প্রধান মেনু খুলুন

সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মাগুরা

মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি মাগুরা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এই কলেজটি বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত।

মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ
ধরনসরকারি কলেজ
স্থাপিত১৯৪০
প্রতিষ্ঠাতাহোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
অধ্যক্ষপ্রফেসর শাহাজ উদ্দিন
শিক্ষার্থী১০,০০০+
স্নাতকবিএ, বিবিএ, বিএসসি, বিএসএস
স্নাতকোত্তরএমএ
ঠিকানা
মাগুরা
, , ,
২৩°২৯′২০″ উত্তর ৮৯°২৫′০৮″ পূর্ব / ২৩.৪৮৮৮৫০° উত্তর ৮৯.৪১৮৯৭৫° পূর্ব / 23.488850; 89.418975স্থানাঙ্ক: ২৩°২৯′২০″ উত্তর ৮৯°২৫′০৮″ পূর্ব / ২৩.৪৮৮৮৫০° উত্তর ৮৯.৪১৮৯৭৫° পূর্ব / 23.488850; 89.418975
শিক্ষাঙ্গনশহরের এম আর রোড
অধিভুক্তিজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
ওয়েবসাইটhsscollegemagura.com

পরিচ্ছেদসমূহ

কলেজ ইতিহাসসম্পাদনা

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ হিসাবে ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠার পটভূমিসম্পাদনা

ইতিহাস থেকে জানা যায়, মাগুরার জনপদ ছিল কুসংস্কার ও অন্ধকারাচ্ছন্ন। অনগ্রসর, অবহেলিত এবং আধুনিক শিক্ষা-সভ্যতার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। কুসংস্কার বেষ্টিত অবহেলিত ও বঞ্চিত অনগ্রসর মাগুরা বাসির অন্ধকরাচ্ছন্ন অন্তর আলোকিত করার প্রত্যয়ে মাগুরার বুকে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি বিদ্যানিকেতন। যা আজকের সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মাগুরা। ১৯৩৮ সাল। তৎকালীন মাগুরা মহকুমার অন্যতম বিদ্যাপীঠ মাগুরা আব্দুল গনি হাই মাদ্রাসা (বর্তমানে মাগুরা এ.জি. একাডেমি)। এ সময়ে এই মাদ্রাসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র স্বর্ণপদক প্রাপ্ত মৌলভী মোঃ মোখলেছুর রহমান সুপারিনটেন্ডন্ট হিসেবে যোগদান করেন। মাগুরার সাধারণ মানুষ যেমন ছিলেন সহজ-সরল, তেমন কিছুটা কুসংস্কারাচ্ছন্ন। এ সময়কার অধিকাংশ মুসলিম পরিবারই মাগুরা হাই ইংলিশ স্কুলকে (বর্তমান মাগুরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়) বিধর্মীদের স্কুল হিসেবে ভাবতেন। ফলে তাঁদের ছেলে-মেয়েকে ঐ স্কুলে ভর্তি করতে অনিহা দেখাতেন। মাগুরা আব্দুল গনি হাই মাদ্রাসাই ছিল মাগুরার মুসলমানদের একমাত্র পছন্দের বিদ্যাপীঠ। কিন্ত হাই মাদ্রাসা থেকে পাশ করে মুসলমান ছাত্রদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের তেমন কোন সুযোগ ছিল না। কেননা হাই মাদ্রাসার পরবর্তী স্তরের শিক্ষা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সুযোগ ছিল তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, হুগলী এবং আসাম প্রদেশের সিলেটে। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে এ সব স্থানের অবস্থান ছিল মাগুরা থেকে অনেক দূরে। মাগুরা থেকে এ সব স্থানে গিয়ে লেখাপড়া করা ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য ছিল। মাগুরা বাসির উচ্চশিক্ষার সুযোগ যাতে সহজতর হয় সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৪০ সালে মাগুরা আব্দুল গনি হাই মাদ্রাসা ভবনের উত্তর এবং দক্ষিণ দিকে (পুরাতন প্রশাসনিক ভবন যে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে এবং শহীদ মিনার সংলগ্ন স্থান) দু’টি দোচালা টিনের ঘর তৈরী করে প্রতিষ্ঠিত হয় মাগুরা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ। এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হন মৌলভী মোঃ মোখলেছুর রহমান। স্যার মোঃ মোখলেছুর রহমান কলেজ প্রতিষ্ঠার পর এর উন্নয়নের লক্ষ্যে নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কলেজটির নামকরণ করা হয় অবিভক্ত বাংলার তদানিন্তন সিভিল সাপ্লাই (ফুড) মন্ত্রী জনাব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে – মাগুরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ। অধ্যক্ষ মৌলভী মোঃ মোখলেছুর রহমান মাগুরার স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে জনাব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর নামে নামাঙ্কিত কলেজটির জন্য সাহায্য-সহযোগীতা কামনা করেন। ১৯৪৩ সালে মাননীয় মন্ত্রী কলেজটি পরিদর্শনে আসেন। এ সময় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন তাঁর বন্ধু টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রায় বাহাদুর রনদা প্রসাদ সাহা। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাড়া পেয়ে আর.পি. সাহা কলেজটির জন্য এক লক্ষ টাকা সাহায্যের ঘোষণা দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে রৌপ্যমুদ্রায় পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করেন। [১]

কলেজ ভবনসম্পাদনা

শিক্ষা কার্যক্রমসম্পাদনা

১৯৬২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি চালু হওয়ার পর থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ১৪টি বিষয়

  1. বাংলা
  2. ইংরেজি
  3. অর্থনীতি
  4. যুক্তিবিদ্যা
  5. পৌরনীতি
  6. ইসলামি শিক্ষা
  7. ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
  8. হিসাববিজ্ঞান
  9. ব্যবস্থাপনা
  10. পদার্থবিদ্যা
  11. রসায়ন
  12. গণিত
  13. উদ্ভিদবিদ্যা এবং
  14. প্রাণিবিদ্যা চালু ছিল।

প্রফেসর মোঃ এলিয়াছ হোসেন (বর্তমানে পরিচালক, মাধ্যমিক; মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষাভবন, ঢাকা) ২৯ মে, ২০১১ তে ১৮তম অধ্যক্ষ হিসেবে এ কলেজে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরই প্রফেসর ইলিয়াছ উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে আরো ১০টি বিষয়

  1. পরিসংখ্যান
  2. ইতিহাস
  3. কৃষি শিক্ষা
  4. সমাজবিজ্ঞান
  5. সমাজকর্ম
  6. ভূগোল
  7. মনোবিজ্ঞান
  8. গার্হস্থ্য বিজ্ঞান
  9. উৎপাদন ব্যবস্থা ও বিপণন
  10. ফিন্যান্স ব্যাংকিংও বীমা অন্তর্ভূক্তির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং যশোর শিক্ষা বোর্ড কলেজের আবেদন পর্যালোচনা করে ২০১১ সাল থেকে উল্লিখিত ১০টি বিষয়কে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে পাঠদানের অনুমতি প্রদান করেন। বর্তমানে কলেজটিতে

  1. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আবশ্যিক বিষয়) সহ মোট ২৫টি বিষয়ে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে পাঠদান করা হয়। উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে আরো ৫টি
  2. সমাজকল্যাণ
  3. ফিসারিজ
  4. ফরেস্ট্রি
  5. ম্যাস কমিউনিকেশন এন্ড জার্নালিজম
  6. ডিজাস্টার সাইন্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট বিষয়কে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং যশোর বোর্ডের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

২০১৩ সালে ১৪টি চালুকৃত অনার্স বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালুর জন্য আবেদন করা হয়। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২৬ মে, ২০১৩ সালে ৩টি

বিয়য়ে মাস্টার্স কোর্স চালুর অনুমতি প্রদান করে। এর পর ১৩ অক্টোবর, ২০১৪ সালে ৫টি

বিষয়ে এবং ২ জুন, ২০১৫ সালে ১টি

বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু হয়। বর্তমানে কলেজটিতে ৯টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। ২০১১ সালে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে ১০টি বিষয় এবং ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে ৯টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালুর ক্ষেত্রে মাগুরার কৃতি সন্তান প্রয়াত সংসদ সদস্য ডা. সিরাজুল আকবর এমপি এবং সরকারি হেসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রাক্তন ছাত্র প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব এ্যাড. সাইফুজ্জামান শিখর আন্তরিকতাপূর্ণভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করেন। বর্তমানে কলেজটিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী , মাগুরায় বর্তমান শিক্ষক পদের সংখ্যা

  1. বাংলা-৪
  2. ইংরেজি-৪
  3. অর্থনীতি-৪
  4. রাষ্টবিজ্ঞান-৪
  5. ইসলামি শিক্ষা-২
  6. দর্শন-৪
  7. ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি-৪
  8. হিসাববিজ্ঞান-৪
  9. ব্যবস্থাপনা-৪
  10. পদার্থবিদ্যা-৪
  11. রসায়ন-৪
  12. গণিত-৪
  13. উদ্ভিদবিদ্যা-৪
  14. প্রাণিবিদ্যা-৪ নিয়ে ৫৪টি।

আরো ৫২টি শিক্ষক পদ সৃষ্টির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদান করা হয়েছে। বর্তমানে যা বিবেচনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অপেক্ষমান রয়েছে।

অধ্যক্ষবৃন্দসম্পাদনা

১৯৪০ সাল থেকে ২০১৬ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ , মাগুরা যাঁরা অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন-

  • মৌলভী মোখলেছুর রহমান- প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ (১৮/০৮/১৯৪০ থেকে ৩০/০৬/১৯৭৮)
  • মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (৩১/০৩/১৯৮০ থেকে ২৯/০১/১৯৮২)
  • কাজী মোঃ আব্দুস সোবহান (১৫/০৭/১৯৮৬ থেকে ৩০/১২/১৯৮৯)
  • অনিল কৃষ্ণ ঘোষ (০১/০১/১৯৯০ থেকে ২৯/০৮/১৯৯১)
  • প্রফেসর মোশাররফ হোসেন (০৪/০৩/১৯৯২ থেকে ০৪/০৫/১৯৯৩)
  • প্রফেসর মোঃ মাহাতাব উদ্দিন সরকার (১০/০৫/১৯৯৩ থেকে ০৩/০১/১৯৯৫)
  • প্রফেসর মোঃ আব্দুল কুদ্দুস (০৪/০১/১৯৯৫ থেকে ০২/১২/২০০০)
  • প্রফেসর মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (১৯/০৪/২০০১ থেকে ০৪/০৮/২০০১)
  • প্রফেসর মোঃ নজরুল ইসলাম (০৯/০৯/২০০১ থেকে ০৫/১২/২০০১)
  • প্রফেসর শেখ লুৎফর রহমান (২৮/০৫/২০০২ থেকে ০৬/০৯/২০০৩)
  • প্রফেসর হাবিবুল হাসান (০৬/০৯/২০০৩ থেকে ১৩/০৯/২০০৪)
  • প্রফেসর মোঃ আনোয়ারুল হক (২৪/১১/২০০৪ থেকে ২৯/০৮/২০০৫)
  • প্রফেসর মুজিবুর রহমান (১৮/০৭/২০০৬ থেকে ২৮/১২/২০০৭)
  • প্রফেসর হাফিজুর রহমান মিয়া (২৯/০১/২০০৭ থেকে ২৯/০১/২০০৭)
  • প্রফেসর মোঃ মকবুল হোসেন (০৭/০২/২০০৭ থেকে ০৪/১২/২০০৭)
  • প্রফেসর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান (০৮/০১/২০০৮ থেকে ২৮/০৪/২০০৯)
  • প্রফেসর মোঃ আব্দুল বাছিত মিঞা (২৩/০৭/২০০৯ থেকে ০৬/০৩/২০১১)
  • প্রফেসর মোঃ এলিয়াছ হোসেন (২৯/০৫/২০১১ থেকে ২০/১০/২০১৪)
  • প্রফেসর মোঃ শাহাজ উদ্দীন (২৪/০১/২০১৫ থেকে অদ্যাবধি)।

সংগঠনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৬ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০১৬