সৈয়দ মোস্তফা কামাল

সৈয়দ মোস্তফা কামাল (১৯৪৩-২০১৩), মুসলিম ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার জন্য​ যে কজন সাহিত্য সাধকের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে তাদেরই একজন। তিনি বিশিষ্ট সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, শেক​ড় সন্ধানী গবেষক ও ইতিহাসবিদ হিসেবে পরিচিত।

সৈয়দ মোস্তফা কামাল
Syed Mustafa kamal.jpg
জন্ম(১৯৪৩-০১-২৫)২৫ জানুয়ারি ১৯৪৩
মশাজান, হবিগঞ্জ, বাংলাদেশ
মৃত্যুডিসেম্বর ২১, ২০১৩(2013-12-21) (বয়স ৭০)

জন্ম ও ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

সৈয়দ মোস্তফা কামাল ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ২৫শে জানুয়ারি হবিগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী মশাজান সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা সৈয়দ মসদ্দর আলী তখনকার সম​য়ে একজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ছিলেন। তার মায়ের নাম সৈয়দা খোদেজা খাতুন। [১]

শিক্ষাজীবনসম্পাদনা

সৈয়দ মোস্তফা কামাল ১৯৫৪ ইসায়ী সনে স্থানীয় রাধানন্দ প্রাথমিক বিদ্যাল​য় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে সিলেটের রসম​য় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। পরবর্তিতে সিলেট এম. সি. কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও বি.এ. পাশ করেন। ১৯৭৫খ্রিস্টাব্দে কুমিল্লা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বি-এড ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবনসম্পাদনা

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে তিনি কর্ম জীবনে প্রবেশ করেন। পরবর্তিতে সরকার তার চাকুরী শিক্ষা মন্ত্রনাল​য় থেকে ডেপুটেশনে ধর্ম মন্ত্রনাল​য়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এ অর্পিত করে। অতপর তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’র সিলেট সংস্কৃতিক কেন্দ্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮২ থেকে ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ সম​য় তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর গুরুত্বপূর্ন বিভিন্ন পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

সাহিত্য সাধনাসম্পাদনা

সৈয়দ মোস্তফা কামাল একজন রম্য লেখক হিসেবেই সাহিত্যঙ্গনে পা রাখেন। [২] সৈয়দ মোস্তফা কামাল মুসলিম ইতিহাস ও ঐতিহ্য, ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষ​য়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেন। তার রচিত ও প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৬৩ টি। [৩] যার মধ্যে গবেষণা বিষয়ে ২২ টি, নবী জীবনী ২ টি, নাটক ২ টি, রম্য রচনা ২টি, পুথিঁকাব্য ৩টি, আত্মজৈবনিক ২টি, বিবিধ ৮টি। তার রচিত গ্রন্থগূলোর মধ্যে “বাংলার মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক বিপর্যয়ের রঙ্গমঞ্চের অন্তরালে”, “তরফের সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত”, “অতীত দিনের সিলেটঃ তিন কৃতি পুরুষের স্মৃতির আয়নায়”, “তরফ বিজয়” (নাটক) গ্রন্থগূলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত "ইসলামী বিশ্বকোষ" গ্রন্থের বিভিন্ন খন্ডে পঁচিশটিরও বেশী নিবন্ধে ও বাংলা একাডেমী প্রকাশিত "জালালাবাদের কথা" গ্রন্থে ত্রিশটি স্থানে রেফারেন্স হিসেবে সৈয়দ মোস্তফা কামালের নাম উল্লেখ করা হ​য়েছে।

সম্মাননা ও পুরুষ্কারসম্পাদনা

সাহিত্য ও গবেষণায় কৃতিত্বের জন্য জন্য় তিনি শহীদ তিতুমীর জাতীয় পুরস্কার (স্বর্ণ পদক), বাংলাদেশ ন্যাশনাল স্টুডেন্ট এওয়ার্ড, লন্ডন সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু পুরষ্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হ​য়েছেন। সৈয়দ মোস্তফা কামালের জীবন ও সাহিত্য কর্মের উপর 'মুল্যায়নের মানদণ্ডে' সৈয়দ মোস্তফা কামাল শিরোনামে প্রবন্ধ ও গ্রন্থ লিখেছেন মোহাম্মদ জুবায়ের, সাংবাদিক আহমদ ফারুক, গবেষক হারুন আকবর সহ ৩০ জন কবি সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকারসম্পাদনা

২১ ডিসেম্বর ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ সনে তিনি মৃত্যু বরন করেন। পরদিন শনিবার দরগাহে হযরত শাহজালাল মাজার মসজিদে জানাজার পর দরগাহ সংলগ্ন গোরস্তানে লাশ দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ২ মেয়ে রেখে গেছেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "শেকড় সন্ধানী গবেষক সৈয়দ মোস্তফা কামাল আর নেই"thesunrisetoday.com। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২০ 
  2. "ঐতিহ্য অনুসন্ধানী ধ্যানী গবেষক সৈয়দ মোস্তফা কামাল : কিছু কথা"utsanga.com। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২০ 
  3. "প্রবন্ধ-নিবন্ধ"anjumanbd.org। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২০