লিঙ্গত্বক বা লিঙ্গাগ্রচর্ম হচ্ছে পুরুষ-লিঙ্গের অগ্রভাগে অবস্থিত বহু স্নায়ু-বিশিষ্ট চামড়া। এই চামড়া-টি অত্যন্ত মসৃণ এবং এতে প্রচুর পরিমাণ রক্তবাহী নালি রয়েছে। লিঙ্গত্বক দ্বিস্তর-বিশিষ্ট চামড়া যাতে আরও আছে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী (Mucous Membrane)।[১]

লিঙ্গত্বক
Penis without Labels.jpg
শিশ্নমুণ্ডের ওপর লিঙ্গত্বক টেনে আনা হয়েছে, তার সাথে লিঙ্গত্বকের শেষ প্রান্তে শৈলশিরাময় ত্বক দেখা যাচ্ছে।  
বিস্তারিত
পূর্বভ্রূণক্ষুদ্র কন্দ, জননাঙ্গের ভাঁজ
ধমনীপৃষ্ঠদেশীয় ধমনী
শিরাপৃষ্ঠদেশীয় শিরা
স্নায়ুপৃষ্ঠদেশীয় স্নায়ু
শনাক্তকারী
লাতিনPraeputium
মে-এসএইচD052816
টিএ৯৮A09.4.01.011
টিএ২3675
এফএমএFMA:19639
শারীরস্থান পরিভাষা

বর্ণনাসম্পাদনা

 
পুরুষের শরীরতত্ত্বের এক অঞ্চলের নকশা

লিঙ্গত্বকের কাজ হচ্ছে শিশ্নমুণ্ডটিকে(Glans) ঢেকে রাখা। পুরুষাঙ্গ যখন উত্তেজিত অবস্থায় থাকে তখন চামড়াটি পেছন দিকে সরে আসে। এটি খুবই স্পর্শকাতর একটি চামড়া যেহেতু এতে প্রচুর পরিমাণে স্নায়ু রয়েছে। শিশ্নমুণ্ডটিকে রক্ষা করাই লিঙ্গত্বকের একমাত্র কাজ নয়, এর আরেকটি কাজ হচ্ছে যৌন-সুখ বৃদ্ধি করা। শিশ্নদণ্ড(Shaft of the Penis)-এর চামড়ার সম্প্রসারিত অংশই হচ্ছে লিঙ্গত্বক যা লিঙ্গমুণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। কিন্তু লিঙ্গত্বকের ভেতরের অংশ হচ্ছে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী (Mucous Membrane) অনেকটা চোখের পাতার ভেতরের অংশ এবং মুখের ভেতরের অংশের ত্বকের মত। লিঙ্গত্বক-বন্ধনী (Frenulum) দ্বারা লিঙ্গত্বকটি শিশ্নমুণ্ডের সাথে যুক্ত থাকে।

কাজসম্পাদনা

লিঙ্গত্বক একটি বিশেষ ধরনের কলা যা স্নায়ু দ্বারা পরিপূর্ণ।[২] লিঙ্গত্বক পিছলে পিছলে চলে, যা সঙ্গমের সময় ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করে। [৩] যুক্তরাষ্ট্রের রয়াল ডাচ মেডিকেল অ্যাএসোসিয়েশনের অনেক যৌনবিজ্ঞানী ২০১০ সালে উল্লেখ করেছেন যে লিঙ্গত্বক একটি জটিল জনন কাঠামো যা লিঙ্গের যান্ত্রিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যেমন অন্তর্ভেদী মিলন এবং হস্তমৈথুন[৪]

আরো পড়ুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Phimosis (tight foreskin)"NHS Choices। ২৬ আগস্ট ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  2. Human Sexuality: An Encyclopedia. Routledge; 14 January 2014. ISBN 978-1-135-82502-7. p. 120–.
  3. O'Hara K (২০০২)। Sex as Nature Intended It: The Most Important Thing You Need to Know about Making Love, but No One Could Tell You Until Now। Turning Point Publications.। পৃষ্ঠা 72। 
  4. "Non-therapeutic circumcision of male minors (2010)"। KNMG। ১২ জুন ২০১০। 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা