রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির

রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির হল ভারত রাষ্ট্রের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত একটা স্বয়ংশাসিত প্রাক-স্নাতক কলেজ।[১] এই কলেজ ২০১৯ সময়কালে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউশনাল র‍্যাংকিং ফ্রেমওয়ার্ক (এনআইআরএফ) দ্বারা ভারতের মধ্যে ক্রমতালিকায় একাদশ স্থান[২] অর্জন করেছে।

রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির
অন্যান্য নাম
আরকেএমভি
নীতিবাক্যআত্মনো মোক্ষার্থং জগদ্ধিতায় চ
(आत्मनो मोक्षार्थं जगद्धिताय च)
(একজনের নিজের মোক্ষ এবং জগতের কল্যাণের জন্যেও) (তোমার নিজের মোক্ষ এবং জগতের কল্যাণের জন্যে)
ধরনসরকার পোষিত প্রাক-স্নাতক কলেজ
স্থাপিত১৯৪১
অবস্থান, ,
২২°৩৭′৫৪″ উত্তর ৮৮°২১′১৫″ পূর্ব / ২২.৬৩১৬৬৯° উত্তর ৮৮.৩৫৪১৩৮° পূর্ব / 22.631669; 88.354138
শিক্ষাঙ্গনশহর
ওয়েবসাইটvidyamandira.ac.in
মানচিত্র
রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির কলেজ প্রাঙ্গণ, বেলুড়মঠ, পশ্চিমবঙ্গ

ইতিহাস সম্পাদনা

১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত একটা পুরোপুরি আবাসিক প্রাক-স্নাতক কলেজ। এই 'বিদ্যামন্দির' নামটা ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দ ভারতের 'গুরুকুল' পরম্পরা অনুযায়ী আদর্শ এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবনায় দিয়েছিলেন। স্বামী বিমুক্তানন্দজি এবং স্বামী তেজসানন্দজি মহারাজ এই প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যথাক্রমে প্রথম সম্পাদক এবং প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন। স্বামী একচিত্তানন্দ মহারাজ এই কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল থেকে ২০২০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অধ্যক্ষ ছিলেন স্বামী শাস্ত্রজ্ঞানন্দ ।

২০০৫ খ্রিস্টাব্দে এই কলেজ ভারতের ন্যাক দ্বারা গ্রেড 'এ+' স্বীকৃতি পেয়েছিল। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান ক্রমতালিকাভুক্তির নীতি অনুযায়ী ৪ নম্বরের মধ্যে ৩.১২০ সিজিপিএ পেয়ে এই কলেজ জাতীয় স্বীকৃতি মুল্যায়ন পরিষদ কর্তৃক পুনর্স্বীকৃতি লাভ করেছিল। রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির কলেজ বিষয়শ্রেণীতে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউশনাল র‍্যাংকিং ফ্রেমওয়ার্ক(এনআইআরএফ) দ্বারা ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে জাতীয় পর্যায়ে একাদশ স্থান দখল করেছিল। একেবারে শুরুতে এটা একটা অন্তর্বর্তী কলাবিদ্যা কলেজ ছিল। ১৯৪৫ এবং ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে এই কলেজ বাণিজ্য এবং বিজ্ঞান বিষয়সমূহের অনুমোদন পেয়েছিল। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই থেকে এটা ত্রিবার্ষিক প্রাক-স্নাতক কলেজরূপে উন্নীত হয়। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে এখানে উচ্চমাধ্যমিক বিভাগ যুক্ত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নীতি অনুযায়ী বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইউজিসির কর্মমুখী স্নাতক শিক্ষার অধীনে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন এবং শিল্প রসায়নে বিএসসি (মেজর) পাঠক্রম চালু হয়েছিল। ২০০৯ শিক্ষাবর্ষে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে বিএসসি (মেজর) পরিবর্তিত হয়ে বিএসসি কম্পিউটার সায়েন্স সাম্মানিক হয়েছিল। সম্প্রতি বাংলা, সংস্কৃত, গণিতশাস্ত্র এবং ফলিত রসায়নে স্নাতকোত্তর পাঠক্রম চালু করা হয়েছিল। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের জুলাই শিক্ষাবর্ষ থেকে দর্শনশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর পাঠক্রম চালু করা হয়েছে।[৩]

২০১০ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বিদ্যামন্দিরকে একটা 'সেন্টার অফ পোটেন্সিয়াল ফর এক্সেলেন্স' (সিপিই) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল; ২০১০ খ্রিস্টাব্দের জুনে বিদ্যামন্দিরকে শিক্ষামূলক ব্যাপারে 'স্বয়ংশাসিত' অবস্থান দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল, যাতে বিদ্যামন্দির পাঠ্যক্রম তৈরি করতে সক্ষম হয়, প্রাক-স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে[৪] নতুন পাঠক্রম চালু করতে পারে, পাঠন-পঠন-মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রণয়ন এবং কলেজ নিজেই উপাধি প্রদান করতে পারে। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির ন্যাশনাল ইন্সটিটিউশনাল র‍্যাংকিং ফ্রেমওয়ার্ক (এনআইআরএফ) থেকে জাতীয়ভাবে সব কলেজের মধ্যে নবম স্থান দখল করেছিল।[৫]

বিষয়ভিত্তিক বিভাগসমূহ সম্পাদনা

বর্তমানে কলেজে ১৪টা প্রাক-স্নাতক এবং ৫টা স্নাতকোত্তর পাঠক্রমে শিক্ষা দেওয়া হয়। বিদ্যামন্দির ১৪টা বিষয়ে বিএ এবং বিএসসি সাম্মানিক পাঠক্রম এবং ৫টা বিষয়ে এমএ এবং এমএসসি পাঠক্রম চালু আছে।

বিজ্ঞান পাঠক্রমে পাঠদানের বিভাগসমূহ
  • গণিতশাস্ত্র (সাম্মানিক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি)
  • পদার্থবিজ্ঞান (সাম্মানিক)
  • রসায়ন (সাম্মানিক)
  • অনুজীববিজ্ঞান (সাম্মানিক)
  • শিল্প রসায়ন (সাম্মানিক)
  • কম্পিউটার বিজ্ঞান (সাম্মানিক)
  • ফলিত রসায়ন (স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি)
  • প্রাণিবিজ্ঞান (সাম্মানিক)
কলাবিদ্যা এবং সমাজ বিজ্ঞান পাঠক্রমে পাঠদানের বিভাগসমূহ
  • বাংলা (সাম্মানিক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি)
  • সংস্কৃত (সাম্মানিক এবং স্নাতকোত্তর)
  • ইংরেজি (সাম্মানিক)
  • দর্শনশাস্ত্র (সাম্মানিক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি)
  • রাষ্ট্রবিজ্ঞান (সাম্মানিক)
  • ইতিহাস (সাম্মানিক)
  • অর্থনীতি (সাম্মানিক)
  • রাশিবিজ্ঞান (কেবলমাত্র সাধারণ পাঠক্রম)
  • ইলেক্ট্রনিক্স (কেবলমাত্র সাধারণ পাঠক্রম)

ছাত্রজীবন সম্পাদনা

রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দিরে প্রায় ৬০০ নথিভুক্ত ছাত্র আছে এবং সকলেই আবাসিক। 'শ্রী ভবন', 'বিদ্যা ভবন', 'বিনয় ভবন', 'বিবেক ভবন', 'সারদা ভবন' এবং 'শান্তি ভবন' নামে একই অঙ্গনে ছাত্রদের থাকার জন্যে পাশাপাশি ছ-টা[৩] ভবন বা ছাত্রাবাস আছে। ছাত্রাবাসগুলোকে একেকটা 'ভবন' বলা হয়। কলেজে থাকাকালীন সাধু সদস্যদের তত্ত্বাবধানে শ্রীরামকৃষ্ণের আদর্শে তাদের এক শৃংখলাবদ্ধ জীবন যাপন করতে হয়।

আরো দেখুন সম্পাদনা

তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. "Affiliated College of University of Calcutta"। ২০১২-০২-১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  2. "MHRD, National Institute Ranking Framework (NIRF)"www.nirfindia.org। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০২০ 
  3. "Ramakrishna Mission Vidyamandira"vidyamandira.ac.in। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০২০ 
  4. "Ph.D" (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০২০ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. https://www.telegraphindia.com/calcutta/rkm-college-among-top-10-220773