স্বরূপকাঠী

(স্বরূপকাঠি থেকে পুনর্নির্দেশিত)

স্বরূপকাঠি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি ছোট শহর। এটি বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত পিরোজপুর জেলায় অবস্থিত নেছারাবাদ উপজেলার প্রধান শহর। প্রশাসনিকভাবে শহরটি নেছারাবাদ উপজেলার সদর দফতর। এটি জনসংখ্যার বিচারে পিরোজপুর জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর।

স্বরূপকাঠি
পৌরশহরউপজেলা সদর
স্বরূপকাঠি বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
স্বরূপকাঠি
স্বরূপকাঠি
বাংলাদেশে স্বরূপকাঠি শহরের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৪৪′৪৭″ উত্তর ৯০°০৭′০২″ পূর্ব / ২২.৭৪৬৩২৯° উত্তর ৯০.১১৭২৫৬° পূর্ব / 22.746329; 90.117256
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগবরিশাল বিভাগ
জেলাপিরোজপুর জেলা
উপজেলানেছারাবাদ উপজেলা
উপজেলা সদর১৯৮৩
পৌরশহর১৯৯৮
সরকার
 • ধরনপৌরসভা
 • শাসকস্বরূপকাঠি পৌরসভা
 • পৌরমেয়রমোঃ গোলাম কবির [১]
আয়তন
 • মোট১৫.৭৩ বর্গকিমি (৬.০৭ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা
 • মোট৪৮,০২৪
 • জনঘনত্ব৩,১০০/বর্গকিমি (৭,৯০০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চলবাংলাদেশ সময় (ইউটিসি+৬)

ভৌগোলিক উপাত্তসম্পাদনা

স্বরূপকাঠী শহরের অবস্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ হল ২২°৪৪′৪৭″ উত্তর ৯০°০৭′০২″ পূর্ব / ২২.৭৪৬৩২৯° উত্তর ৯০.১১৭২৫৬° পূর্ব / 22.746329; 90.117256। সমুদ্র সমতল থেকে শহরটির গড় উচ্চতা ১০ মিটার

ইতিহাসসম্পাদনা

১৭৯০ সালে পিরোজপুর থানার উত্তরাংশে কাউখালী গ্রামের কাছে কালীগঙ্গা নদীর তীরে কেওয়ারী গ্রামে কেওয়ারী নামে একটি থানা স্থাপিত হয় যা নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেলে ১৯০৬ সালে কেওয়ারী থানাকে স্থানান্তরিত করে স্বরূপকাঠীতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয় হয়। ১৯৮৩ সালে থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হলে এটি স্বরূপকাঠি উপজেলার শহর হিসেবে গঠিত হয়। ১৯৮৫ সালে স্বরূপকাঠি উপজেলার নতুন নামকরণ করা হয় নেছারাবাদ। ১৯৯৮ সালে স্বরূপকাঠি পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলে স্বরূপকাঠি পৌরশহরের মর্যাদা লাভ করে।[২]

প্রশাসনসম্পাদনা

স্বরূপকাঠী শহরটি স্বরূপকাঠী পৌরসভা দ্বারা পরিচালিত হয় যা ৯টি ওয়ার্ড এবং ১৭টি মহল্লায় বিভক্ত। ১৫.৭৩ বর্গ কি.মি. আয়তনের স্বরূপকাঠী শহরের ৪.৯৮ বর্গ কি.মি. স্বরূপকাঠী পৌরসভা দ্বারা পরিচালিত হয়।[৩]

জনসংখ্যার উপাত্তসম্পাদনা

বাংলাদেশের আদমশুমারি ও গৃহগণনা-২০১১ অনুযায়ী স্বরূপকাঠী শহরের মোট জনসংখ্যা ৪৮,০২৪ জন যার মধ্যে ২৪,৪৯৬ জন পুরুষ এবং ২৩,৫২৮ জন নারী। এ শহরের পুরুষ এবং নারী অনুপাত ১০৪:১০০৷ [৪]

শিক্ষা ব্যবস্থাসম্পাদনা

স্বরূপকাঠী শহরের স্বাক্ষরতার হার শতকরা ৭৫.৬ শতাংশ। উচ্চ শিক্ষার জন্য শহরে ১টি সরকারি কলেজ ও ১টি বেসরকারি মহিলা কলেজ রয়েছে। এছাড়াও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪টি মাদ্রাসা রয়েছে।

অর্থনীতিসম্পাদনা

কাঠ ব্যবসার জন্য স্বরূপকাঠীর নাম দেশব্যপী পরিচিত। কাঠ ব্যবসার পাশাপাশি বর্তমানে জাহাজ নির্মাণ শিল্প, বিভিন্ন কুটির শিল্পের প্রসার ঘটেছে।[৫]

যোগাযোগ ব্যবস্থাসম্পাদনা

খাল-বিল-নদী-নালা বেষ্টিত পুরো অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌকা-ট্রলার। জেলার সাথে ২টি ফেরীর মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আছ।[৬]

উল্লে­খযোগ্য স্থান ও স্থাপনাসম্পাদনা

  • ছারছীনা দরবার শরীফ ও মাদরাসা
  • সারেংকাঠী পিকনিক স্পট
  • পেয়ারা বাগান
  • আটঘর আমড়া বাগান
  • কুড়িয়ানা ভাসমান পেয়ারা বাজার
  • কুড়িয়ানা অনুকূল ঠাকুরের আশ্রম
  • হযরত শাহ কামাল এর মাজার শরীফ (সেহাংগল দরগাহ বাড়ি)

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২৮ 
  2. "স্বরূপকাঠি শহরের পটভূমি"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২৯ 
  3. "এক নজরে পৌরসভা"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২৮ 
  4. "Urban Centers in Bangladesh"। Population & Housing Census-2011 [আদমশুমারি ও গৃহগণনা-২০১১] (PDF) (প্রতিবেদন)। জাতীয় প্রতিবেদন (ইংরেজি ভাষায়)। ভলিউম ৫: Urban Area Rport, 2011। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। মার্চ ২০১৪। পৃষ্ঠা ১৭২। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২৮ 
  5. "ব্যবসা-বাণিজ্য"। nesarabad.chittagong.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২৯ 
  6. "যোগাযোগ"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২৯