সোনার তরী

কাব্যগ্ৰন্থ

সোনার তরী হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্ত্তৃক রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা কাব্যগ্রন্থ।[১][২] সমগ্র গ্রন্থটি বাংলা কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোম্যান্টিক কাব্য সংকলন। এটি ১৮৯৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।[১][২] এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য রচনার "মানসী-সোনার তরী পর্ব"-এর অন্তর্গত একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি।[৩] এতে তাঁর কাব্য প্রতিভার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটেছে।[৩] এটি তাঁর অসংখ্য কালোত্তীর্ণ কাব্যের মধ্যে একটি।[১] কাব্যগ্রন্থটি কবি দেবেন্দ্রনাথ সেনের প্রতি উৎসর্গিত।[৪]

সোনার তরী
সোনার তরী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর title page (page 2 crop).jpg
লেখকরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
দেশভারত
ভাষাবাংলা
ধরনকবিতা
প্রকাশনার তারিখ
১৮৯৪

পটভূমিসম্পাদনা

১৮৯১ থেকে ১৯০১ সালের মধ্যবর্তী সময়কাল পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে অবস্থান করেন। তখন তিনি যে সমস্ত বিখ্যাত কাব্য রচনা করেন সেগুলোর মধ্যে "সোনার তরী" অন্যতম। বাংলা ও বাঙালীর জীবনের নানা অপরূপ কাহিনী এবং কবির আত্ম অহমিকা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকেই "সোনার তরী" কাব্যের জন্ম।[২]

মূল বিষয়বস্তুসম্পাদনা

"সোনার তরী" কাব্যে এসে কবির মানবপ্রীতি নতুন মাত্রা পায়। এতে বাংলার বৃহত্তর জনজীবনের প্রতি আকর্ষণ লক্ষ্যনীয়। এ পর্যায়েই কবির কাব্য চেতনায় জীবনদেবতা তত্ত্বের উন্মেষ ঘটে।[২] এই কাব্যের অনেকগুলি কবিতার সঙ্গে পদ্মাপাড়ের পল্লিপ্রকৃতির গভীর যোগ বিদ্যমান। রবীন্দ্রনাথের নিজের ভাষায়, "আমার বুদ্ধি এবং কল্পনা এবং ইচ্ছাকে উন্মুখ করে তুলেছিল এই সময়কার প্রবর্তনা, বিশ্বপ্রকৃতি এবং মানবলোকের মধ্যে নিত্য সচল অভিজ্ঞতার প্রবর্তনা। এই সময়কার কাব্যের ফসল ভরা হয়েছিল সোনার তরীতে।"[৫] "সোনার তরী" (কাব্যের নামকবিতা) কবিতাটিতে কবি জীবন ও তার কীর্তির ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্বের কথা বলেছেন। এই কবিতার শেষ পংক্তিদুটি অবিস্মরণীয় - "শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি/ যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।"

এই কাব্যের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হল "সোনার তরী", "বিম্ববতী", "সুপ্তোত্থিতা", "বর্ষাযাপন", "হিং টিং ছট", "বৈষ্ণবকবিতা", "দুই পাখি", "যেতে নাহি দিব", "বসুন্ধরা", "নিরুদ্দেশ যাত্রা" ইত্যাদি।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বিদ্যার্থী, নিতা (২০১৭-০৬-১৬)। "Voyage on golden boat..."দ্য হিন্দু (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৩ 
  2. "বাংলাদেশ ও রবীন্দ্রনা"বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৩ 
  3. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত, ড. দুলাল চক্রবর্তী, জুলাই - ২০০৭, বাণী বিতান।
  4. রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ২০১
  5. বাংলা সাহিত্যসঙ্গী, পৃ. ২৩৫

বহিঃসংযোগসম্পাদনা