সানাউল্লাহ নূরী

বাংলাদেশি সাংবাদিক ও সাহিত্যিক

সানাউল্লাহ নূরী (২৮ মে, ১৯২৮ - ১৬ জুন, ২০০১) বাংলাদেশের একজন সাংবাদিকসাহিত্যিক ছিলেন। ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা ইহসান-এর সহযোগী সম্পাদকের দায়িত্বের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করে। কর্মজীবনে তিনি দৈনিক আজাদ, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক জনতা, দৈনিক বাংলা, দৈনিক গণবাংলা, দৈনিক দিনকাল ও সাপ্তাহিক কিশোর বাংলার সম্পাদক সহ বাংলা ভাষার বিভিন্ন পত্রিকার বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে দায়িত্বরত ছিলেন। রচনা করেছেন প্রায় ৬০টি গ্রন্থ।

সানাউল্লাহ নূরী
সানাউল্লাহ নূরী, ১৯৯৭
সানাউল্লাহ নূরী, ১৯৯৭
জন্ম(১৯২৮-০৫-২৮)২৮ মে ১৯২৮
লক্ষ্মীপুর, বাংলাদেশ
মৃত্যুজুন ১৬, ২০০১(২০০১-০৬-১৬)
ঢাকা, বাংলাদেশ
পেশাসাংবাদিক, সাহিত্যিক
নাগরিকত্ববাংলাদেশ
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার১৯৮২ সালের একুশের রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদক
সন্তান৬ (৫ মেয়ে ও ১ ছেলে)

জন্ম ও ব্যক্তিগত জীবন

সম্পাদনা

সানাউল্লাহ নূরী ১৯২৮ সালের ২৮ মে লক্ষ্মীপুর জেলার সাবেক রামগতি উপজেলার (বর্তমান কমলনগর) চর ফলকন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন মাওলানা সালামত উল্লাহ ও মা মনসুরা বেগম। তার পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

শিক্ষাজীবন

সম্পাদনা

সানাউল্লাহ নূরী ১৯৪৭ সালে জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক উপাধি লাভ করেন। জগন্নাথ কলেজে পড়ার সময় তিনি বাম ছাত্ররাজনীতি ও সাংবাদিকতায় যোগ দেন। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকা কলেজের নূরপুর ভিলা ছাত্রাবাসে “রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু” নামক সেমিনারে তিনি যোগ দেন। ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলনর তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।[১]। তার শৈশব শিক্ষা শুরু হয় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার হাজিরহাট জুনিয়র অ্যাংলো ইংলিশ অ্যারাবিক মাদরাসায়। এরপর তিনি সাবেক নেত্রকোণা জেলার ময়মনসিংহ স্কুলে ভরতি হয়ে শেষ পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন।

কর্মজীবন ও সাংবাদিকতা

সম্পাদনা

১৯৯৪ সালে যোগদানের পর ১৯৯৭ সালের মে মাস পর্যন্ত দৈনিক দিনকালের সম্পাদক পদে দায়িত্বপালন করেন সানা উল্লাহ নূরী। এর আগে দৈনিক জনতা (১৯৮৭) সম্পাদক, নিবাহী সম্পাদক দৈনিক দেশ (১৯৭৮), দৈনিক কিশোর বাংলা, নিবাহী সম্পাদক দৈনিক গনবাংলা (১৯৭২), দৈনিক বাংলা, দৈনিক পাকিস্তানের (১৯৫২) বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৮ সালে দৈনিক ইত্তেফাক, ১৯৬০ সালে মাসিক সওগাত পত্রিকায় ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেন সানা উল্লাহ নূরী। ১৯৪৮ সালে দৈনিক আজাদ এবং ১৯৫২ সালে দৈনিক আজাদ ছেড়ে দৈনিক সংবাদের সহকারী সম্পাদক পদে যোগ দিয়ে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত সংবাদে থাকেন। ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত ভাষা আন্দোলনের মূখপত্র “অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা ইহসানের” সহযোগী সম্পাদকের দায়িত্বের মধ্য দিয়ে শুরু করা সাংবাদিকতা দিয়ে তিনি টানা ৫০ বছর সাংবাদিকতা করেন।

১৯৮৮ সালে গঠিত “বাংলাদেশ কাউন্সিল অব এডিটরস” এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন সানা উল্লাহ নূরী।

পুরস্কার ও সম্মাননা

সম্পাদনা

সানা উল্লাহ নূরী ১৯৮২ সালে সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় কৃতিত্বের জন্য একুশের রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদক পান।১৯৯৩ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন স্মৃতি পরিষদের শিল্পাচার্য পদক পান। ১৯৯৫ সালে পশ্চিম বাংলার “ড: দীনেশ চন্দ্র সেন গবেষণা পরিষদ” প্রদত্ত দীনেশ সেন স্বর্ন পদকে ভূষিত হন।

রচনা ও প্রকাশনা

সম্পাদনা

তিনি ৮টি উপন্যাস, ৭টি গল্প ও শিশুতোষ গ্রন্থ, ৩টি ভ্রমণ কাহিনী, ৪টি ঐতিহাসিক গ্রন্থ, সাংবাদিকতা বিষয়ে ২টি গ্রন্থ, রাজনৈতিক বিষয়ে ২টি গ্রন্থ, ২টি কাব্য গ্রন্থসহ ৬০টি গ্রন্থ রচনা করেন।

উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা

সম্পাদনা
  • আন্দার মানিকের রাজকন্যা
  • নিঝুম দ্বীপের উপাখ্যান
  • বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা
  • নোয়াখালী-ভুলুয়ার ইতিহাস ও সভ্যতা
  • উপমহাদেশের শত বর্ষের স্বাধীনতা যুদ্ধ

মৃত্যু

সম্পাদনা

১৯৯৭ সালের মে মাস পর্যন্ত তিনি দৈনিক দিনকালের সম্পাদক পদে দায়িত্বপালন করেন। অসুস্থতার কারণে সাংবাদিকতা থেকে অবসর নেন সানা উল্লাহ নূরী। ২০০১ সালের ১৬ জুন ৭৩ বছরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৮ জুন ২০০১ সালে ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 

আরও পড়ুন

সম্পাদনা
  • ম. নুরুল আলম সম্পাদিত “রামগতি দর্পন” ১৯৯৮ সাল
  • ম. নুরুল আলম সম্পাদিত “ভাষা সৈনিক সানা উল্লাহ নূরী” ২০১১ সাল
  • দৈনিক জনকন্ঠ- লেখক কেজি মোস্তফা, ১৯ জুন ২০০১ পৃষ্ঠা:১৭
  • দৈনিক জনকন্ঠ- লেখক কামাল লোহানী, ১৯ জুন ২০০১ পৃষ্ঠা:১৭
  • দৈনিক জনকন্ঠ- লেখক সন্তোষ গুপ্ত, ১৯ জুন ২০০১ পৃষ্ঠা:১৭
  • আবদুল মান্নান সৈয়দ, দৈনিক ইনকিলাব ২২ জুন ২০০১ পৃষ্ঠা: ১২
  • মুন্সী আবদুল মন্নান , দৈনিক ইনকিলাব ২২ জুন ২০০১ পৃষ্ঠা: ১৩