শিবালিক পর্বতশ্রেণি

শিবালিক পর্বতশ্রেণী বা শিবালিক পাহাড় বাইরের হিমালয় একটি পর্বতশ্রেণি। এই পর্বতশ্রেনি ২,৪০০ কিমি (১,৫০০ মা) দীর্ঘ এবং সিন্ধু নদের কাছ থেকে শুরু হয় এবং ব্রহ্মপুত্রের নিকটে শেষ হয়, সঙ্গে আসামের তিস্তা ও রায়দাক নদীর মাঝে ৯০ কিলোমিটার (৫৬ মা) এলাকা জুড়ে পর্বতশ্রেণিটি বিচ্ছিন্ন।  শিবালিক পর্বতশ্রেনির প্রস্থ স্থান ভেদে পরিবর্তিত হয়ে হয় ১০ থেকে ৫০ কিমি (৬.২ থেকে ৩১.১ মা), এর গড় উচ্চতা পরিবর্তিত হয়ে হয় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ মি (৪,৯০০ থেকে ৬,৬০০ ফু)।[১]

কালিম্পং শহরের দৃশ দূরবর্তী একটি পাহাড় থেকে। পটভূমিতে হিমালয় পর্বত।

কিছু সংস্কৃত গ্রন্থে, এই অঞ্চলটি মানাক পার্বত নামে পরিচিত।[২] শিবালিকের আক্ষরিক অর্থ 'শিবের কাপড়চোপড়'।[৩] ব্যবহৃত অন্যান্য বানান বৈচিত্রে শিবালিক এবং সিওয়ালিক অন্তর্ভুক্ত হয়, যা হিন্দি এবং নেপালি শব্দ শিবালিক পারভাত থেকে উদ্ভূত। অন্যান্য নামগুলির মধ্যে রয়েছে চুরিয়া পাহাড়, চুরি পাহাড় এবং মার্গাল্লা পাহাড়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ভূতত্ত্বসম্পাদনা

 
গঙ্গা শিবালিক পর্বতশ্রেনির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে।
 
সুখনা হ্রদ থেকে শিবালিক পর্বতশ্রেনির দৃশ।

ভূতাত্ত্বিকভাবে, শিবালিক পর্বতশ্রেনি  বাইরের হিমালয়ের টারসিয়ারি সময়ের সঞ্চয়ের অন্তর্গত। পর্বতশ্রেনিটি প্রধানত বেলেপাথর এবং গোষ্ঠি শিলার গঠন, যা তাদের উত্তরে বৃহৎ পর্বতশ্রেণীর দৃঢ় অবস্থান, কিন্তু প্রায়ই দুর্বল ভাবে একত্রীকৃত।।[৪] কারণালি নদীতে পাওয়া বেলেপাথর ও বেলেপাথরের অবশেষ ১৬-৫.২ মিলিয়ন বছরের পুরানো একটি অবক্ষেপনের হিসাবে প্রমাণিত যা নেপালে শিবালিক পর্বতশ্রেনির  প্রাচীনতম অংশ প্রকাশ করে।

তারা হিমালয়ের দক্ষিণতম এবং ভূতাত্ত্বিক ভাবে কনিষ্ঠ পূর্ব-পশ্চিম গিরিশ্রেণি। পর্বতশ্রেনির অনেক উপ-শ্রেণি আছে এবং অরুনাচল প্রদেশ থেকে প্রসারিত হয়ে ভুটান, পশ্চিমবঙ্গের মাধ্য দিয়ে পশ্চিম দিকে নেপাল এবং উত্তরাখন্ডে পৌছায় এই পর্বতশ্রেনি এবং আরো পশ্চিম দিকে হিমাচল প্রদেশ ও কাশ্মীর মধ্যে অব্যাহত থাকে পর্বতশ্রেণিটি। হিমালয় থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত অসংখ্য বড় নদীগুলির দ্বারা পর্বতশ্রেণিটি কিছুটা অন্তর অন্তর বিছিন্ন ভাবে আবস্থান করে আর বিছিন্ন স্থানে গিরিখাদ গঠন করেছে।

প্রাক-ঐতিহাসিকসম্পাদনা

সিওালিক অঞ্চলে সিবাপিথেকাসের  (একটি এফ, পূর্বে রামাপিথেকাস নামে পরিচিত) অনেক জীবাশ্ম খুঁজে পাওয়া যায়।

শিয়ালিক পাহাড় এশিয়ার যে কোনও জায়গায়র বড় বড় পশুদের জীবাশ্মের এলাকা গুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধ। পাহাড়গুলো জানায় যে সব ধরনের পশু সেখানে বাস করে। এই প্সহু বা প্রাণী গুলি হল স্লথ বিয়ার, সাভেথেরিয়াম, একটি প্রাচীন জিরাফ, কালোসোশেলেস এটাসের প্রাচীন পূর্বপুরুষ ছিল, অন্য প্রাণীর মধ্য শিয়ালিক দৈত্য কচ্ছপ, ম্যাগাজেল্লি আলেস নামক একটি দৈত্য কচ্ছপ প্রভৃতি।[৫]

নিম্ন প্যালোলিথিকের অবশিষ্টাংশ হিসাবে (৫০০,০০০ থেকে ১২৫,০০০ বি.পি.) সাওলিক অঞ্চলে সোনিয়ান সংস্কৃতি পাওয়া গেছে।[৬][৭] এশেলিয়নের সমকালীন, পাকিস্তানের শিয়ালিক পাহাড়ের সোয়ান ভ্যালির উপর ভিত্তি করে সোনিয়ান সংস্কৃতির নামকরণ করা হয়। এই সংস্কৃতির ধারককেরা হোমো ইরেকটাস ছিলেন।

জনসংখ্যার উপাত্তসম্পাদনা

সিওয়ালিকের কম জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং মহাভারত অঞ্চলের খাড়া দক্ষিণ ঢালু বরাবর সমতল বনভূমিতে ম্যালেরিয়ার প্রকপের ফলে সাংস্কৃতিক, ভাষাগত এবং দক্ষিণে সমভূমিতে ঘন জনবসতির মধ্যে রাজনৈতিক বাফর অঞ্চল গঠিত হয় এবং মহাভারতকে অতিক্রম করে "পর্বতমালা" একে অপর থেকে দুটি জনগোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্ন করে এবং ভাষা, জাতি ও সংস্কৃতির সম্মানের সঙ্গে বিভিন্ন বিবর্তনীয় পাথ সক্রিয় রাখে।

লেপচা সম্প্রদায়ের লোকেরা সিকিম ও দার্জিলিং এলাকায় বাস করে।

সংস্কৃতিসম্পাদনা

ভারতীয় নৌবাহিনীর ''শিবালক শ্রেণি ফ্রিগেট''কে এই পর্বতশ্রেণির নামে নামকরণ করা হয়ছে।

আরও দেখুনসম্পাদনা

  • মার্গাল্লা পাহাড় - ইসলামাবাদ অঞ্চলের উপ-পর্বতশ্রেনি।
  • শিবালিক ফসিল পার্ক
  • ফ্রেডেরিক ওয়াল্টার চ্যাম্পিয়ন, বনপাল এবং বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফারকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এখানে পোস্ট করা হয়েছে
  • দুন্দ্বা পর্বতশ্রেনি - উপ-পর্বতশ্রেনিটি বিভক্ত করে -পশ্চিমাঞ্চলীয় নেপালের অভ্যন্তর তড়াই উপত্যকা দেউখুরিকে-উত্তারপ্রদেশের বালারামপুর ও শরভাতি জেলার বহিরাগত তড়াই উপত্যকা থেকে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Kohli, M. S. (2004). Mountains of India: Tourism, Adventure, Pilgrimage. Indus Publishing, New Delhi.
  2. Kohli, M.S. (২০০২)। Mountains of India: Tourism, Adventure and Pilgrimage। Indus Publishing। পৃষ্ঠা 25–। আইএসবিএন 978-81-7387-135-1 
  3. Balokhra, J. M. (1999). The Wonderland of Himachal Pradesh. Revised and enlarged 4th edition. H.G. Publications, New Delhi.
  4. [./File:Wikisource-logo.svg  ]
  5. http://www.bbc.com/earth/story/20150519-the-truth-about-giant-tortoises
  6. Is the Soanian techno-complex a Mode 1 or Mode 3 phenomenon? A morphometric assessment[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  7. "Distribution of Acheulian sites in the Siwalik region"। ৪ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১৮