হোয়াইট মুঘলস বা 'শ্বেত মুঘল' হল ২০০২ সালে প্রকাশিত উইলিয়াম ডালরিম্পল রচিত একটি ইতিহাসের বই।

হোয়াইট মুঘলস
চিত্র:White Mughals.jpg
লেখকউইলিয়াম ডালরিম্পল
দেশযুক্তরাজ্য
ভাষাইংরাজী
বিষয়আখ্যানধর্মী ইতিহাস
প্রকাশকপেঙ্গুইন বুকস
প্রকাশনার তারিখ
২৯ মার্চ ২০০২
মিডিয়া ধরনমুদ্রণ (বাঁধাই, পেপারব্যাক)
পৃষ্ঠাসংখ্যা৫১২ পৃ. (পেপারব্যাক সংস্করণ)
আইএসবিএন০-১৪-২০০৪১২-X
ওসিএলসি৫৫১২১৯৮০
পূর্ববর্তী বইদ্য এজ অফ কালী 
পরবর্তী বইবেগম ঠগস অ্যান্ড হোয়াইট মুঘলস 

এটি ডালরিম্পলের পঞ্চম প্রধান গ্রন্থ। এতে উনিশ শতকের গোড়ার দিকে জেমস অ্যাকিলিস কিরকপ্যাট্রিক এবং খায়ের-উন-নিসা বেগমের মধ্যের প্রেমের সম্পর্কের সত্য ঘটনাটি বর্ণনা করা হয়েছে।

সারসংক্ষেপসম্পাদনা

অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ এবং কিছু ভারতীয়ের মধ্যে গড়ে ওঠা উষ্ণ সম্পর্কের একটি সামাজিক ইতিহাস হল এই বইটির বিষয়বস্তু। তখন ভারতে তিনজন ব্রিটিশ পুরুষ ভারতীয় মহিলার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। এটি ব্রিটিশ অফিসারদের মধ্যে আন্ত-জাতিগত যোগাযোগ সম্পর্কিত নথি প্রদান করে। যেমন চার্লস "হিন্দু" স্টুয়ার্ট -এর সাথে ভারতীয় হিন্দু ধর্মের সম্পর্ক আঠারো শতকের শেষদিকে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছিল। একইভাবে প্রাক-আধুনিক যুগে দুজনের মধ্যে আশ্চর্যজনকভাবে সম্পর্কের উপর ভর করে খ্রিস্টান ও ইসলামের মিথস্ক্রিয়াও পরীক্ষিত হয়েছে।

হোয়াইট মুঘলস এর কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দুতে দেখানো রয়েছে হায়দরাবাদ বাসিন্দা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-এর এক ব্রিটিশ গণ্যমান্য ব্যক্তি ক্যাপ্টেন জেমস অ্যাকিলিস কির্কপ্যাট্রিক-এর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে রাজকীয় মুঘল বংশজাত এক হায়দ্রাবাদী আভিজাত মহিলা খয়ের-উন-নিসাকে বিয়ে করার ঘটনা। হায়দরাবাদে ব্রিটিশ বাসিন্দা হিসাবে কিরকপ্যাট্রিককে তাঁর কর্মদাতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং হায়দরাবাদের নিজাম এর প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তার সাথে সামঞ্জস্য বিধান করতে দেখানো হয়েছে।

হোয়াইট মুঘলস এর শিরোনামেই নির্দেশ করা হয়েছে: ১৮ শতকের শেষের দিকে এবং ১৯ শতকের গোড়ার দিকে ভারতে 'মানুষের মধ্যে সংস্কৃতি এবং ধ্যান-ধারণার এক অপ্রত্যাশিত এবং অপরিকল্পিত মিশ্রণ ঘটেছিল'। বইটির এক স্তরে ‘পুরোপুরি প্রাচ্য’ হয়ে ওঠা হায়দ্রাবাদের ব্রিটিশ বাসিন্দা জেমস কিরকপ্যাট্রিক এবং একজন সুন্দরী অভিজাত মুসলিম তরুণী খয়ের-উন-নিসার মর্মান্তিক প্রেমের গল্পটি বলা হয়েছে। অন্য স্তরে চিঠি, ডায়েরি, রিপোর্ট এবং প্রেরিত-তথ্যের মধ্যে থেকে ডালরিম্পলের গবেষণার উপর ভিত্তি করে (এর বেশিরভাগ অংশ গোপনীয় সংকেতে লেখা) কাহিনীটিতে বিবৃত করা হয়েছে বাণিজ্য, সামরিক এবং রাজনৈতিক লেনদেন বিষয়ে। এই উৎসগুলির মধ্যে থেকে তিনি যৌন মনোভাব এবং সামাজিক শিষ্টাচারের একটি আকর্ষণীয় চিত্র আঁকেন। ইভাঞ্জেলিকাল খ্রিস্ট ধর্মের উত্থানের প্রভাবে মিশ্র সন্ততিদের উপর ইউরোপীয় এবং ভারতীয়দের মধ্যে যে একটি "ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদী হয়ে ওঠা এবং উড়িয়ে দেওয়ার মনোভাব থাকে", তা তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন। তিনি একজন উপন্যাসিকের দক্ষতায় তাকে ক্রমান্বয়ে প্রকাশ করেছেন এবং আমাদেরকে কিরকপ্যাট্রিকের মৃত্যুর পরে "পুরো গল্পের সবচেয়ে দুঃখজনক অংশে" নিয়ে গেছেন। নষ্ট প্রেমীদের প্রকৃতপক্ষে একটি আশাবাদী প্রত্যাশার জন্ম দেয়, যখন তাঁদের দুই সন্তান ব্রিটেনে চলে যায়। তাঁদের কন্যা কিটি স্কটিশ লেখক এবং দার্শনিক থমাস কার্লাইল এর বন্ধু এবং ঘনিষ্ট হয়ে ওঠেন এবং হেনরি রাসেল এর মাধ্যমে ভারতে তাঁর মাতুলানীর সাথে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

জনপ্রিয় সংস্কৃতিসম্পাদনা

২০১১ সালের আগস্টে উইলিয়াম ডালরিম্পল ঘোষণা করেছিলেন যে রেফ ফাইঞ্জ হোয়াইট মুঘলস সিনেমার সংস্করণটি পরিচালনা করবেন এবং তাতে অভিনয় করবেন।[১][২][৩]

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Raj, Anand (১ মার্চ ২০১৩)। "William Dalrymple: If I had five more lives, I'd live them all in India"Gulf News। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুলাই ২০১৩ 
  2. "Lord Voldemort to direct The White Mughals?"The Indian Express। ৪ আগস্ট ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুলাই ২০১৩ 
  3. "In pursuit of a king"The Telegraph (Calcutta)। ২০ জানুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুলাই ২০১৩