শিখণ্ডী (সংস্কৃত: शिखंडी) হিন্দু মহাকাব্য মহাভারতের একটি চরিত্র। দ্রুপদ কন্যা ও দ্রৌপদীর বড় বোন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তার পিতা দ্রুপদ ও ভাই ধৃষ্টদ্যুম্ন এর সাথে পাণ্ডবদের পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন এবং ভীষ্মের মৃত্যুর কারণ হয়েছিলেন। তার পুত্রের নাম ক্ষত্রদেব।[১]

কৃপা শিখণ্ডীর সাথে যুদ্ধ করছে (ওপরের ডানে).

পূর্বজন্মসম্পাদনা

পূর্বজন্মে শিখণ্ডী ছিলেন কাশীরাজার বড় মেয়ে অম্বা। হস্তিনাপুরের রাজা বিচিত্রবীর্য এর সাথে বিয়ে দেয়ার জন্য ভীষ্ম তাঁর দুই বোনসহ তাঁকে স্বয়ম্বর সভা থেকে জয় করে নিয়ে যান। কিন্তু তিনি সুবলের রাজ শাল্বকে ভালোবাসেন জেনে বিচিত্রবীর্য তাঁকে বিয়ে করেননি। শাল্বও পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে তাঁকে বিয়ে করতে রাজী না হওয়ায় তাঁর দুর্দশার জন্য তিনি ভীষ্মকে দায়ী করেন এবং ভীষ্মের মৃত্যু কামনায় সাধনা করে শিবের বর লাভ করে শিখণ্ডী নামে দ্রুপদ রাজার মেয়ে হিসেবে জন্ম গ্রহণ করেন।[২]

শৈশব ও পুরুষত্ব লাভসম্পাদনা

শৈশবে শিখণ্ডী রাজপ্রাসাদের ফটকে রাখা একটা মালায় গলায় পড়ে দ্রুপদের কাছে এলে দ্রুপদ বুঝতে পারে শিখণ্ডীই অম্বা। কারণ কার্ত্তিকের প্রদত্ত চিরসবুজ পদ্মের মালাটি শুধু অম্বাই পরতে পারতো। তখন রাজা ভীষ্মের আক্রমণ এড়ানোর জন্য শিখণ্ডীকে বনে থাকার ব্যবস্থা করেন।[৩] সেখানে শিখণ্ডী সাধনা করে স্থুণাকর্ণ নামে এক যক্ষের কাছ থেকে পুরুষত্ব লাভ করে। এরপর শিখণ্ডী বন থেকে রাজ প্রাসাদে ফিরে আসে। বিয়ে করে সংসারী হয়। তার ঔরসে ক্ষত্রদেবের জন্ম হয়।[৪]

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধসম্পাদনা

কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধে শিখণ্ডী পুরুষ যোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করে। ভীষ্মের সাথে যুদ্ধের সময় ভীষ্ম তাকে দ্রুপদের মেয়ে হিসেবে জানতে পেরে অস্ত্রপরিত্যাগ করে শরাক্রান্ত হয়ে শরশয্যায় শায়িত হয় এবং মৃত্যুবরণ করে। যুদ্ধের অষ্টাদশ দিনে অশ্বত্থামার সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে শিখণ্ডী মৃত‌্যুবরণ করে।[৫]

কোন কোন স্থানে বলা হয়েছে, শিখণ্ডীকে শুধু কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ১০ম দিন এই দেখা যায়, সে তার প্রতিজ্ঞা পূরণ তথা ভীষ্মদেবকে নিরস্ত্র করতে যুদ্ধে পদার্পণ করেন, সে যুদ্ধক্ষেত্রে যে প্রবেশ করবে একথা আগেই জানিয়া শকুনি শিখণ্ডীকে রুখতে মায়াস্ত্র যোজনা করেন এবং শিখণ্ডীকে তার রচিত সংক্ষিপ্ত বূহ্যে বন্দী করেন, যার মহারথী হিসেবে ছিলেন রাজকুমার দুঃশাসন, মহাবীর অশ্বত্থামা, আর গান্ধার রাজ শকুনি। শিখণ্ডীকে নিরস্ত্র করা সহজসাধ্য ব্যাপার ছিল না। আর তার সামনে তারা টিকতেও পারছিলেন না। শেষ পর্যায়ে মিলিত আক্রমনে শিখণ্ডী মারাত্মক আহত হলেন এবং মূর্ছা গেলেন। তারা শিখণ্ডীকে মৃত ভেবে চলে গেলেন। কিন্তু শিখণ্ডীর দেহে তখনও প্রাণ অবশিষ্ট ছিল যা হয়ত মহাবীর ভীষ্মদেবকে নিরস্ত্র বা পরাজিত করার জন্যই, শেষ পর্যন্ত সে তার প্রতিজ্ঞা রক্ষা করলেন এবং ভীষ্মদেব শরশয্যায় শায়িত হলেন। অনেকে বলেন এর পরই শিখণ্ডী মৃত্যুবরণ করেন। কারণ ১০ম দিনের পর আর কখনো তাকে রণাঙ্গনে দেখা যায়নি।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. মহাভারত
  2. Mahabharata Summary By Rajaji, Mahabharata Stories , Stories and Characters from Mahabharata, Mahabharatam in Telugu, Tamil, Kannada, Hindi
  3. The story of Shikandi - Characters/Persons from Mahabharata , Stories and Characters from Mahabharata, Mahabharatam in Telugu, Tamil, Kannada, Hindi
  4. "urday.in - urday Resources and Information."urday.in। ১৭ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০১৫ 
  5. "urday.in"urday.in। ১২ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০১৫