মোহাম্মদ শাহ আলম (৫ মে ১৯৫৮ - ২৯ মে ১৯৮৯)[১] হলেন একজন কৃতি বাংলাদেশী ক্রীড়াবিদ। তিনি টানা দু'বার সাফ গেমসে দ্রুততম মানব হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।[২]

শাহ আলম
জন্ম
মোহাম্মদ শাহ আলম[১]

৫ মে ১৯৫৮
মৃত্যু২৯ মে ১৯৮৯(1989-05-29) (বয়স ৩১)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
পেশাএ্যাথলেট, সৈনিক
পরিচিতির কারণদৌড়বিদ
পুরস্কারস্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯১)

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতিসম্পাদনা

শাহ আলমের জন্ম ১৯৫৮ সালের ৫ মে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সাহেবনগর গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক কবির হোসেনের পরিবারে।[১]

শিক্ষা ও কর্মজীবনসম্পাদনা

দারিদ্রতার কারণে শাহ আলমের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত হয়নি; মাত্র দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সিপাহী পদে যোগদান করেন।[১]

ক্রীড়াক্ষেত্রে কৃতিত্বসম্পাদনা

১৯৮৪ সালের বাংলাদেশ গেমসে সেনাবাহিনীর হয়ে ২০০ মিটারে স্বর্ণ এবং ১০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জিতলেও পরের বছর থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর দ্রুততম মানব হন শাহ আলম।[১] একমাত্র স্প্রিন্টার হিসাবে তিনিই দু'দুবার দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম মানবের খেতাব অর্জন করেন ১৯৮৫ এবং ১৯৮৭ সালের সাফ গেমসে।[১][২] ১৯৮৮-এর সিউল অলিম্পিকে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন শাহ আলম।[৩]

মৃত্যুসম্পাদনা

১৯৮৯ সালের ২৯ মে বেইজিং এশিয়াডের জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিতে মোটরসাইকেলে মেহেরপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে পাবনার[৪] বেড়ার দাড়িয়াপুরে তেলবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে সাড়ে চার ঘণ্টা পর[১] শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তথনকার দেশসেরা অ্যাথলেট মোহাম্মদ শাহ আলম।

পুরস্কার ও সম্মননাসম্পাদনা

ক্রীড়া ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।[৫]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছেন অ্যাথলেট শাহ আলম"দৈনিক যুগান্তর অনলাইন। ৯ জুলাই ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০ অক্টোবর ২০১৭ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "হতাশার ভিড়ে আবার দ্রুততম শাহ আলম"দৈনিক কালের কন্ঠ অনলাইন। ১৯ জানুয়ারি ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২০ অক্টোবর ২০১৭ 
  3. "বাংলাদেশের এবার সর্বোচ্চসংখ্যক ক্রীড়াবিদ"দৈনিক নয়া দিগন্ত অনলাইন। ২১ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০ অক্টোবর ২০১৭ 
  4. "শাহ আলমের পর মাহবুব আলম"দৈনিক প্রথম আলো অনলাইন। ৫ ডিসেম্বর ২০১০। ৮ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ অক্টোবর ২০১৭ 
  5. "স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের তালিকা"মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৭