শাক্যশ্রীভদ্র

বৌদ্ধ ভিক্ষু

শাক্যশ্রীভদ্র (১১২৭- ১২২৫) একজন বিখ্যাত ভারতীয় বৌদ্ধ পন্ডিত ছিলেন।

শাক্যশ্রীভদ্র

প্রথম জীবনসম্পাদনা

শাক্যশ্রীভদ্র কাশ্মীরের দশোভরা নামক স্থানে ১১২৭ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তার ভ্রাতার নাম ছিল বুদ্ধচন্দ্র। লক্ষ্মীধর নামক এক ব্রাহ্মণের নিকট তিনি দশ বছর বয়সে ব্যাকরণ অধ্যয়ন করেন। তেইশ বছর বয়সে সুখশ্রীভদ্রদেবের নিকট ভিক্ষুর শপথ গ্রহণ করেন। তিরিশ বছর বয়সে তিনি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় গমন করে শান্তকরগুপ্ত এবং দশবলের নিকট অধ্যয়ন করেন।[১]

তিব্বত যাত্রাসম্পাদনা

শাক্যশ্রীভদ্রের বয়স যখন সাতাত্তর, তখন খ্রো-ফু-লো-ত্সা-বা-ব্যাম্স-পা-দ্পাল ওয়াইলি: khro phu lo tsA ba rin chen seng+ge) নামক এক তরুণ তিব্বতী অনুবাদক তাকে তিব্বত যাত্রার আমন্ত্রণ করেন। মধ্যমক ও প্রজ্ঞাপারমিতা তত্ত্বের ওপর পন্ডিত সুগতশ্রী, বিনয় সম্বন্ধে পন্ডিত জয়দত্ত, বৈয়াকরণ ও অভিধর্ম সম্বন্ধে পন্ডিত বিভূতিচন্দ্র, তার্কিক দানশীল, ছন্দব্যাকরণবিদ সংঘশ্রী এবং বোধিচর্যাবতার, কালচন্দ্র ও কালচক্র সম্বন্ধে পন্ডিত মহাবোধি প্রভৃতি শাক্যশ্রীভদ্রের সাথে তিব্বত যাত্রা করেন।[১]

তিব্বতে বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষাদানসম্পাদনা

খ্রো-ফুতে তিনি প্রজ্ঞাপারমিতা, প্রতিমোক্ষ ও মহাযানসূত্রালঙ্কার সম্বন্ধে শিক্ষা দান করেন। এছাড়াও তিনি স্নার-থাং, ম্ত্শুর-ফু, র্বা-স্গ্রেং, থাং-পো-ছে ও সম-য়ে বৌদ্ধবিহার গমন করে সেখানেও শিক্ষাদান করেন। ১২১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ছোস-র্জে-সা-স্ক্যা-পান-ডি-তা-কুন-দ্গা'-র্গ্যাল-ম্ত্শানকে কালচক্র, বিনয়, ভাষাতত্ত্ব, তর্কবিদ্যা ও অভিধর্ম সম্বন্ধে শিক্ষাদান করেন। শাক্যশ্রীভদ্র ও সাক্য পন্ডিত উভয়ে মিলে ধর্মকীর্তি রচিত প্রমাণবার্তিক পুনরায় অনুবাদ করেন। শাক্যশ্রীভদ্র তিব্বতে গ্দান-গ্চিগ-পা (ওয়াইলি: gdan gcig pa) নামক একটি নতুন ধর্মসম্প্রদায় স্থাপন করেন। ১২১৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি তিব্বত ত্যাগ করে কাশ্মীর চলে যান।[১]

মৃত্যুসম্পাদনা

কাশ্মীরে বারো বছর অতিবাহিত করার সময় তিনি বহু বৌদ্ধ মন্দির স্থাপন করে ও বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করেন। ১২২৫ খ্রিষ্টাব্দ সেখানে তার মৃত্যু হয়।[১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Gardner, Alexander (2011-07)। "Śākyaśrībhadra"The Treasury of Lives: Biographies of Himalayan Religious Masters। সংগ্রহের তারিখ 2013-08-09  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)

আরো পড়ুনসম্পাদনা