রলি জেনকিন্স

ইংরেজ ক্রিকেটার

রোল্যান্ড অলিভার জেনকিন্স (ইংরেজি: Roly Jenkins; জন্ম: ২৪ নভেম্বর, ১৯১৮ - মৃত্যু: ২২ জুলাই, ১৯৯৫) ওরচেস্টারের রেইনবো হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

রলি জেনকিন্স
রলি জেনকিন্স.jpg
১৯৪৭ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে রলি জেনকিন্স
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরোল্যান্ড অলিভার জেনকিন্স
জন্ম(১৯১৮-১১-২৪)২৪ নভেম্বর ১৯১৮
রেইনবো হিল, ওরচেস্টার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২২ জুলাই ১৯৯৫(1995-07-22) (বয়স ৭৬)
ওরচেস্টার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনলেগ ব্রেক গুগলি
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৩৯)
১৬ ডিসেম্বর ১৯৪৮ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট১৯ জুন ১৯৫২ বনাম ভারত
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৮৬
রানের সংখ্যা ১৯৮ ১০০৭৩
ব্যাটিং গড় ১৮.০০ ২২.২৩
১০০/৫০ –/– ১/৪০
সর্বোচ্চ রান ৩৯ ১০৯
বল করেছে ২১১৮ ৫৯৫৭১
উইকেট ৩২ ১৩০৯
বোলিং গড় ৩৪.৩১ ২৩.৬৪
ইনিংসে ৫ উইকেট ৯২
ম্যাচে ১০ উইকেট ২০
সেরা বোলিং ৫/১১৬ ৮/৬২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪/– ২১৩/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৪ মে ২০১৯

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ লেগ ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন রলি জেনকিন্স

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

১৯১৮ সালে ওরচেস্টারের রেইনবো হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী রোল্যান্ড অলিভার জেনকিন্স ১৯৩৮ সালে ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। এর পরপরই দলের নিয়মিত সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন। প্রথম তিন মৌসুমে বেশ সতর্ক অবস্থায় খেলেছেন। কিন্তু, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ছয় বছর কোন কাউন্টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়নি।

১৯৩৮ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত রলি জেনকিন্সের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। পরিবারের দশ সন্তানের সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন রলি জেনকিন্স। ওরচেস্টার রেসকোর্সে তার খেলোয়াড়ী প্রতিভা ধরা পড়ে। ১৯৩৮ সালে অভিষেক ঘটলেও ১৯৩৯ সালে ক্যাপ পান। ১৯৪৮ সালের কাউন্টি মৌসুমে ১,৩৫৬ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ৮৮ উইকেট পেয়েছিলেন। এ পর্যায়ে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ার চিন্তাভাবনা করছিলেন। তখনই টেলিগ্রামের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এরিক হোলিসের স্থলাভিষিক্ত হবার প্রস্তাবনা পান। বিবাহ স্থগিত হয়ে যায় ও ঐ সফরে ব্যাপক অর্থেই সফলতা পেয়েছিলেন।

বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে কোন অর্ধ-শতকের ইনিংসের সন্ধান পাননি। ১৯৪৭ সালে দ্রুত মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সচেষ্ট হন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রায় পুরোটা সময়ই ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ডগ রাইট ও এরিক হোলিসকে সাথে নিয়ে ইংরেজ লেগ স্পিনে সর্বশেষবারের মতো রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। ১৯৪৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে আসার পর বলের গ্রিপ পরিবর্তন করেন। ১৯৪৯ সালে গুগলির সাহায্য নিয়ে ১৮৩ উইকেট পেয়েছিলেন। এ পর্যায়ে২৭ ক্যাচও তালুবন্দী করেছিলেন। অধিকাংশই নিজের বলে ছিল।

রাইটের ন্যায় দ্রুতগতিতে পলে পেস আনয়ণ কিংবা হোলিসের ন্যায় বোলিং সৌন্দর্য্য আনতে না পারলেও জেনকিন্সের স্পিন ও বলে ফ্লাইট আনয়ণের ফলে ১৯৪৯ সালের গ্রীষ্মে উভয়কেই অতিক্রম করে ফেলেন। টেস্ট ক্রিকেট না খেললেও ঐ মৌসুমে যে-কোন বোলারের তুলনায় অধিক উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখান। তন্মধ্যে, সারের বিপক্ষে উভয় ইনিংসেই হ্যাট্রিক লাভ করেছিলেন তিনি।[২] তাসত্ত্বেও তার ব্যাটিংশৈলী ঠিকই বজায় রেখেছিলেন। উপর্যুপরী তৃতীয় বছর সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ফলশ্রুতিতে ১৯৫০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।

১৯৫২ সাল পর্যন্ত ওরচেস্টারশায়ারের অমূল্য সম্পদ হিসেবে নিজেকে অল-রাউন্ড ক্রীড়ানৈপুণ্যে ভাস্বর করে রেখেছিলেন। দ্বিতীয়বারের মতো ডাবল লাভ করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ ঘটেছিল রলি জেনকিন্সের। বোলার হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটে সফলতা লাভের কারণে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনের জন্যে ইংল্যান্ড দলের সদস্য করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে ডারবানে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়েছিল তার।

টেস্ট ক্রিকেট অভিষেকের নিজস্ব তৃতীয় বলেই এরিক রোয়ানকে বিদেয় করেন। ১/৫০ ও ৩/৬৪ নিয়ে সফরকারীদের ২ উইকেটের বিজয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। ঐ সিরিজে বোলিং গড়ে শীর্ষস্থান দখল করেন তিনি। তবে, পরবর্তী গ্রীষ্মে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি খেলেননি। কিন্তু, ১৩৮ উইকেট পান ও ১,১৮৩ রান তুলে নেন।

১৯৫১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুইটি টেস্ট খেলার সুযোগ পান। প্রথম টেস্টে নয় উইকেট পান তিনি।[১] কিন্তু, এর জন্যে তাকে প্রায় তিনশত রান খরচ করতে হয়েছিল। জেনকিন্স সম্ভবতঃ একমাত্র ইংরেজ স্পিনার হিসেবে পূর্ববর্তী বছরগুলোয় সফলতা পাননি। ১৯৫২ সালে ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্টেও কিছুটা সফলতা পেয়েছিলেন।

অবসরসম্পাদনা

১৯৫৩ সালে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। বোলার হিসেবে চমৎকার খেললেও ব্যাট হাতে তেমন সুবিধে করতে পারছিলেন না। ইনিংসে দশের নিচে গড় চলে যায়। এছাড়াও, গুরুতর আঘাতের কারণে মৌসুমের অর্ধেক সময় নষ্ট হয় তার। লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে মূল আর্থিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পান। ১৯৫৪ সালের নমনীয় পিচেও ব্যাট কিংবা বল হাতে ব্যর্থ ছিলেন। ১৯৫৫ সালে পুনরায় আঘাতের কবলে পড়েন। ঐ বছরের শেষদিকে কিছুটা সেরা খেলা উপহার দেয়ার প্রচেষ্টা চালান। পূর্বের যে-কোন সময়ের তুলনায় ভালো গড় নিয়ে ১৯৫৬ সালে ১০১ উইকেট পান। এছাড়াও, নিয়মিতভাবে কাউন্টি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। একটি খেলা বাদে এগারো উইকেট পান। ১৯৫৭ সালে তার খেলার মান নিম্নমূখী হয়ে পড়ে। ১৯৫৮ সালে মাত্র কয়েকটি খেলায় অংশ নেন। চুক্তি নবায়ণ না করায় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য হন। এরপর বার্মিংহাম ও জেলা লীগে ওয়েস্ট ব্রোমউইচ ডার্টমাউথের সদস্যরূপে পনেরো বছর খেলেন।

মূল্যায়নসম্পাদনা

ক্রিকেট লেখক কলিন বেটম্যানের অভিমত, রলি জেনকিন্স প্রকৃতমানে লেগ স্পিনারদের প্রতিমূর্তিস্বরূপ। এ খেলায় অন্যতম সেরা চারিত্রিক গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন। রিস্ট স্পিনারদের যুগে রলি বল হাতে সেরা স্পিনারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। তবে, সর্বদাই তার বোলিং নিখুঁত ধরনের ছিল না।[১] লেগ সাইডে স্ট্রোক মারতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

টেস্ট ক্রিকেটে তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকার শক্ত প্রকৃতির পিচে তার স্পিনের কার্যকারিতা প্রকাশ পায়নি। শুরুতে তিনি অর্থোডক্স লেগ ব্রেক বোলার হিসেবে খেলতেন। এ সময়ে সিম বোলারের ন্যায় বল গ্রিপ করতেন। এ ধরনের স্পিনে বেশ সফলতা পেয়েছিলেন।

ডার্বিশায়ারের উইকেট-রক্ষক বব টেলরজর্জ ডকসের সাথে তিনিও তিনজন খেলোয়াড়ের একজন হিসেবে খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র সেঞ্চুরি নিয়ে দশ হাজার রান করেছেন। ১৯৪৮ সালে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ঐ সেঞ্চুরিটি করেছিলেন। অন্যদিকে টনি লক ঐ সংখ্যায় পৌঁছলেও সর্বোচ্চ করেছিলেন ৮৯ রান।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবন কঠোর নিয়মানুবর্তিতা বজায় রেখে চলেছেন রলি জেনকিন্স। সকাল সাতটায় বোলিং অনুশীলন করতেন। বোলিংকালে সর্বদাই ক্যাপ পরিধান করতেন। তবে, ব্যাট হাতে ক্যাপবিহীন থাকতেন।

অলিভ নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ২২ জুলাই, ১৯৯৫ তারিখে ৭৬ বছর বয়সে ওরচেস্টারে রলি জেনকিন্সের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 100আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. "Two hat-tricks in the same match"ESPN Cricinfo। ৭ নভেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৭ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা