সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি

বাংলাদেশি অভিনেত্রী

সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি (২২ অক্টোবর ১৯৭৭ - ১০ নভেম্বর ২০০২) ছিলেন বাংলাদেশী মডেল ও অভিনেত্রী। তার জন্ম পুরোনো ঢাকার ওয়ারীতে। তিন্নি নামেই তিনি বিনোদন জগতে পরিচিত ছিলেন।

তিন্নি
জন্ম
সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি

২২ অক্টোবর ১৯৭৭
ঢাকা, বাংলাদেশ
মৃত্যু১০ নভেম্বর ২০০২(2002-11-10) (বয়স ২৫)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
মাতৃশিক্ষায়তনইডেন মহিলা কলেজ
পেশাঅভিনেত্রী, মডেল
কর্মজীবন১৯৯৯-২০০২
উচ্চতা৫ ফুট ৪ ইঞ্চি

১৯৯৯ সালে তিন্নি ৱ্যাম্প মডেলিং দিয়ে তার যাত্রা শুরু করেন। তার প্রথম টিভি বিজ্ঞাপন হেনোলাক্স ক্রীম দিয়ে তিনি পরিচিতি পান। পরবর্তীতে তিনি স্টারশিপ কনডেন্সড মিল্ক, লিজান মেহেদী, গন্ধরাজ তেল,এলিট পেইন্ট,কোয়ালিটি আইসক্রিম,বম্বে উপটান, ও রিচি জুসের বিজ্ঞাপন করে জনপ্রিয়তা পান। কয়েকটি টিভি নাটকেও তিনি অভিনয় করেন। পরিচালক বাদল খন্দকারের একটি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েও পরে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।

টিভি কর্মজীবন

সম্পাদনা
  • মেঘবতী পরিচালক মোহন খান
  • সমুদ্র সীমানায়

টিভি বিজ্ঞাপন

সম্পাদনা
  • হেনলাক্স স্পট ক্রিম
  • লিজান মেহেদী
  • হাস মার্কা নারকেল তেল '
  • কোয়ালিটি আইসক্রিম
  • রিচি ফ্রুট ড্রিংকস্

১০ নভেম্বর ২০০২ সালে ঢাকার পোস্তগোলার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর (বুড়িগঙ্গা সেতুর) নিচে একটি পিলারের ফাউন্ডেশনের উপরে তিন্নির মৃতদেহ পাওয়া যায়।[১][২][৩] ১১ নভেম্বর সকালে লাশ ঘিরে জনতার ভিড় জমলে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহালের পর ময়নাতদন্ত করে। চারদিন পর ১৫ নভেম্বর অজ্ঞাত হিসেবে জুরাইন কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।[৪]

এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করে। পরে তিন্নির সাবেক স্বামী শাফাকাত হোসেন পিয়ালসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে ৬ বছর পরে ৮ নভেম্বর ২০০৮ সালে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় অপরাধ তদন্ত বিভাগ। অভিযোগপত্র দাখিলের সময়ে তিনি ঢাকায় ছিলেন না। এর আগে ২০০৩ সালের অক্টোবর মাসে অভি নিউ ইয়র্কে চলে গিয়েছিলেন, পরবর্তীতে ২০০৪ সালে কানাডায় স্থায়ী হন। ১৪ জুলাই ২০১০ সালে ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এই মামলায় অনুপস্থিত অভির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।[৫][৬][৪] বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাসরত অভির পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী, মডেল তিন্নি আত্মহত্যা করেছেন এই মর্মে মামলাটি খারিজের জন্য বিচারাধীন আদালতে আবেদন করেন। হাইকোর্টের নির্দেশে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া প্রায় ৫ বছর স্থগিত থাকার পরে ২০১৫ সালে পুনরায় শুরু হয়। ১৯ আগস্ট ২০১৯ সালে মামলাটি রায়ের জন্য ধার্য ছিল। নির্ধারিত রায়ের তারিখ ৩১ বার পরিবর্তন করার পর ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে আদালত স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য পুনরায় নেয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। ২০২২ সালে মামলাটির স্বাক্ষ্য পর্ব আবার নতুন করে শুরু হয়।

অভির বিরুদ্ধে অভিযোগ

সম্পাদনা

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুসারে “তিন্নির সঙ্গে অভির পরিচয় হওয়ার পরই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। [...] অভির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিন্নির সঙ্গে স্বামী শাফকাত হোসেন পিয়ালের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।”[৭] দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিবেদন অনুসারে “৬ নভেম্বর [২০০২ সালে] তিন্নিকে তার স্বামী শাফকাত হোসেন পিয়ালের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করেন অভি। ওই দিনই অভি পিয়ালকে তার কোলের দেড় বছর বয়সী কন্যা সস্তানসহ রাজধানীর বাড়ি থেকে বের করে দেন। এর পর বিয়ে করার জন্য অভিকে চাপ দিতে থাকেন তিন্নি। একপর্যায়ে তিন্নি বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দেন। ১০ নভেম্বর রাতে তিন্নির মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এরপর গুমের উদ্দেশে ওই রাতেই গাড়িতে বুড়িগঙ্গায় ১নং চীন মৈত্রী সেতুর ওপর থেকে নদীতে নিয়ে তিন্নির লাশ ফেলে দেয়া হয়।”[৪]

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. প্রতিবেদক, নিজস্ব। "পলাতক আসামি অভির রিট মামলার বিচারকাজ বন্ধ"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-১৪ 
  2. "মডেল তিন্নি হত্যাকাণ্ডের বিচার কতদূর?"dhakatimes24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-১৪ 
  3. "মডেল তিন্নি হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ পিছিয়েছে"banglanews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-১৪ 
  4. "১৭ বছরে বিচার হয়নি মডেল তিন্নি হত্যার, আলোচিত অভি কোথায়?"দৈনিক জনকণ্ঠ। ২২ জুলাই ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০২০ 
  5. মবিনুল ইসলাম (১৮ এপ্রিল ২০১৬)। "১৪ বছর ধরে পলাতক গোলাম ফারুক অভি"বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ১৮ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  6. নিজস্ব প্রতিবেদক (১৫ ডিসেম্বর ২০১০)। "মডেল তিন্নি হত্যা মামলা, গোলাম ফারুক অভির পাসপোর্টের মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে রুল"দৈনিক প্রথম আলো। ১৮ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০২০ 
  7. "বেওয়ারিশ লাশটি ছিল মডেল তিন্নির"বাংলাদেশ প্রতিদিন। ২০ মে ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০২২