রাজপট্ট বা রাজবর্ত (ইংরেজীতে ল্যাপিস্ ল্যাজ়ুলি) হল একটি গভীর-নীল রূপান্তরিত শিলা যা একটি রত্নপাথর হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং এর তীব্র রঙের জন্য প্রাচীনকাল থেকে খুবই মূল্যবান।

লাপিস লাজুলি
মেটামরফিক শিলা
Lapis-lazuli hg.jpg
প্রাকৃতিক অবস্থায় লাপিস লাজুলি (আফগানিস্তানে পাওয়া)
মিশ্রণ
বিভিন্ন খনিজের মিশ্রণ, ল্যাজুরাইট প্রধান উপাদান

খ্রীষ্টপূর্ব সপ্তম সহস্রাব্দের প্রথম দিকে, রাজপট্ট সার-ই সাং খনিতে, [১] শর্তুগাইতে এবং উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানের বাদাখশান প্রদেশের অন্যান্য খনিতে খনন করা হত। [২]

৭৫৭০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের রাজপট্টের নিদর্শনগুলি ভির্ড়াণাতে পাওয়া গেছে, যা সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতার প্রাচীনতম স্থান।[৩] সিন্ধু সভ্যতায় (৭৫৭০-১৯০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) রাজপট্ট অত্যন্ত মূল্যবান ছিল।[৩] [৪] [৫] মেঃর্গড়ের নব্যপ্রস্তরযুগীয় সমাধিস্থলসমূহে, সেইসাথে ককেশাসে এবং সুদূর মৌরিতানিয়া পর্যন্ত রাজপট্টের পুঁতি পাওয়া গেছে।[৬] এটি তুতানখামুনের (১৩৪১-১৩২৩ খ্রীষ্টপূর্ব) অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মুখোশে ব্যবহৃত হয়েছিল। [৭]

মধ্যযুগের শেষের দিকে, রাজপট্ট ইউরোপে রপ্তানি করা শুরু হয়, যেখানে এটিকে গুঁড়ো করে আল্ট্রামেরিন তৈরি করা হয়, যা সব নীল রঙ্গকগুলির মধ্যে সবচেয়ে ভাল এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল। আল্ট্রামারিন রেনেসাঁ এবং বারোকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী দ্বারা ব্যবহার করা হয়েছিল, যার মধ্যে মাসাকিও, পেরুগিনো, টাইটিয়ান এবং ভার্মিয়ার রয়েছে এবং প্রায়শই তাদের পেইন্টিংয়ের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব, বিশেষ করে কুমারী মেরির পোশাকের জন্য সংরক্ষিত ছিল। মধ্যযুগীয় নান এবং লেখকদের দাঁতের টারটারেও আল্ট্রামারিন পাওয়া গেছে।[৮]

প্রধান উৎসসম্পাদনা

আফগানিস্তানের উত্তরপূর্বাঞ্চলের খনি লাপিস লাজুলির প্রধান উৎস। রাশিয়ায় অবস্থিত বৈকাল হ্রদের পশ্চিমের খনিসমূহ থেকে বড় পরিমানে লাজুলি পাওয়া যায়। পেরুর আন্দিজ পর্বতমালার খনি থেকে প্রাপ্ত লাপিস লাজুলি দিয়ে ইনকা জনগোষ্ঠী অলঙ্কার এবং আর্টিফ্যাক্টস তৈরি করতো। পাকিস্তান, ইতালি, মঙ্গোলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় ক্ষুদ্র পরিমানে লাপিস লাজুলি খনি থেকে উত্তোলন করা হয়।[৯]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. David Bomford and Ashok Roy, A Closer Look- Colour (2009), National Gallery Company, London, (আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৫৭০৯-৪৪২-৮)
  2. Moorey, Peter Roger (১৯৯৯)। Ancient Mesopotamian Materials and Industries: the Archaeological Evidence। Eisenbrauns। পৃষ্ঠা 86–87। আইএসবিএন 978-1-57506-042-2। ২০১৫-১০-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১১-০৮ 
  3. "Excavation Bhirrana | ASI Nagpur"excnagasi.in। ২০২০-০৮-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-২১ 
  4. Sarkar, Anindya; Mukherjee, Arati Deshpande (২০১৬-০৫-২৫)। "Oxygen isotope in archaeological bioapatites from India: Implications to climate change and decline of Bronze Age Harappan civilization" (ইংরেজি ভাষায়): 26555। আইএসএসএন 2045-2322ডিওআই:10.1038/srep26555 পিএমআইডি 27222033পিএমসি 4879637  
  5. DIKSHIT, K.N. (২০১২)। "The Rise of Indian Civilization: Recent Archaeological Evidence from the Plains of 'Lost' River Saraswati and Radio-Metric Dates": 1–42। আইএসএসএন 0045-9801জেস্টোর 43610686 
  6. Bowersox & Chamberlin 1995
  7. Alessandro Bongioanni & Maria Croce
  8. Zhang, Sarah (জানুয়ারি ৯, ২০১৯)। "Why a Medieval Woman Had Lapis Lazuli Hidden in Her Teeth"The Atlantic। মে ৮, ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ মে ৯, ২০২০ 
  9. "Lapis Lazuli"www.gemstone.org। International Colored Gemstone Association। ২০২০-০৩-২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-১৩