সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ)

সম্মিলিত বিরোধী দল বা কপ (ইংরেজি: Combined Opposition Parties বা COP) ১৯৬৫ সালে অবিভক্ত পাকিস্তানে[১] গঠিত একটি বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক মোর্চ্চা; বাংলায় 'কপ'– নামে এই মোর্চ্চা দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা দিলে দেশের রাজনীতিক দলগুলো জোট বেঁধে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই লক্ষ্য নিয়েই ২৬ জুলাই 'সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ)' গঠিত হয়।

গঠনসম্পাদনা

১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে 'কপ' গঠিত হয় আইয়ুব-বিরোধী মুসলিম লীগ নেতা খাজা নাজিমুদ্দিনের নেতৃত্বে। 'কপ'-এর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো হলো: আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, নেজামে ইসলামজামায়াতে ইসলাম। সামরিক শাসক আইয়ুব খানকে ক্ষমতাচ্যূত করাই ছিল এই বিরোধীদদলীয় মোর্চ্চা গঠনের একমাত্র উদ্দেশ্য।

ফাতেমা জিন্নাকে মনোনয়নসম্পাদনা

করাচিতে অনুষ্ঠিত 'কপ'-এর কেন্দ্রীয় সভায় পাকিস্তানের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্‌'র ভগ্নি মিস ফাতিমা জিন্নাহকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে খাজা নাজিমুদ্দিনশেখ মুজিবর রহমান সহ একদল রাজনৈতিক নেতা ফাতেমা জিন্নাহ'র সঙ্গে দেখা করেন এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বিশেষ করে সামরিক শাসককে অপসারণের লক্ষ্যে পদে প্রতিদ্বান্দ্বিতা করার প্রস্তাব দেন। ফাতিমা জিন্নাহ এ প্রস্তাবে সম্মত হলেন। ফাতিমা জিন্নাহ কেবল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্‌'র ভগ্নি ছিলেন তা নয়, ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দরনে তিনি তাৎপর্যময় ভূমিকা রেখেছিনে। এ জন্যে তাকে মাদার-ই-মিল্লাত নামে আখ্যায়িত করা হতো। অন্যদিকে কনভেনশন মুসলিম লীগ আইয়ুব খানকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন প্রদান করে। ১৯৬৫'র মৌলিক গণতন্ত্র নির্বাচনের আগে এই মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনের ফলাফলসম্পাদনা

১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের ২ জানুয়ার তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী অংশ গ্রহণ করে। ফাতিমা জিন্নাহ'র মার্কা ছিল হারিকেন। তিনি পরাজিত হন। গোলপ ফুল মার্কা নিয়ে পাকিস্তনের প্রেসিডেন্ট হলেন আইয়ুব খান। এই নির্বাচনে সর্বমোট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ছিল ৪ জন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. পাকিস্তান ১৯৭১ সালে একটি জন যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে বিভক্ত হয় ওবং এর পূবার্ঞ্চল বাংলাদেশ নামীয় স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে আবির্ভূত হয়।

বহি:সংযোগসম্পাদনা