প্রধান মেনু খুলুন

শার্ঙ্গ(সংস্কৃত: शार्ङ्ग) হলো শ্রীবিষ্ণুর দ্বারা ব্যবহৃত ধনুকটির নাম৷[১] বিষ্ণুর অন্যান্য অস্ত্রগুলি হলো, সুদর্শন চক্র, নারায়ণাস্ত্র, বৈষ্ণবাস্ত্র, কৌমোদকী গদা ও নন্দক অসি৷ দক্ষিণ ভারত তথা তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশকেরলে শার্ঙ্গধনু কোদন্ড নামেও পরিচিত৷ কবি রামদাস রচিত বিভিন্ন কাব্যে তিনি রামকে কোদন্ডপাণি (অর্থাৎ যার হাতে কোদন্ড রয়েছে) নামে উল্লেখ করেন৷ মীরাবাঈও তার বিভিনন ভজনে শ্রীকৃষ্ণকে কোদন্ডপাণি বলে অভিহিত করেছেন৷

শার্ঙ্গ
The Hindu God Vishnu Riding on His Mount Garuda LACMA M.77.154.12.jpg
বাহন গরুড়সহ শার্ঙ্গহস্তে শ্রীবিষ্ণুর যুদ্ধে গমন
প্রকার ধনুক
ব্যবহার ইতিহাস
ব্যবহারকারী বিষ্ণু

শিবের হরধনু বা পিনাক তেরীর সময়েই তিনি মহাজাগতিকভাবে তার দ্বিতীয় খণ্ড হিসাবে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা শার্ঙ্গটি তৈরী করেন৷ একদা ব্রহ্মা শিব ও বিষ্ণুর মধ্যে কে বেশি শ্রেয় ও তীক্ষ্ণ ধনুর্বীর তা জানার ইচ্ছায় উভয় মধ্যে কৃৃত্রিম দ্বন্দ্বর সৃষ্টি করেন৷ তাদের এই যুদ্ধের ফলে সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্থিতিশীলতা ও সাম্যাবস্থা মষ্ট হতে থাকে৷ যুদ্ধ চলাকালীন রণডংকার হিসাবে ভগবান বিষ্ণু "হুং" মন্ত্রের আহ্বান দিলে সমস্ত দেবকুলের সামনে ভগবান শিবের পক্ষাঘাত হয় ও তিনি হরধনু ছাড়তে বাধ্য হন৷ সমস্ত দেবগণ ব্রহ্মার কাছে গিয়ে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষনার কথা বলেন ও বিষ্ণুকে জয়ী ঘোষনা করার আর্জি জানান৷[২][৩] ক্রুদ্ধ শিব তার ধনুকটিকে ছুড়ে ফেলেন যা পৃৃথিবীতে এসে পড়লে রাজা জনকের পূর্বপুরুষ দেবরথ তা খুঁজে পান৷ বিষ্ণুও ধনুক ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং তার ধনুকটি ঋচীক মুনিকে দান করেন৷ সময়ের সাথে শার্ঙ্গধনুকটি ঋচীক মুনির পৌত্র ও বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের কাছে এসে পৌঁছায়৷

মহাভারতে উল্লেখসম্পাদনা

শ্রীকৃষ্ণ হলেন শ্রীবিষ্ণুর অষ্টম অবতার স্বরূপ৷ একদা আগুনের দেবতা অগ্নিদেব ব্রাহ্মণদের দ্বারা যজ্ঞে অতিরিক্ত ঘৃৃতাহুতির ফলে পরিপাকজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন৷ তিনি প্রজাপতি ব্রহ্মার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন৷ ব্রহ্মা তাকে বর্তমান দিল্লির নিকটস্থ সমগ্র খাণ্ডববন আত্মস্যাত করে ক্ষুধা ও পরিপাক সমস্যার সমাধিন করার পরামর্শ দেন৷ এই পরামর্শ পেয়ে অতিশীঘ্রই সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যে সেই বনে বাসরত নাগরাজ তক্ষক ইন্দ্রদেবের পরম মিত্র৷ তিনি আরো জানতে পারেন যেন তার বাসস্থান তথা খাণ্ডববন রক্ষা করতে অন্দ্রদেব প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷ এরপর অগ্নিদেব খাণ্ডববনে ভ্রমণরত কৃৃষ্ণঅর্জুনের সাক্ষাৎ পান৷ অগ্নিদেব সমস্ত ঘটনা তাঁদের জানালে তারা অগ্নিদেবকে সাহায্য করবেন বলে আশ্বস্ত করেন৷ অর্জুন ও শ্রীকৃৃষ্ণ অগ্নিদেবকে জানান যে ইন্দ্রদেবের সাথে যুদ্ধ করতে তাদের মহাজাগতিক কোনো অস্ত্র বা ধনুকের প্রয়োজন৷ অগ্নিদেব বরুণ দেবের সহায়তায় অর্জুনকে গাণ্ডীব ধনুক ও অক্ষয় কবচ দান করেন৷ একই সময় খাণ্ডবদহনকালে শ্রীকৃৃষ্ণ তার সুদর্শন চক্র ও শার্ঙ্গ পান৷ এই যুদ্ধে অর্জুন ইন্দ্রদেবের সাথে ও কৃৃষ্ণ অন্যান্য সর্পকু ও দেবগণের সাথে যুদ্ধ করেন৷ পরিশেষে কৃৃষ্ণ ও অর্জুন যুদ্ধে জয়ী হন৷ এর পর থেকেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অস্ত্র হিসাবে শার্ঙ্গ ব্যবহার শুরু করেন৷ শুধু তাই না কৃষ্ণ-অর্জুন যুদ্ধকালেও কৃৃৃষ্ণ শার্ঙ্গ ব্যবহার করেছিলেন, যার ফলে ঐ যুদ্ধের কারোরই জয় নিশ্চিত হয়নি৷ অর্জুনের রাজসিংহাসনে বসার পর শ্রীকৃষ্ণ আবার শার্ঙ্গ সমুদ্রের জলে ছোড়েন, যা আবার বরুণ দেবের সংরক্ষণে আসে৷[৪] শ্রীকৃৃষ্ণের সহিত অলৌকিক শক্তি অধিকারী শল্ব দানবের যুদ্ধকালেও তিঁনি শার্ঙ্গধনুর ব্যবহার করেছিলেন৷ শল্ব কৃৃষ্ণের বামহাতে আঘাত করলে টার হাত থেকে শার্ঙ্গ পড়ে গেলে শ্রীকৃষ্ণ সুদর্শন চক্রের দ্বারা শল্বের শিরোচ্ছেদ করেন৷

রামায়ণে উল্লেখসম্পাদনা

শ্রীরাম ছিলেন শ্রীবিষ্ণুর সপ্তম অবতার রূপ৷ দশরথপুত্র রাম সীতার স্বয়ম্বরসভাতে প্রতিযোগীতার নিয়ম মেনে শিবের ধনুক পিনাককে ধনুস্থান থেকে তুলে ধরতে সফল হন৷ তিনি পিনাকে গুন পড়াতে গিয়ে হরধনু ভঙ্গ করেন৷ অযোধ্যায় ফেরার পথে পরশুরাম তার পথ আটকায় এবং তাকে শার্ঙ্গকেও তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানান৷ রাম খুব সহজেই তা তুলে ধরেন৷ কিছু পৌরানিক পুস্তকে এই ঘটনার ভিন্নরূপও পাওয়া যায় য, পরশুরাম অবতাররূপে নিজের শক্তির নিস্তেজিতা বুঝতে পারলে তিনিই রামকে ধনুকটি দান করেন৷ আরো কথিত রয়েছে যে শার্ঙ্গ প্রাপ্তির পর রাম পরশরামের নিকট বিষ্ণুরূপে দেখা দেন৷ তৎক্ষণাৎ পরশুরাম রামকে আশীর্ব্বাদ করেন এবং আজীবৎকাল এই ধনুক ব্যবহারের পরামর্শ দেন৷ রাম বিনম্রভাবে তার পরামর্শ মেনে নেন৷ রামচন্দ্র তার জীবদ্দশায় বিভিন্ন যুদ্ধে এই মহাজাগতিক ধনুকটি ব্যবহার করেছিলেন৷ রাম-রাবণ যুদ্ধকালে রাম এই ধনুকটিরই ব্যবহার করেছিলেন এবং রাবণ, কুম্ভকর্ণসহ একাধিক দৈত্যবধ করেছিলেন৷ রামের সিংহাসনে আরোহণকিলে তিনি তার এই শার্ঙ্গ ধনুকটি বরুণ দেবকে সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেন৷[৫]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা