রামগতি ন্যায়রত্ন

বাঙালি লেখক

রামগতি ন্যায়রত্ন (৪ জুলাই ১৮৩১ - ৯ অক্টোবর (২১ শে আষাঢ়) ১৮৯৪) ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সমসাময়িক সংস্কৃত কলেজের ছাত্র ও অধ্যাপক।[১] তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস - "বাঙ্গালা ভাষা ও বাঙ্গালা সাহিত্য-বিষয়ক প্রস্তাব" রচনা করেন। [২]

রামগতি ন্যায়রত্ন
রামগতি ন্যায়রত্ন
জন্ম( ১৮৩১-০৭-০৪)৪ জুলাই ১৮৩১
ইলছোবা হুগলি, ব্রিটিশ ভারত বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ
মৃত্যু৯ অক্টোবর ১৮৯৪(1894-10-09) (বয়স ৬৩)
চুঁচুড়া হুগলি বৃটিশ ভারত
ভাষাবাংলা
নাগরিকত্বব্রিটিশ ভারতীয়
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসংস্কৃত কলেজ কলকাতা
উল্লেখযোগ্য রচনাবলি"বাঙ্গালা ভাষা ও বাঙ্গালা সাহিত্য-বিষয়ক প্রস্তাব"

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

রামগতি ন্যায়রত্ন'র জন্ম ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা জুলাই (১২৩৮ বঙ্গাব্দের ২১ শে আষাঢ়) ব্রিটিশ ভারতের হুগলি জেলার পাণ্ডুয়ার নিকটস্থ ইলছোবা গ্রামে। পিতার নাম হলধর চূড়ামণি। রামগতি দশ বৎসর বয়স পর্যন্ত পড়াশোনা করেন গ্রামের পাঠশালায়। ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারিতে ভর্তি হন কলকাতার সংস্কৃত কলেজে[২] কলেজে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। কলেজ নথিতে তার পদবী 'শর্মা' ও 'ব্যানার্জি' ব্যবহৃত হত। তিনি কলেজের জুনিয়র ও সিনিয়র সমস্ত পরীক্ষায় বৃত্তি লাভ করেন। শিক্ষান্তে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ন্যায়রত্ন উপাধি পান।[৩]

কর্মজীবনসম্পাদনা

সংস্কৃত কলেজে শিক্ষা লাভের পর প্রথমে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৫ শে আগস্ট হুগলির নর্মাল স্কুলে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। তারপর ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে বর্ধমানের বর্তমানে পূর্ব বর্ধমান জেলার পাকুরডি গুরু ট্রেনিং স্কুলের প্রধান শিক্ষক হন। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দের ১৩ ই ফেব্রুয়ারি বহরমপুর কলেজে সংস্কৃতের অধ্যাপক পদে যোগ দেন। শেষে ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দের ২ রা ফেব্রুয়ারি আবার হুগলির নর্মাল স্কুলে প্রধান শিক্ষক হন এবং ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে অবসর গ্রহণ করেন। [৩] তিনি নিজগ্রামে বিদ্যালয়, চিকিৎসালয় ও ডাকঘর স্থাপন করেন।

সাহিত্যকর্মসম্পাদনা

রামগতি ন্যায়রত্নের ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত "বাঙ্গালা ভাষা ও বাঙ্গালা সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব" গ্রন্থটি অন্যতম কীর্তি। তার এই গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনার প্রথম প্রয়াস হিসাবে বিবেচিত হয়। তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ গুলি হল-

  • কলিকাতার প্রাচীন দুর্গ এবং অন্ধকূপ হত্যার ইতিহাস (১৮৫৮)
  • বস্তুবিচার (১৮৫৯)
  • বাঙ্গালার ইতিহাস (১৮৫৯)
  • বাঙ্গালা ব্যাকরণ ( ১৮৬৪)
  • ভারতবর্ষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (১৮৬৫)
  • ঋজু ব্যাখ্যা (১৮৬৬)
  • শিশু পাঠ (১৮৬৮)
  • দয়মন্তী (১৮৬৯)
  • চণ্ডী (১৮৭২)
  • গোষ্ঠীকথা (১৮৭৭)
  • কুপিতকৌশিক নাটক (১৮৭৮)
  • নীতিপথ (১৮৮১)
  • রামচরিত (১৮৮৩)
  • রোমাবতী (১৮৬২)
  • ইলছোবা (১৮৮৮)

শেষোক্ত গ্রন্থদুটি তার মৌলিক আখ্যায়িকা গ্রন্থ। [৩]

জীবনাবসানসম্পাদনা

রামগতি ন্যায়রত্ন ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ৯ ই অক্টোবর তার চুঁচুড়া'র বাড়িতে পরলোক গমন করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. শিশিরকুমার দাশ (২০১৯)। সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী। সাহিত্য সংসদ, কলকাতা। পৃষ্ঠা ১৯৩। আইএসবিএন 978-81-7955-007-9 
  2. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট ২০১৬, পৃষ্ঠা ৬৫৭, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  3. ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৪৪)। অক্ষয়চন্দ্র সরকার রামগতি ন্যায়রত্ন সাহিত্য-সাধক-চরিতমালা-৩৯। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, কলকাতা। পৃষ্ঠা ২৯–৩২। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-০৪