প্রধান মেনু খুলুন

রেইনালদো বেনিয়োনে

রেইনালদো বেনিয়োনে আর্জেন্টিনার শেষ একনায়ক ও সাবেক সেনাশাসক। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনায় সামরিক শাসন চলে। জান্তা সরকারের এ শাসন প্রক্রিয়াকে অভিহিত করে 'ন্যাশনাল রি-অর্গানাইজেশন প্রসেস' নামে। এ আট বছরে চারজন সামরিক কর্মকর্তা কার্যত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। শেষ মেয়াদে ১৯৮২ সালের ১ জুলাই থেকে ১৯৮৩ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল রেইনালদো বেনিয়োনে।[১][২]

রেইনালদো বেনিয়োনে
RBignone.jpg
President of Argentina
De facto
কাজের মেয়াদ
July 1, 1982 – December 10, 1983
পূর্বসূরীAlfredo Oscar Saint Jean
উত্তরসূরীRaul Alfonsín
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মরেইনালদো বেনিতো অ্যান্টনিও বেনিয়োনে
(1928-01-21) ২১ জানুয়ারি ১৯২৮ (বয়স ৯১)
Morón, Buenos Aires
জাতীয়তাআর্জেন্টাইন
জীবিকাMilitary
সামরিক পরিষেবা
শাখাআর্জেন্টাইন আর্মি
কাজের মেয়াদ১৯৪৭-১৯৮১
পদমেজর জেনারেল

সামরিক কমান্ডারসম্পাদনা

 
রেইনালদো বেনিয়োনে

১৯৭৬ থেকে ৭৮ পর্যন্ত তিনি ক্যাম্পো দে মায়ো সেনাঘাঁটির কমান্ডার ছিলেন। বুয়েনস আয়ার্সের শহরতলির এ ঘাঁটিটি আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ও কুখ্যাত গোপন নির্যাতন ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সামরিক শাসনের এ আমলে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সরকারের 'ডার্টি ওয়ার'-এ প্রাণ হারায় ৩০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার মানুষকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় কাম্পো দে মায়োতে। মাত্র ৫০ জন সেখান থেকে বেঁচে ফিরে আসতে পারেন। এখানে বন্দি নারীদের অনেকেই তখন সন্তান জন্ম দেন। কিন্তু এসব নবজাতককে তাদের মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় সেনাসদস্যরা। বিভিন্ন সেনা বা পুলিশ পরিবারে দত্তক দেওয়া হয় ওইসব শিশুকে। এরকম প্রায় ৫০০ শিশুসন্তানকে তাদের মায়ের কোল খালি করে নিয়ে যাওয়া হয় সে সময়।[১][২]

বিচার শুরুসম্পাদনা

২০০৭ সালে ক্রিস্টিনা ফারনান্দেজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি জান্তা সরকারের নাটের গুরুদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে জোর তৎপরতা শুরু করেন। জেনারেল বেনিয়োনের বিরুদ্ধে অপহরণ, নির্যাতন, শিশু চুরিসহ মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। এ তদন্তকাজের অংশ হিসেবে ২০০৭ সালের ৮ মার্চ বেনিয়োনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই একই সালের ২৪ এপ্রিল শুনানি শুরু হয়। আর্জেন্টিনার মানবাধিকার সংগঠন সেন্টার অব লিগ্যাল অ্যান্ড সোস্যাল স্টাডিস বলছে, সেনাশাসনের সময় নানাবিধ মানবতাবিরোধী অপরাধ করার জন্য এখন পর্যন্ত মোট ১৪৬৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।[১][২]

শাস্তিসম্পাদনা

 
রেইনালদো বেনিয়োনের ছবি সরিয়া ফেলা হচ্ছে।

সেনা শাসনামলে অপহরণ, নির্যাতনসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য রেইনালদো বেনিয়োনেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সব অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্য পাঁচ সাবেক সেনাকর্মকর্তারও ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে নানা মেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত অন্য পাঁচজন হলেন, সান্তিয়াগো রিভেরোস, ফার্নানদো ভারপ্লাতসেন, কার্লোস তেপেদিনো, জর্জ গার্সিয়া ও ইউজেনিয়ো গানাবেনস পেরেলো। প্রায় ৩০ বছর পরে বিচার হলেও অনেকে এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সামরিক শাসনামলে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সরকারের 'ডার্টি ওয়ার'এ প্রাণ হারায় ৩০ হাজার মানুষ। তবে সরকারি হিসাবে ওই আট বছরে ১৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এর আগে শুনানিতে বেনিয়োনে বলেছিলেন, তাদের সামরিক শাসনামলে আট হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়নি।[১][২]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বেনিয়োনে ছিলেন নাটের গুরু,সূত্র : বিবিসি, এএফপি, হাসান ইমাম বাবু। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ২২ এপ্রিল ২০১০ খ্রিস্টাব্দ।
  2. আর্জেন্টিনার শেষ সেনাশাসক বেনিয়োনের ২৫ বছরের জেল,সূত্র : বিবিসি, এএফপি, কালের কণ্ঠ ডেস্ক। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ২২ এপ্রিল ২০১০ খ্রিস্টাব্দ।