শামসুজ্জামান খান

লোকসাহিত্য গবেষক ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক

শামসুজ্জামান খান (২৯ ডিসেম্বর ১৯৪০ - ১৪ এপ্রিল ২০২১[১]) ছিলেন একজন বাংলাদেশী অধ্যাপক, লোক সংস্কৃতি ও পল্লীসাহিত্য গবেষক এবং বাংলা একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক[২][৩] শামসুজ্জামান খানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কর্ম হল 'বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা' শিরোনামে ৬৪ খণ্ডে ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহসালা সম্পাদনা এবং ১১৪ খণ্ডে বাংলাদেশের ফোকলোর সংগ্রহমালা ' সম্পাদনা। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

শামসুজ্জামান খান
Shamsuzzaman Khan - Kolkata 2016-02-02 0543.JPG
শামসুজ্জামান খান, কলকাতা বই মেলা ২০১৬ তে
জন্ম(১৯৪০-১২-২৯)২৯ ডিসেম্বর ১৯৪০
চারিগ্রাম, সিংগাইর, মানিকগঞ্জ
মৃত্যু১৪ এপ্রিল ২০২১(2021-04-14) (বয়স ৮০)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
পেশাশিক্ষাবিদ, প্রশাসক, লোককাহিনীবিদ
পরিচিতির কারণগবেষক
পুরস্কারবাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০০১),
একুশে পদক (২০০৯),
স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (২০১৭)

প্রাথমিক জীবনসম্পাদনা

খানের বাবা এমআর খান কলকাতার সরকারী বাড়িতে অনুবাদক হিসেবে কাজ করেছিলেন। তাঁর দাদার দাদা এলহাদাদ খান এবং তার ভাই আদালাত খান ঐপনিবেশিক ভারতে অত্যন্ত প্রশংসিত নামী বুদ্ধিজীবী ছিলেন। শামসুজ্জামান খান মাত্র দুবছর বয়সে বাবাকে হারান। তার মা এবং দাদি তাঁকে লালন-পালন করেন।

খান ১৯৬৩ এবং ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যথাক্রমে অনার্স এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৬৪ সালে মুন্সীগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন। একই বছর তিনি জগন্নাথ কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন।

কর্মজীবনসম্পাদনা

খান তার শিক্ষকতা জীবন হরগঙ্গা কলেজে শুরু করেন। খান জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৮-৭৩) এবং বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৯৯-২০০১) এর শিক্ষক ছিলেন।

২৪ মে ২০০৯ সালে তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হন। তার পদের মেয়াদ তিনবার বাড়ানো হয় যা ২৩ মে ২০১৮ সালে শেষ হয়। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১ অক্টোবর ২০১৮ সালে শামসুজ্জামান খান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের 'বঙ্গবন্ধু চেয়ার'-এর অধ্যাপক পদে নিয়োগ পান।

সমালোচনাসম্পাদনা

খান বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ঢাকা লিট ফেস্ট আয়োজনের অনুমতি দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। কেননা এই উৎসব আয়োজন বিভিন্ন কারণে বাংলা একাডেমির আদর্শ-নীতি-উদেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক।[৪] সলিমুল্লাহ খান এক টিভি আলোচনা অনুষ্ঠানে একজন লেখক ও প্রশাসক হিসাবে তাঁর অনুপযুক্ততার দিকে ইঙ্গিত করে তার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।

কর্মসম্পাদনা

  • বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা
  • ফোকলোর সংগ্রহমালা
  • গবেষক

পুরস্কার ও সম্মননাসম্পাদনা

  • অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার (১৯৮৭);
  • কালুশাহ পুরস্কার (১৯৮৭);
  • দীনেশচন্দ্র সেন ফোকলোর পুরস্কার (১৯৯৪);
  • আব্দুর রউফ চৌধুরি স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯৮);
  • দেওয়ান গোলাম মোর্তজা পুরস্কার (১৯৯৯);
  • শহীদ সোহরাওয়ার্দী জাতীয় গবেষণা পুরস্কার (২০০১);
  • মীর মশাররফ হোসেন স্বর্ণপদক (২০০৪)
  • বাংলা একাডেমি পুরস্কার
  • একুশে পদক
  • স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৭)[৫]

মৃত্যুসম্পাদনা

অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান ২০২১ সালের ১৪ই এপ্রিল ঢাকায় করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. প্রতিবেদক, নিজস্ব। "বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান আর নেই"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-১৪ 
  2. "বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান"ডয়েস ভেল। ৩০ জানুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১৭ 
  3. "বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে শামসুজ্জামান খানের পুনর্নিয়োগ"দৈনিক ইত্তেফাক। ১৬ জুলাই ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১৭ 
  4. "'ঢাকা লিট ফেস্ট'-এর পৃষ্ঠপোষকতা ও ইংরেজিকে 'লিডিং' অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা! | মতামত"মতামত-বিশ্লেষণ। ২০১৮-১১-১২। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-১৯ 
  5. "শামসুজ্জামান খান"বিডিনিউজ২৪ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১৭ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা