সীতা দেবী (ইংরেজি: Sita Debi ) ( ১০ এপ্রিল, ১৮৯৫ - ২০ ডিসেম্বর , ১৯৭৪) ছিলেন ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধের বাঙালি সুলেখিকা। তাঁর ও তাঁর জ্যেষ্ঠা ভগিনী শান্তা দেবীর রচনা সেসময় বাংলায় যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। [১]

সীতা দেবী
জন্ম(১৮৯৫-০৪-১০)১০ এপ্রিল ১৮৯৫
কলকাতা বৃটিশ ভারত, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ
মৃত্যু২০ ডিসেম্বর ১৯৭৪(1974-12-20) (বয়স ৭৯)
মাতৃশিক্ষায়তনকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশাবাঙালি লেখিকা
দাম্পত্য সঙ্গীসুধীরকুমার চৌধুরী
পিতা-মাতারামানন্দ চট্টোপাধ্যায় (পিতা)
মনোরমা দেবী (মাতা)

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

সীতা দেবীর জন্ম ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দের ১০ ই এপ্রিল বৃটিশ ভারতের কলকাতায়। পিতা প্রখ্যাত সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এবং মাতা মনোরমা দেবী। এঁদের আদি নিবাস ছিল বাঁকুড়ার পাইকপাড়ায়। সীতার প্রথম তেরো বৎসর কাটে এলাহাবাদে। সেসময় সেখানে মেয়েদের ভালো স্কুল না থাকায় তাঁর ও তাঁর জ্যেষ্ঠা ভগিনীর লেখাপড়া শুরু হয় গৃহশিক্ষক পিতৃবন্ধু নেপালচন্দ্র ও ইন্দুভূষণ রায়ের কাছে। সাংবাদিক পিতাকে ঘিরে যে সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল সৃষ্টি হয় তার মধ্যে তাঁরা বড় হন। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে পিতা কলকাতায় ফিরলে তিনি কলকাতার বেথুন স্কুলে ভর্তি হন। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে ম্যাট্রিক ও ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে ইংরাজীতে অনার্স সহ বি.এ পাশ করেন।

সাহিত্যকর্মসম্পাদনা

ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর সাহিত্য জীবনের সূত্রপাত। 'প্রবাসী' পত্রিকায় গল্প লিখতেন। কলেজে পড়ার সময়ই দুই বোন মিলে শ্রীশচন্দ্র বসুর Folk Tales of Hindustan গ্রন্থটি "হিন্দুস্থানী উপকথা" নামে অনুবাদ করে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রায় দুই বছর পিতার সঙ্গে শান্তিনিকেতনে থাকার সুবাদে রবীন্দ্রনাথের ও ঠাকুর পরিবারের সান্নিধ্যে আসেন। দুই বোন মিলে সংযুক্তা দেবী নামে প্রথম উপন্যাস "উদ্যানলতা" রচনা করেন। উপন্যাসটি বাংলায় নারীজাগরণের ইতিহাসে স্থান করে নেয়।[২] তিনি উপন্যাস ছাড়াও শিশুপাঠ্য গল্প ও অনুবাদ করেছেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল -

  • শিশুপাঠ্য -
    • সাত রাজার ধন (শান্তা দেবীর সাথে)
    • আজব দেশ (১৯১৯)
    • হুক্কা হুয়া
    • নিরেট গুরুর কাহিনী
    • কথাসপ্তক
  • উপন্যাস -
    • সোনার খাঁচা (১৯১৯)
    • পথিকবন্ধু (১৯২০)
    • রজনীগন্ধা (১৯২১)
    • পরভৃতিকা
    • মহামায়া
    • ক্ষণিকের অতিথি
    • বন্যা
    • জন্মস্বত্ব
    • মাতৃঋণ
  • গল্প ও অন্যান্য রচনা-
    • মাটির বাসা (১৯৪৫)
    • ঘূর্ণির মাঝখানে (১৯৪৮)
    • নানা রঙের দিনগুলি
    • সেকালের কথা

রবীন্দ্রনাথকে কেন্দ্র করে তাঁর স্মৃতিচারণা গ্রন্থ পুণ্যস্মৃতি ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। তিনি নিজের ও শান্তা দেবীর অনেক গল্প ইংরাজীতেও অনুবাদ করেছেন। সেই গল্পগুলি টেলস অব বেঙ্গল নামে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে তিনি সভানেত্রী ছিলেন।

পারিবারিক জীবনসম্পাদনা

১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৮ শে সেপ্টেম্বর কল্লোল ও প্রবাসী যুগের লব্ধপ্রতিষ্ঠ সাহিত্যিক সুধীরকুমার চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। বিবাহের পর স্বামীর সাথে প্রায় ছয় বৎসর রেঙ্গুনে থাকেন।

জীবনাবসানসম্পাদনা

সুলেখিকা সীতা দেবী ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দের ২০ শে ডিসেম্বর ৭৯ বৎসর বয়সে পরলোক গমন করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট ২০১৬, পৃষ্ঠা ৭৮১,৭৮২ আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. শিশিরকুমার দাশ (২০১৯)। সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী। সাহিত্য সংসদ, কলকাতা। পৃষ্ঠা ২২৭। আইএসবিএন 978-81-7955-007-9 |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: checksum (সাহায্য)