সুবোধকুমার চক্রবর্তী

সুবোধকুমার চক্রবর্তী (ইংরেজি: Subodhkumar Chakraborty) ( ২৫ মার্চ , ১৯১৯ - ১৮ জানুয়ারি , ১৯৯২) বাংলা ভ্রমণ সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার। বিখ্যাত সৃষ্টি চব্বিশ পর্বের 'রম্যাণি বীক্ষ্য'এর জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন। [১]

সুবোধকুমার চক্রবর্তী
জন্ম(১৯১৯-০৩-২৫)২৫ মার্চ ১৯১৯
মৃত্যু১৮ জানুয়ারি ১৯৯২(1992-01-18) (বয়স ৭২)
কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ
জাতীয়তাভারতীয়
নাগরিকত্বভারতীয়
পরিচিতির কারণসাহিত্যিক ও ভ্রমণ কাহিনিকার
পুরস্কাররবীন্দ্র পুরস্কার(১৯৬৩)

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

সুবোধকুমার চক্রবর্তীর জন্ম ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ২৫ শে মার্চ বৃটিশ ভারতের অধুনা পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের কাটামারির এক জমিদার পরিবারে। কোচবিহার রাজপরিবারের সাথে সুসম্পর্ক ছিল জমিদার পিতা তৎকালীন কোচবিহারের পুরোধা ব্যক্তি সুশীল কুমার চক্রবর্তীর। সুবোধকুমার জেনকিনস স্কুল থেকে বিদ্যালয়ের পাঠ শেষে ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে বিবাহের পর উচ্চ শিক্ষার্থে কলকাতায় যান।

কর্মজীবন ও সাহিত্যকর্মসম্পাদনা

শিক্ষা সমাপ্ত করে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর লিয়াজঁ অফিসার হিসাবে কিছু দিন কাজ করে যোগ দেন রেল বোর্ডে। টুম্বালাতে কিছুদিন কাজ করার পর চলে আসেন ইস্টার্ন রেলের আসানসোলে। এখানকার বাংলোয় শুরু করেন সাহিত্যচর্চা। সান্নিধ্যে আসেন বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়, উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রমুখের। কাজের সুবাদে প্রথমে ১৯৫৩-৫৪ খ্রিস্টাব্দে যখন গেলেন দক্ষিণ ভারত, ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় লিখে ফেললেন 'রম্যাণি বীক্ষ্য' এর প্রথম পর্ব। 'শনিবারের চিঠি'র সম্পাদক সজনীকান্ত দাসের সহায়তায় প্রথমে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। তারপর যখন তিনি বছরে দুবার করে ভারত ভ্রমণ করেন সজনীকান্তের প্রেরণাতেই এর পর তিনি লিখতে থাকেন ‘রম্যাণি বীক্ষ্য’-এর নানা পর্ব। বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টি হয় এক নতুন ধারা। [২] ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানের উপন্যাস রসে সিক্ত ভ্রমণ কাহিনী। একটি শিথিল আখ্যানের কাঠামোর মধ্যে বিভিন্ন স্থানের ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক এবং কিংবদন্তি জড়িত অতীতের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ কাহিনীগুলির বৈশিষ্ট্য।[৩] তার অপরাপর গ্রন্থ গুলি হল-

  • মধুরাংশ্চ
  • রৃপম
  • শাশ্বত ভারত
  • জনম জনম
  • চোখের আলোয় দেখেছিলাম
  • মণিপদ্ম
  • তুঙ্গভদ্রা
  • অয়ি অবন্ধনে
  • গল্প শুধু গল্প
  • সুন্দর নেহারি

সম্মাননাসম্পাদনা

সুবোধকুমার চক্রবর্তী ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে 'রম্যাণি বীক্ষ্য' এর জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন। আর ছোটদের লেখা 'শাশ্বত ভারত'এর জন্য অবন পুরস্কার পান। এছাড়া অন্যান্য পুরস্কার ও সম্মান পেয়েছেন। [১]

জীবনাবসানসম্পাদনা

সুবোধকুমার চক্রবর্তী ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ই জানুয়ারি প্রয়াত হন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, জানুয়ারি ২০১৯ পৃষ্ঠা ৪৫৪ আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-২৯২-৬
  2. "কোচবিহারের ভারতপথিককে কি ভুলেই গিয়েছে বাঙালি?"। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-৩০ 
  3. শিশিরকুমার দাশ সংকলিত ও সম্পাদিত, সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট ২০১৯, পৃষ্ঠা ২৩১ আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-০০৭-৯ আইএসবিএন বৈধ নয়