সুপ্রিয়া দেবী

একজন বাঙালী অভিনেত্রী

সুপ্রিয়া দেবী (সুপ্রিয়া চৌধুরী, ৮ জানুয়ারী ১৯৩৩ - ২৬ জানুয়ারি ২০১৮) একজন ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে তার কাজের জন্য পরিচিত।[১] তিনি ঋত্বিক ঘটকের বাংলা চলচ্চিত্র মেঘ ঢাকা তারা (১৯৬০) তে নীতার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সর্বাধিক পরিচিত ।  তিনি দুবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং বিএফজেএ পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১১ সালে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান বঙ্গ-বিভূষণ পেয়েছিলেন ।[২] ২০১৪ সালে, তিনি বিনোদন শিল্পে তার অবদানের জন্য ভারত সরকার কর্তৃক ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রীতে ভূষিত হন ।[৩]

সুপ্রিয়া দেবী
জন্ম
কৃষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

(১৯৩৩-০১-০৮)৮ জানুয়ারি ১৯৩৩
মৃত্যুত্রুটি: মৃত্যু তারিখ (প্রথম তারিখ) অবশ্যই জন্ম তারিখের (দ্বিতীয় তারিখ) পরে হতে হবে
জাতীয়তাভারতীয়
অন্যান্য নামসুপ্রিয়া চৌধুরী
পেশাঅভিনেত্রী
কর্মজীবন১৯৫২-২০১৮
দাম্পত্য সঙ্গীবিশ্বনাথ চৌধুরী (বি. ১৯৫৪–১৯৫৮)
উত্তম কুমার (বি. ১৯৬৩–১৯৮০)
আত্মীয়শন বন্দ্যোপাধ্যায় (নাতি)
পুরস্কারবঙ্গভূষণ (২০০১), পদ্মশ্রী, ফিল্মফেয়ার পুরস্কার

তিনি নির্মল দে -র নির্দেশনায় উত্তম কুমার অভিনীত বাসু পরিবার (১৯৫২) চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন এবং পর্যায়ক্রমে প্রণব রায় পরিচালিত প্রার্থনা (১৯৫২) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।[৪] যাইহোক, আইএমডিবি ১৯৫১ সালের হিন্দি ছবি শোখিয়ানকে তার প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এরপর তিনি একটি বিরতি নিয়ে সুশীল মজুমদারের নির্দেশনায় মারমাবাণী (১৯৫৮) চলচ্চিত্রে ফিরে আসেন । মঙ্গল চক্রবর্তী পরিচালিত উত্তম কুমার ব্লকবাস্টার সোনার হরিণ (১৯৫৯) তে অভিনয় করার পর তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ।[৫] ১৯৬৯ এর দশকের শুরুতে, মেঘে ঢাকা তারা (১৯৬০), শুনো বারানারী (১৯৬০), কোমল গান্ধার (১৯৬১), স্বরলিপি (১৯৬১) , অগ্নিসংস্কার ( ১৯৬১) এর মতো চলচ্চিত্রে তার ধারাবাহিক ভূমিকার জন্য তিনি আরও বেশি নজরে আসেন। তিনি সদাশিব রাও কবির পরিচালনায় বেগানা (১৯৬৩) চলচ্চিত্রে ধর্মেন্দ্রর বিপরীতে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন।[৬]

শৈশব সম্পাদনা

কৃষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় বেনু (সুপ্রিয়া দেবী) মায়ানমারের মিয়িত্‌কিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা বিখ্যাত আইনজীবী গোপাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, বার্মায় বসবাসরত অনেক ভারতীয় ভারতে চলে আসেন। সুপ্রিয়া দেবীর পরিবার শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ কলকাতায় বসবাস শুরু করেন।[৭]

কর্মজীবন সম্পাদনা

সুপ্রিয়া দেবী অভিনয়ে অভিষেক ঘটে মাত্র সাত বছর বয়সে, তার বাবা’র পরিচালিত দুইটি নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। তিনি ছোটবেলা থেকে নৃত্যের প্রতি অনেক আগ্রহী ছিলেন, এমনকি তিনি থাকিন নু থেকে একটি পুরস্কারও অর্জন করেন। শৈশব থেকে তার অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন নিহার দত্ত, যে গুহ ঠাকুরতা পরিবারের একজনকে বিয়ে করেন এবং মিসেস নিহার গুহ ঠাকুরতা নাম ধারণ করেন, যিনি বার্মার তৎকালীন সময়ের একজন প্রসিদ্ধ সমাজসেবী ছিলেন।

১৯৪৮ সালে, বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার তাদের ভালোর জন্য কলকাতায় পুনরায় বসবাস শুরু করেন। তারা ১৯৪২ সালে উদ্বাস্তু শিবিরে বসবাস করেন, যখন জাপান জোরপূর্বক বার্মা দখল করে। তরুণ সুপ্রিয়া এবং তার পরিবারকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পায়ে হেঁটে কলকাতায় নির্বিঘ্ন পরিবেশে ফিরে আসতে বাধ্য করে।

কলকাতায়, তিনি তার নৃত্য প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখেন এবং গুরু মুরুথাপ্পান এবং পরবর্তীতে গুরু প্রহ্লাদ দাসের কাছে নাচের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সুপ্রিয়া দেবী এবং তার পরিবারের সাথে চন্দ্রবতী দেবীর বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক বিদ্যমান ছিল, চন্দ্রবতী দেবী একজন বিখ্যাত অভিনেত্রী এবং তাদের প্রতিবেশী ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবন সম্পাদনা

১৯৫৪ সালে, সুপ্রিয়া দেবী বিশ্বনাথ চৌধুরীকে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে তাদের একমাত্র কন্যা সোমা জন্মগ্রহণ করে। তিনি ১৯৫০ সালের শেষের দিকে একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্রে দিয়ে ফেরার আগে কিছুদিনের জন্য ছায়াছবি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। উত্তম কুমারের সাথে কিছু হিট সিনেমায় কাজ করার পর, তাদের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর থেকে তারা অনেক বছর একসাথে বসবাস করেন । ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি রোজ শুক্রবার এই মহান অভিনেত্রী কলকাতায় ৮৫ বছর বয়সে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন ।

চলচ্চিত্র সম্পাদনা

  1. দ্য নেমসেক (২০০৬) ... আশিমার দাদী
  2. একটী নদীর নাম (২০০২)
  3. শেষ ঠিকানা (২০০০) ... শ্রীরধার দাদী
  4. হানিমুন (১৯৯২)
  5. ইমান কল্যাণ (১৯৮২)
  6. কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী (১৯৮১)
  7. মন নিয়ে (১৯৮১)
  8. দেবদাস (১৯৭৯) ... চন্দ্রমুখী
  9. দুই পুরুষ (১৯৭৮) ... বিমলা
  10. সন্ধ্যা রাগ (১৯৭৭)
  11. সন্ন্যাসী রাজা (১৯৭৫)
  12. যদি জানতেম (১৯৭৪) ... সুজাতা
  13. বাঘবন্দী খেলা (১৯৭৫)
  14. বনপলাশীর পদাবলী (১৯৭৩) ... পদ্ম
  15. চিরদিনের (১৯৬৯)
  16. চৌরঙ্গি (১৯৬৮) ... করবী গুহ
  17. তিন অধ্যায় (১৯৬৮)
  18. কাল তুমি আলেয়া (১৯৬৬) ... ডাঃ লাবণ্য সরকার
  19. শুধু একটি বছর (১৯৬৬)
  20. আপ কি পরিছাঁইয়া (১৯৬৪) ... আশা
  21. দূর গগন কি ছাঁও মে (১৯৬৪) ... মীরা
  22. লাল পাত্থর (১৯৬৪)
  23. বেগানা (১৯৬৩)
  24. সূর্য শিখা (১৯৬৩)
  25. কোমল গান্ধার (১৯৬১) ... আনস্যু
  26. মধ্য রাতের তারা (১৯৬১)
  27. মেঘে ঢাকা তারা (১৯৬০) ... নীতা
  28. নতুন ফসল (১৯৬০)
  29. শুন বর নারী (১৯৬০)
  30. বসু পরিবার (১৯৫২) ... সুখেনের বোন।

তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. Shoma (২০০৩-০৮-০১)। "50 years of Supriya Devi"Screen Weekly। Indian Express Newspapers (Mumbai) Ltd। ২০০৭-০৯-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-০৩ 
  2. "State honours nine with Banga-Vibhushan"The Times of India। ২০১১-০৭-২৬। আইএসএসএন 0971-8257। সংগ্রহের তারিখ ২০২৪-০১-০৮ 
  3. "Vidya Balan, Paresh Rawal get Padma Shri"Daily News and Analysis। ২৫ জানুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৪ 
  4. Chatterji, Shoma (১ আগস্ট ২০০৩)। "50 years of Supriya Devi"Screen Weekly। Indian Express Newspapers (Mumbai) Ltd। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ ডিসেম্বর ২০০৬ 
  5. Correspondent, Special (২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)। "Bengali actor Supriya Choudhury passes away"The Hinduআইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ 
  6. Chatterji, Shoma (১ আগস্ট ২০০৩)। "50 years of Supriya Devi"Screen Weekly। Indian Express Newspapers (Mumbai) Ltd। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ ডিসেম্বর ২০০৬ 
  7. "Biography for Supriya Choudhury"Supriya Choudhury। Internet Movie Database Inc.। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-০৩ 

বহিঃসংযোগ সম্পাদনা