কোনো পুরস্কার নয়, স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের জীবন বৃত্তান্ততে প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতার তথ্য যোগ করতে পারে।স্বেচ্ছাসেবকরা যারা সাহায্যের জন্য ভ্রমণ করে তারা বিদেশী সংস্কৃতি আর ভাষা শিখে।

স্কুলে স্বেচ্ছাসেবী কাজ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাড়তি শিক্ষণীয় পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে আর স্থানীয় শিক্ষকদের শিক্ষাদনে যে ঘাটতি থাকে তা দূর করতে সাহায্য করে। শিক্ষাদান এবং অন্যান্য স্কুল কার্যক্রমের সময় সংস্কৃতিক আর ভাষার আদান-প্রদান হচ্ছে শিক্ষার্থী আর স্বেচ্ছাসেবক এই দুজনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।[২০] 

কর্পোরেট স্বেচ্ছাসেবী কাজসম্পাদনা

বেনেফ্যাক্টো, একটি কমিশন, কর্পোরেট স্বেচ্ছাসেবী কাজকে বর্ণনা করেছে এভাবে "কোম্পানিগুলি তাদের কর্মীদের যে ভাতা প্রদান করে বার্ষিক কর্ম বিরতির সময়, সেটা তারা পছন্দ মতো অনুদান হিসেবে ব্যবহার করে স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য।"[২১]

ফরচুন ৫০০ এর অনেক সংখক কোম্পানিই তাদের কর্মীদের স্বেচ্ছাসেবী কাজের জন্য অনুমতি প্রদান করে।এই ধরনের বৈধ করা এমপ্লয়ী ভলান্টিয়ারিং প্রোগ্রামস (এভিপিস), যা এই নামেও পরিচিত এমপ্লয়ার সাপোর্টেড ভলান্টিয়ারিং (এসভি), কে কোম্পানিগুলির স্থায়িত্বের জন্য চেষ্টা আর তাদের সামাজিক দায়িত্বপূর্ণ কাজকর্মের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় [২২] ফরচুন ৫০০ এর প্রায় ৪০% কোম্পানি আর্থিক অনুদান প্রদান করে , যা স্বেচ্ছাসেবী কাজের অনুদান হিসেবে ধরা হয়, যা অলাভজনক, এটি সেই কর্মীদের বেছে নেয়ার জন্য একটি উপায় যারা তাদের নির্দিষ্ট পরিমান সময় গোষ্ঠীর স্বেচ্ছাসেবী কাজের জন্য দেয়।[২৩]

ভলান্টিয়ারর্মাচ এর তথ্য অনুসারে, কর্মী স্বেচ্ছাসেবী কাজের কার্যক্রমের সেবা যে সমাধান সরবরাহ করে, তা হচ্ছে কোম্পানিগুলির মূল চালক যারা উৎপাদন আর পরিচালনা করে ইভিপিগুলি, যেগুলি গড়ে তুলে ব্র্যান্ড সচেতনতা আর আকর্ষণ, ভোক্তাদের মধ্যে আস্থা ও আনুগত্যকে জোরদার করে,কর্পোরেট  ভাবমূর্তি এবং খ্যাতি বাড়ায়, কর্মীদের ধরে রাখে, কর্মীদের উৎপাদনশীলতা আর আনুগত্য বজায় রাখে, এবং কৌশলী লক্ষগুলোতে পৌঁছাতে একটি কার্যকর বাহন হিসেবে কাজ করে।[২৪]

২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে, ডেভিড ক্যামেরন যুক্তরাজ্যের সকল চাকরিজীবী যারা কোম্পানিতে কাজ করছেন তাদের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন যে ২৫০ এর-ও বেশি কর্মীকে ৩ দিনের বেতনসহ বাধ্যতামূলক স্বেচ্ছাসেবী কাজের জন্য ছুটি দেয়া হচ্ছে, যা তারা সে অর্থে ব্যবহার করলে এটি এক বছরে ৩৬০ মিলিয়ন ঘণ্টা বাড়তি একটি স্বেচ্ছাসেবী কাজ হিসেবে ধরা হবে।[২৫]

গোষ্ঠীর স্বেচ্ছাসেবী কাজসম্পাদনা

গোষ্ঠী স্বেচ্ছাসেবী কাজকে যুক্তরাষ্ট্রে বলা হয়, "নাগরিক সেবা", যা বিশ্বব্যাপী তাদের কাজকে বোঝায় যারা নিজেদের এলাকার গোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য কাজ করে। এই কাজ কেবল হয় সাধারণত লাভজনক সংস্থা, স্থানীয় সরকার আর গির্জা সমূহের মাধ্যমে নয়; বরং আরো হয় বিশেষভাবে বা অনানুষ্ঠানিক দলের মাধ্যমে যেমন বিনোদনমূলক খেলার দল।[২৬] 

গোষ্ঠীর স্বেচ্ছাসেবী কাজের সুবিধাসম্পাদনা

গোষ্ঠীর স্বেচ্ছাসেবার অনেক প্রমাণিত ব্যক্তিগত সুবিধা রয়েছে। একসঙ্গে কাজ করা একদল লোক যাদের রয়েছে আলাদা জাতিসত্তা, জন্মভূমি, এবং দৃষ্টিভঙ্গি প্রচলিত ধারণাগুলি হ্রাস করে দেয়। গোষ্ঠীর স্বেচ্ছাসেবা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যকেও উন্নত করার প্রমাণ রেখেছে।

জ্যানেট এইলার এবং ডিউইট ই.গিলেস, এর ওয়ার্স দা লার্নিং ইন সার্ভিস-লার্নিং? অনুসারে শিক্ষণীয়-কাজ আর অন্যের সেবা করার মধ্যে মগ্ন থাকার অনেক একাডেমিক আর ব্যক্তিগত ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। নতুন মানুষদের মাঝে থাকা আর একটি দলের সাথে একসঙ্গে কাজ করতে পাড়ার শিক্ষা একজনের দলগতকাজ এবং সম্পর্কের দক্ষতাগুলিকে উন্নত করতে সাহায্য করে, এটি প্রচলিত ধারণাকে হ্রাস করে, অন্যের সংস্কৃতির প্রতি উপলব্ধি বাড়ায়, আর তরুণদের যারা তাদের সাথে সম্পর্কিত এমন অন্যান্যদের খুঁজে বের করতে এটি কাজ করে।

এইলার এবং গিলেস উল্লেখ করেছেন যে একটি কলেজের শুরু আর শেষের সেমিস্টারের এক সপ্তাহে ৩ ঘণ্টা, নাগরিক সেবার সাথে যুক্ত থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক শ্রদ্ধাবোধ দেখা যায়। সেমিস্টারের শেষে যে শিক্ষার্থীরা শিক্ষণীয়-কাজে অংশগ্রহণ করেছিল, তাদের বলতে দেখা গেছে যে, তারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি শিখেছে তা হলো কারো সম্পর্কে ধারণা করে নেয়া উচিত নয়, এবং সব ধরনের মানুষদেরকেই মূল্যায়ন করা উচিত তার কারণ হলো সব ধরনের মানুষ কিছু একই রকমের গুণাবলী ধারণ করে।

গোষ্ঠীর স্বেচ্ছাসেবী কাজ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন আর কলেজ অভিজ্ঞতার জন্য একটি শক্তিশালী ভবিষ্যত হিসেবে কাজ করে। গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে যে, যেসব শিক্ষার্থীরা তাদের কলেজ শিক্ষার একটি পাঠ্য হিসেবে নাগরিক সেবাকে বেঁচে নিয়েছে তাদের শিক্ষার সাথে এর একটি বড় যোগসূত্র রয়েছে। (Astin, 1992;[27] Pascarella and Terenzini, 1991[28]) এছাড়াও, যেসব কলেজ শিক্ষার্থীরা গোষ্ঠীর স্বেচ্ছাসেবী কাজের প্রকল্পে যুক্ত হয়, তাদের কলেজ অভিজ্ঞতার বিবরণ থেকে দেখা যায় তাদের গোষ্ঠীর স্বেচ্ছাসেবী কাজের প্রকল্প শেষ হবার পর তাদের একাডেমিক শিক্ষার সাথে এর প্রচুর মিল রয়েছে।[২৯] ইউনিভার্সিটি হেলথ সেবার মতানুসারে, বিবরণ থেকে পাওয়া গিয়েছে যে, স্বেচ্ছাসেবী কাজ সুনিশ্চিতভাবে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিকভাবে মানসিক এবং আবেগপ্রবণ শারীরিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে।[৩০]

সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী কাজ  বা কল্যানমুলক স্বেচ্ছাসেবী কাজসম্পাদনা

ইউরোপের কিছু দেশের সরকারি আর বেসরকারি সংস্থাগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হাসপাতাল, স্কুল, স্মারক বহনকারী এবং কল্যাণ প্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় একটি সহায়ক অবস্থান প্রদান করে। অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী কাজের সাথে এর পার্থক্য হলো, একটি কঠোর আইনি বিধিমালা আছে যে, কোন সংস্থাগুলো স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়োগ করতে পারবে আর কত সময়ের জন্য একজন স্বেচ্ছাসেবক স্বেচ্ছাসেবী কাজে নিয়োজিত থাকতে পারবে। এই ধরনের নিয়মের ফলে, একজন স্বেচ্ছাসেবক একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ সরকার থেকে আয় করতে পারে। ইউরোপের সব থেকে বড় জনশক্তি রয়েছে, জার্মান ফেডারেল ভলান্টিয়ার্স সার্ভিস এর (Bundesfreiwilligendienst), যেটি ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করে, যার ২০১২ সালে ৩৫,০০০ এর বেশি ফেডারেল স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে।[৩১] ভলান্টারী সোশ্যাল ইয়ার (Freiwilliges Soziales Jahr) হচ্ছে অস্ট্রিয়া আর জার্মানি- এর সবচে পুরোনো প্রতিষ্ঠান।[৩২][৩৩]   

বৃহত্তর ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী কাজসম্পাদনা

২০১৪ সালের সোচি উইন্টার অলিম্পিকসে ২৫,০০০ সোচি অলিম্পিকস স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেছিল। তারা ২০ এরও বেশি কার্যক্ষেত্রে আয়োজকদের সাহায্য করেছিল: অতিথিদের সাথে অধিবেশন, নৌযাত্রায় সহযোগিতা, অনুষ্ঠানের শুরু আর সমাপ্তির আয়োজন, খাবার পরিবেশনদ্বারের আয়োজন, ইত্যাদি।স্বেচ্ছাসেবকদের আবেদন করার প্রক্রিয়া রাশিয়ার যেকোনো জাতি আর অন্যান্য দেশের জন্য উন্মুক্ত ছিল। সোচি ২০১৪ এর আয়োজক কমিটি প্রায় ২০০,০০০ আবেদনপত্র পেয়েছিলো, ৮ জন প্রার্থী প্রতি কার্যক্ষেত্রে জন্য। স্বেচ্ছাসেবকরা রাশিয়ার ১৭ টি শহরের ২৬ স্বেচ্ছাসেবক কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। অংশগ্রহণকারীদের অনেকের বয়স ১৭ থেকে ২২ বছর পর্যন্ত ছিল। এই সময়ই, ৫৫ বছরেরও বেশি বয়সের লোকেদের ৩০০০ আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকসে এদের অনেকেই কাজ করেছিল। এটি সমসাময়িক রাশিয়াতে অনেক বড় স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রমের প্রথম অভিজ্ঞতা ছিল।

রাশিয়ার ২০১৭ ফিফা কনফেডারেশনস কাপ এবং ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপসম্পাদনা

ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো রাশিয়া ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করে ২০১৮ সালের ১৪ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত। সেইসঙ্গে, এটাই প্রথমবার যখন বিশ্বকাপ খেলা ইউরোপ আর এশিয়া দুই জায়গায় অনুষ্ঠিত হবে। খেলাগুলি রাশিয়ার ১১ টি শহরের ১২ টি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।[৩৪]

২০১৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী কাজের কার্যক্রমে রাশিয়া আর অন্যান্য দেশের  সহস্র মানুষ যোগদান করে।

এই কার্যক্রমে বিভিন্ন পর্যায় ছিল: স্বেচ্ছাসেবকদের যোগদান, বাছাইকরণ আর প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা চলাকালীন তাদের কাজ সংগঠিত করা। ফিফা.কম এর মাধ্যমে ফিফা কনফেডারেশনস কাপ এবং ফিফা বিশ্বকাপ এর জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের যোগদান শুরু হয় ২০১৬ সালের ১লা জুন আর শেষ হয় ২০১৬ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর। কিছু সংখক স্বেচ্ছাসেবক ২০১৭ সালের ফিফা কনফেডারেশনস কাপ এ কাজ করেছিলেন: ১৭৩৩ জন লোক সেইন্ট পিটার্সবার্গ, ১৫৯০ জন মস্কো, ১২৬১ জন সোচি, ১২৬০ জন কাজান, মোট ৫৮৪৪ অংশগ্রহণকারী আয়োজকদের সাহায্য করেছিলেন।

২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ রাশিয়ার স্থানীয় আয়োজক কমিটির ১৭,০৪০  জন স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারা সংগঠিত হবে।

রাশিয়ার কিছু প্রধান উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান আয়োজক দেশের ১৫ সেচ্ছাসেবক কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রার্থী যারা রাশিয়াতে বসবাস করে তাদের নির্বাচিত করে: সিনারজি ইউনিভার্সিটি, মস্কো স্টেট  ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস, প্লেখানভ রাশিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ  ইকোনমিক্স, রাশিয়ান স্টেট সোশ্যাল ইউনিভার্সিটি, মস্কো অটোমোবাইল এন্ড রোড কনস্ট্রাকশন  ইউনিভার্সিটি, সেইন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ ইকোনমিক্স, সামারা স্টেট ইউনিভার্সিটি, ভলগা রিজিওন স্টেট একাডেমি অফ ফিজিক্যাল কালচার, স্পোর্ট এন্ড ট্যুরিজম, ডন স্টেট টেকনিকাল ইউনিভার্সিটি, অগরেব মর্ডোভিয়া স্টেট  ইউনিভার্সিটি, ভোলগোগ্রাড স্টেট  ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিজহনী নবগোরড, সামারা স্টেট এরোস্পেস  ইউনিভার্সিটি, ইম্মানুয়েল কান্ট্ বাল্টিক ফেডারেল ইউনিভার্সিটি, আর ইউরাল ফেডারেল ইউনিভার্সিটি।

অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচিত করা হয়েছে নিরপেক্ষভাবে।

অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই অন্তত ১৮ বছর বয়স হতে হবে, ইংরেজিতে ভালো, উচ্চ অথবা পেশাগত মাধ্যমিক শিক্ষা, আর দলগত কাজের দক্ষতা থাকতে হবে।

স্বেচ্ছাসেবকদের কেন্দ্র আর বিশ্বকাপ স্থানগুলোতে, স্বেচ্ছাসেবকদের নিরপেক্ষভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল।

স্বেচ্ছাসেবকরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে:

১। স্বীকৃতিপত্র প্রদান;

২। টিকেট বিক্রি এবং পরীক্ষা করা;

৩। রেডিও যোগাযোগ মাধ্যমের পেশাজীবীদের সহযোগিতা করা;

৪। অনুষ্ঠানের অতিথিদের জন্য অবসর আর বিনোদনমূলক কাজের ব্যবস্থা করা;

৫।খাবার পরিবেশনদ্বারের আয়োজন;

৬।অনুবাদের কাজ করা;

৭। আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দানকারীদের সাথে কাজ করা;

৮। চিকিৎসা কাজে সহযোগিতা করা আর ডোপিং নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি আয়োজন করা;

৯।গণমাধমের কাজে সহযোগিতা করা;

১০।অনুষ্ঠানের খেলোয়াড় আর অতিথিদের আগমন এবং প্রস্থান আয়োজন করা;

১১। গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের সাথে কাজ করা;

১২। খেলোয়াড় আর রেফারিদের সহযোগিতা করা;

১৩। খেলোয়াড় আর অতিথিদের বাসস্থানের জন্য সহযোগিতা করা;

১৪। অতিথিদের নৌযাত্রায় সহযোগিতা করা;

১৫। টেলিভশন আর রেডিও-তে প্রচারে সহযোগিতা করা;

১৬। পরিবহনের আয়োজন করা;

১৭। সেচ সেবকদের পরিচালনা করা;

১৮। স্টেডিয়ামের কার্য প্রণালীতে সহযোগিতা করা;

১৯। ফিফার সামাজিক এবং পরিবেশগত প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পর্যবেক্ষণ;

২০। চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠানের শুরু আর সমাপ্তির আয়োজন করা।

অনুষ্ঠানের শুরু হবার পূর্বে তাদের কাজ শুরু হয়েছিল: ২০১৭ সালের ১০ই মে ২০১৭ ফিফা  কনফেডারেশন্স কাপ, আর ২০১৮ সালের ১০ই মে ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ এর জন্য।

২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম ঐতিহ্য: গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রকল্পগুলোর জন্য রাশিয়ার জাতীয় প্রতিযোগিতাসম্পাদনা

২০ শে অক্টোবর ২০১৭ সালে,গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রকল্পগুলোর জন্য রাশিয়ার জাতীয় প্রতিযোগিতা "২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম ঐতিহ্য" ঘোষণা করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় প্রায় ১৫০০ লোক যুক্ত হয়: আবেদনপ্রার্থীরা হচ্ছে ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম আর শহরের ভবিষৎ স্বেচ্ছাসেবক।

প্রতিযোগিতার চিন্তাটি ছিল যে, যে কেউ প্রকল্প জমা দিতে পারবে যা রাশিয়ার শহরের বাসিন্দাদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে রাশিয়ার ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে আর চ্যাম্পিয়নশিপ শেষে একটি ঐতিহ্য হিসেবে কাজ করবে।

প্রত্যাশা করা হয় প্রকল্পগুলো থেকে বাস্তব (শিল্প সংক্রান্ত কর্ম, অতিথি আর বাসিন্দাদের জন্য শহরের আকর্ষণীয় জায়গা, উন্মুক্ত খেলার স্থান,দেত্তয়ালের ছবি, শহরের পার্কগুলোর উন্নত জায়গা, সিনেমা, ইত্যাদি) আর অধরা (অনুষ্ঠানসমূহ, অধিবেশনগুলো, উৎসবসমূহ, প্রদর্শনীর) ঐতিহ্যের সৃষ্টি হবে।

২৬টি প্রকল্প চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয় এবং রাশিয়া ২০১৮ স্থানীয় আয়োজক কমিটির আর ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজক শহরের সমর্থন পায়। নির্বাচকদের মধ্যে ছিলেন রাশিয়া ২০১৮ স্থানীয় আয়োজক কমিটির জেনারেল ডিরেক্টর এলেক্সেই সরোকিন, রাশিয়ার ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ এর রাষ্ট্রদূত এলেক্সেই স্মার্টিন এবং ফেডারেল ট্যুরিজম এজেন্সীর প্রধান পরামর্শদাতা সভেৎলানা সের্গিবা।

কিছু প্রকল্প সংমিশ্রণ অথবা আরো উন্নত করা হয় স্থানীয় আয়োজক কমিটির দ্বারা।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছিলো: মাদের জন্য ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ, পুনরায় ব্যবহার যোগ্য প্লাষ্টিক দ্বারা ঢালু পথ তৈরী, তোমার চ্যাম্পিয়নশিপ স্টিকার প্যাক ইত্যাদি।[৩৫]

স্বেচ্ছাসেবা দিবস, সপ্তাহ এবং বর্ষ সম্পাদনা

নির্বাচিত দিন, সপ্তাহ এবং বর্ষ পালন করা হয় একটি দেশে অথবা এগুলো জাতিসংঘ দ্বারা নির্বাচিত হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী কাজ/ নাগরিক সেবাকে উৎসাহিত করতে

  • বিশ্বব্যাপী তরুণ সেবা দিবস
  • আন্তর্জাতিক সেচ্ছাসেবক দিবস
  • সেচ্ছাসেবকদের আন্তর্জাতিক বর্ষ 
  • হাত মিলিতকরণ দিবস
  • ম্যান্ডেলা দিবস
  • এমএলকে সেবা দিবস
  • মিটজবাহ দিবস
  • সহানুভূতি দিনের এলোমেলো কার্যক্রম
  • সেবা দিবস
  • পার্থক্য তৈরির একটি দিন
  • বিশ্ব সহানুভূতি দিবস

রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পাদনা

আধুনিক সমাজের একটি পরিচিত গুণ হলো মানুষের একে অপরকে সাহায্য করা; স্বেচ্ছাসেবা কাজের দ্বারা শুধু অন্যদের সহযোগিতা করা হয় না, বরং তা স্বেচ্ছাসেবা দেয়া ব্যক্তিটির ব্যক্তিগত পর্যায়ে সুবিধা দেয়।[৩৬] একই ধরনের উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও, স্বেচ্ছাসেবক এবং রাষ্ট্র প্রদত্ত সেবার মধ্যে চাপা উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। এই ধরনের চাপা উত্তেজনা কমানোর জন্য, বেশিরভাগ রাষ্ট্রই নীতি তৈরী করেছে আর আইন পাস করেছে যা সরকারের অংশীদার এবং তাদের স্বেচ্ছাসেবী প্রতিনিধিদের ভূমিকা আর সম্পর্কগুলো স্পষ্ট করে; এই নিয়ম প্রত্যেক পক্ষের স্থান নির্ধারণ করে এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ, সামাজিক, প্রশাসনিক আর আর্থিক সহযোগিতা নির্ধারণ করে।

এটা ঠিক তখন গুরুত্বপূর্ণ যখন কিছু স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রম রাষ্ট্রের প্রধানদের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয় (যেমন, ২৯ শে জানুয়ারী ২০০১, প্রেসিডেন্ট বুশ সতর্ক করেছেন যে সেচ্ছাসেবক দল সম্পূরক— দখল করবে না— সরকারের প্রতিনিধিদের কাজ)। [৩৭]

স্বেচ্ছাসেবী কাজ যা রাষ্ট্রকে উপকৃত করে কিন্তু শ্রম ইউনিয়নগুলোকে রাগান্বিত করে কারণ তাদের বেতনভুক্ত প্রতিনিধিদের এতে চ্যালেঞ্জ করা হয় যারা তাদের স্বেচ্ছাসেবী কাজের জন্য বেতন পায়; এটি মূলত স্বেচ্ছাসেবক দমকল বিভাগের মতো সম্মিলিত বিভাগগুলোতে দেখা যায়।

বিদেশী অনুদানের অসুবিধাসমূহসম্পাদনা

স্বেচ্ছাসেবী কাজের আদর্শ, বিদেশী অনুদানের অসুবিধাগুলো দেখা যায় যখন এটি জাতীয় সীমানার বাইরে প্রয়োগ করা হয়। স্বেচ্ছাসেবক যাদের একটি দেশ থেকে অন্য দেশে পাঠানো হয় তাদের উপস্থিতি সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন আর অনুদান গ্রহণকারী জাতীয় সরকারের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব হিসেবে দেখা হয়।

তাই কারণগুলো গুরুত্বপূর্ণ যখন রাষ্ট্রগুলো অনুদান পাঠানোর প্রস্তাব দেয় আর যখন এই প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করা হয়, বিশেষত যদি অনুদান দানকারীরা সাহায্য স্থগিত বা সব বন্ধ করে দেয়ার প্রস্তাব রাখে। তিন ধরনের শর্ত গড়ে উঠতে দেখা গেছে:

১। আর্থিক দায়িত্ব: স্বেচ্ছাসেবকরা লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করেছে কিনা তা নিশ্চিত করতে অর্থ পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকতে হবে

২। নীতি সংশোধন: সরকার অনুরোধ করে যে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কিছু নির্দিষ্ট সামাজিক, আর্থিক, বা পরিবেশগত নীতিগুলো অবলম্বন করতে হবে; প্রায়ই, ঐতিহ্যগতভাবে সবচেয়ে বিতর্কমূলক হচ্ছে সেবাগুলোর বেসরকারিকরণ করা

৩। উন্নয়নের উদ্দেশ্যসমূহ: উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক লক্ষ্যগুলো প্রাপ্তির জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে নিতে বলা  

কিছু আন্তর্জাতিক সেচ্ছাসেবক সংস্থা তাদের প্রাথমিক লক্ষ্যকে সংজ্ঞায়িত করে পরার্থবাদী হিসেবে: উন্নয়নশীল পৃথিবীর দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করা আর মানুষের জীবনের মান উন্নয়ন করা, (অর্থাৎ ভলান্টারী সার্ভিসেস ওভারসিস এর আছে প্রায় ২০০০ দক্ষ পেশাজীবী সেচ্ছাসেবক যারা তাদের অভিজ্ঞতাকে স্থানীয় লোকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয় যেন তারা ফেরত চলে আসলেও স্বেচ্ছাসেবী দক্ষতাগুলো সেখানে বজায় থাকে)। যখনই ধরনের সংস্থাগুলো সরকারের অংশীদার হিসেবে কাজ করে, ফলাফল হয় অসাধারণ।যদিও, যখন অন্যান্য সংস্থা বা পৃথক প্রথম বিশ্বের সরকারগুলো সেচ্ছাসেবক দলগুলোর সমর্থন করে তখন প্রশ্ন দেখা দেয় সংস্থাগুলো বা সরকারগুলো আসল উদ্দেশ্য দারিদ্রতা দূরীকরণ কিনা।  পরিবর্তে অনেকসময়, সম্পদ তৈরী করা কিছু দরিদ্রের জন্য অথবা এমন নীতি তৈরী করা যা দাতা রাষ্ট্রের জন্য উপকারী এমন তথ্য পাওয়া গিয়েছে।[৩৮] অনেক অল্প আয়ের দেশগুলোর অর্থনীতি শিল্পায়নের ফলে প্রাচুর্য আর বিনিয়োগের ফলে বিকাশ না হবার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর একটি কারণ হলো উন্নয়নের সহযোগিতার পথ হিসেবে অনেক তৃতীয় বিশ্বের সরকারগুলোকে সেই উন্নয়নের নীতিগুলো অনুসরণ করতে বলা যেগুলো অপচয়ী, বিপথে চালিত করে, অথবা অনুৎপাদনশীল; কিছু নীতিগুলো এতই ধ্বংসাত্মক হয় যে অর্থনীতি টেকসই হতে পারেনা বাইরের সাহায্য ছাড়া।[৩৯] 

অবশ্য,স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবার কাজকে এক ধরনের অবদান হিসেবে বিবেচনা করে অনুদান দেবার কিছু প্রস্তাব স্বেচ্ছাসেবী কাজের সাধারণ মনোভাবকে বিকৃত করেছে, অর্থাৎ, বিদ্যমান শর্তাদির জন্য প্রয়োজন স্থানীয় মানুষের আচরণের পরিবর্তন যেন তারা দাতাদের অনুদান পেতে পারে। এটাকে প্রাপকদের জন্য পৃষ্ঠপোষকতা সম্পন্ন আর অবমাননাকর হিসেবে দেখা যেতে পারে কারণ প্রাপকদের প্রয়োজনের তুলনায় অনুদানটি দাতাদের নীতির লক্ষ্যটিকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে।

নৈতিক সম্পদ, রাজনৈতিক মূলধন এবং নাগরিক সমাজসম্পাদনা

চীনের একটি গবেষণার উপর ভিত্তি করে, এক্সিও এবং নাগই (২০১১) পেয়েছেন যে স্বেচ্ছাসেবার তৃণমূল হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থার জন্য ছিটমহল এবং এটি উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক সমাজ গড়ে তুলতে এটি কাজ করে। গবেষকরা "নৈতিক সম্পদ আর রাজনৈতিক মূলধন" একটি পদ্ধতি গড়ে তুলেছেন নাগরিক সমাজের প্রতি স্বেচ্ছাসেবার অবদানগুলো পরীক্ষা করতে। নৈতিক সম্পদ বলতে বোঝায় যেসকল নৈতিকতা এনজিওগুলো পছন্দ করবে। রাজনৈতিক মূলধন বলতে বোঝায় যে মূলধনগুলো এনজিওগুলোর মর্যাদা, অধিকার বা বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রবেশে সহায়তা করবে।[৪০]

সেই সাথে, এক্সিও এবং নাগই (২০১১) দুই ধরনের নৈতিক সম্পদ পেয়েছেন: নৈতিক সম্পদ-I আর নৈতিক সম্পদ-II (ibid).

১। নৈতিক সম্পদ-I: "আমার ঠিক কি করা উচিত", ইমানুয়েল কান্ট্ এর (১৯৯৮ [১৭৮৭]) যুক্তি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে নৈতিক সম্পদ-I এনজিওগুলোর সাহসিকতা বাড়িয়ে দিবে আর সমস্যার সময় কাজ করার এবং জয় করার জন্য শক্তি দিবে এই প্রশ্নের উত্তর দেবার মাধ্যমে যে "আমার ঠিক কি করা উচিত"।[৪১] ২। নৈতিক সম্পদ-II: আদরনো (২০০০) পেয়েছেন যে নৈতিক বা অনৈতিক বিষয়গুলো সমাজের দ্বারা ঠিক করা হয়, নৈতিক সম্পদ-II বলতে বোঝাচ্ছে সেই নৈতিকতাগুলো যেগুলো সমাজের দ্বারা ভালোভাবে গৃহীত হয়।[৪২]

ধন্যবাদ ব্লাউ এবং ডানকানের বুদ্ধিগত উত্তরাধিকারের জন্য (১৯৬৭),দুই ধরনের রাজনৈতিক মূলধন লক্ষ করা যায়:

১। রাজনৈতিক মূলধন-I বোঝায় সেই রাজনৈতিক মূলধনকে যা হচ্ছে আরোপিত মর্যাদা যা এনজিওগুলো সম্পূর্ণরূপে ঐতিহাসিকভাবে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত (যেমন, সিওয়াইএল)। ২। রাজনৈতিক মূলধন-II বোঝায় সেই রাজনৈতিক মূলধনকে যা এনজিওগুলো তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পায়।[৪৩] 

স্পষ্টত, "নৈতিক সম্পদ-I ধারণ করে আত্মনির্ধারণ, যে নৈতিক বিশ্বাস অংশগ্রহণকারীরা পছন্দ করেছে, যা তাদের সাহসিকতা দেয়",[৪৪] প্রায় সব সংস্থাতেই নৈতিক সম্পদ-I আছে, যদিও তাদের অনেকের কাছেই সমাজের স্বীকৃতি প্রাপ্ত নৈতিক সম্পদ-II নেই। যদিও, স্বেচ্ছাসেবার সংস্থাগুলো প্রধানত নৈতিক সম্পদ-II দ্বারা চালিত কারণ একটি নৈতিক আধিপত্যের ধারণা এটাকে সম্ভব করেছে পক্ষগুলোর জন্য, যেখানে স্বেচ্ছাসেবী কাজের প্রচার করার জন্য বিভিন্ন মূল্যবোধ, লক্ষ্য এবং সংস্কৃতির একসাথে কাজ করতে হয়। তাই স্বেচ্ছাসেবার সংস্থাগুলো জনসাধারণ আর সরকারের বিশ্বাস আর সহযোগিতা খুব সহজেই জয় করবে তাদের থেকে যে সংস্থাগুলোর নৈতিকতা সমাজের মূলপ্রবাহ দ্বারা গৃহীত হয় না। অন্যভাবে বলতে গেলে, নৈতিক সম্পদ-II তৃণমূলের সংস্থাগুলোকে সাহায্য করে রাজনৈতিক মূলধন-I দ্বারা রাজনৈতিক মূলধন-II কে জয় করতে, যেটা উন্নয়নশীল দেশগুলো যেমন চীনে তাদের টিকে থাকা আর বেড়ে উঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অতএব, এই স্বেচ্ছাসেবার রাজ্যগুলো নাগরিক সমাজের বেড়ে উঠার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে একটি ছিটমহল হতে পারে।[৪০]

স্বাস্থ্য সুবিধাসমূহসম্পাদনা

স্বেচ্ছাসেবী কাজ জীবন আর স্বাস্থ্যের গুণগতমান উন্নত করে সেইসঙ্গে দীর্ঘ জীবন দেয় তাদের যারা তাদের সময় দান করে [৪৫] এবং গবেষণা থেকে পাওয়া গিয়েছে যে, স্বেচ্ছাসেবী কাজ থেকে বয়স্করা সব থেকে বেশি সুবিধা পায়। অন্যদের সাহায্য করার মতো একটি সহজ কাজের মাধ্যমে বয়স্করা শারীরিক আর মানসিক অসুখের কষ্টগুলো থেকে আরোগ্য লাভ করতে পারে; অবশ্য, একজনকে সেজন্য নিঃস্বার্থভাবে ভালো কাজ করতে হবে। কিছু বাধা স্বেচ্ছাসেবা কাজে যুক্ত হবার ক্ষেত্রে বয়স্কদের প্রতিরোধ করতে পারে, যেমন সামাজিক-আর্থিক অবস্থা, অন্যের মতামত, এবং এমনকি বর্তমান শারীরিক অবস্থা।অবশ্য, এধরনের বাধাকে দূর করে এগিয়ে আসতে হবে যেন কেউ যদি স্বেচ্ছাসেবা কাজে যুক্ত হতে চায় তাহলে তা করতে পারে। স্বেচ্ছাসেবী কাজ শুধু গোষ্ঠীদের অবস্থাকেই ভালো করে না যাদের একজন সেবা করে, বরং তার জীবন কেও ভালো করে যে গোষ্ঠীদের সেবা প্রদান করে।

মানসিক স্বাস্থ্য সুবিধাসমূহসম্পাদনা

স্বেচ্ছাসেবী কাজকে শুধু আনন্দের সাথে যুক্ত করলেই হবে না [৪৬] এটি আনন্দকে বাড়িয়েও তোলে।[৪৬][৪৭] সেইসঙ্গে বিবরণ থেকে জানা যায়, সাহায্য পাওয়া থেকে সাহায্য করা মানসিক  স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী।[৪৮] গবেষণা থেকে এটাও দেখা গেছে যে, স্বেচ্ছাসেবী কাজ একাকিত্ব কমিয়ে দেয়ার একটি কারণ হিসেবে কাজ করে তাদের জন্য যারা স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকে সেই সঙ্গে যাদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী কাজ করা হয়।[৪৯]  

পরিসংখ্যানসম্পাদনা

স্বেচ্ছাসেবা বিশেষজ্ঞ সুসান জে. এলিসের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে, ঐতিহাসিকভাবে স্বেচ্ছাসেবী কাজের পরিসংখ্যান সীমিত হয়েছে। [৫০] ২০১৩ সালে, ইউ.এস. বর্তমান জনসংখ্যা জরিপ (ইউএস) একটি স্বেচ্ছাসেবী কাজের ক্রোড়পত্র সংযুক্ত করে, যেখানে স্বেচ্ছাসেবী কাজের পরিসংখ্যান তৈরী ছিল।

সমালোচনাসম্পাদনা

১৯৬০-এর দশকে, ইভান ইলিচ একটি বিশ্লেষণ প্রদান করেন যেখানে আমেরিকান স্বেচ্ছাসেবকদের মেক্সিকোতে ভূমিকাকে তিনি অভিহিত করেছিলেন জাহান্নামে ভালো উদ্দেশ্যে থাকা । পাউলো ফ্রেইরে আর এডওয়ার্ড সাইদ, এর মতো সমালোচকদের মতোই তার উদ্বেগ, ক্রিস্টিয়ান মিশনারি চিন্তাধারা প্রসারের কারণে পরার্থপরতা বিশ্বাসের চারপাশে আবর্তিত হয়েছে। এছাড়াও, তিনি উল্লেখ করেছেন দায়িত্ব/বাধ্যতা-এর জ্ঞান হচ্ছে একটি কারণ, যে ধারণাটি অভিজাতবর্গকে বাধ্য করে -  এটি প্রথম গড়ে উঠে ফ্রেঞ্চ অভিজাত-তন্ত্র থেকে যে এটি তাদের সম্পদ থেকে আসা নৈতিক দায়িত্ব। সাধারণভাবে বললে, এই চেতনাগুলো পৃথিবীব্যাপী দেশীয় সংস্কৃতির উপর ক্ষমতা আর কর্তৃত্ব বাড়িয়ে দেয়ার ইচ্ছা করে। ওয়েস্টমিয়ার এবং খান (১৯৯৬) এবং বেল হুক্স (née গ্লোরিয়া ওয়াটকিনস) (২০০৪) থেকে আধুনিক সমালোচনা এসেছে।সেসঙ্গে, জিওরজিয়াও (২০১২) (http://www।routledge।com/books/details/9780415809153/) আন্তর্জাতিক অনুদান স্বেচ্ছাসেবী কাজের উপর নব্যউদারনীতিবাদ এর প্রভাব সমালোচনা করেছেন।

চিকিৎসা পর্যটনের ক্ষেত্র (সেই স্বেচ্ছাসেবকরা যারা চিকিৎসা সেবা দিতে বিদেশ ভ্রমণ করে) বর্তমানে নেতিবাচক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে যখন টেকসই সক্ষমতা, অর্থাৎ,  দীর্ঘ সময় ধরে, স্থানীয় ভাবে, এবং বিদেশী সুবিধা নিয়ে কাজ করা সম্ভব, এমন বিকল্প ধারণার  সাথে তুলনা করা হয়েছে। অনেক বেশি পরিমান সমালোচনা বড় করে বিজ্ঞানবিষয়ক আর সহকর্মীদের লেখনীতে প্রকাশ পেয়েছে।[৫২][৫৩][৫৪] বর্তমানে, গণমাধ্যমের বিভিন্নদিকে সাধারণ পাঠকদের মাঝেও এই ধরনের সমালোচনা প্রকাশ পাচ্ছে।[৫৫]

স্বেচ্ছাসেবী কাজের অন্য একটি সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে যেটি হলো এটিকে কম বেতনের প্রবেশ পদের সাথে বদলি করা হচ্ছে। এই ধরনের কাজের ফলে সামাজিক গতিশীলতা কমবে, শুধু যারা বেতন ছাড়া কাজ করতে পারবে, তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।[৫৬] যুক্তরাজ্যের ট্রেড ইউনিয়ন্স সতর্ক করেছে যে দীর্ঘ সময়ের স্বেচ্ছাসেবী কাজ শোষণের একটি ধরন, যা দাতব্যসংস্থা গুলো আইন অনুযায়ী ন্যূনতম বেতন পরিহার করতে ব্যবহার করে।[৫৭] কিছু সেক্টর গুলোতে এখন প্রত্যাশা করা হচ্ছে, কাজের সাথে সম্পৃক্ত হোক বা না হোক, অংশগ্রহণকারীদের কাজের জন্য অর্থ প্রদান করা হবে তবে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবী কাজের  অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে, যা স্বেচ্ছাসেবার পূর্ণ যোগ্যতা নির্ধারণে সাহায্য করবে।[৫৮]

আরো দেখুনসম্পাদনা

  • স্বেচ্ছাসেবকদের যুক্তকরণে নেতাদের সমিতি
  • স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশাসনিক সমিতি
  • চিত্তবিনোদন মূলক পেশা
  • গোষ্ঠীর সেবা
  • অতিক্রমের  জন্য প্রহরী
  • আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী কাজ
  • স্বেচ্ছাসেবার পুরস্কার তালিকা 
  • মাইক্রো-স্বেচ্ছাসেবী কাজ
  • পিস কর্পস
  • প্রো বোনো
  • সাববোটনিক
  • ভলান্টারিসম