মোহাম্মদ আবু নাসের

মোহাম্মদ আবু নাসের (৩ এপ্রিল ১৯২১ - ১২ মে ২০০৪) একজন বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় উপাচার্য ছিলেন। তিনি ১৯৮৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

মোহাম্মদ আবু নাসের
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
কাজের মেয়াদ
১৬ মার্চ ১৯৭০ – ২৫ এপ্রিল ১৯৭৫
পূর্বসূরীএম এ রশীদ
উত্তরসূরীওয়াহিদউদ্দিন আহমেদ
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৯২১-০৪-০২)২ এপ্রিল ১৯২১
দামলা গ্রাম, শ্রীনগর উপজেলা, মুন্সীগঞ্জ জেলা, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু১২ মে ২০০৪(2004-05-12) (বয়স ৮৩)
পুরস্কারএকুশে পদক

শৈশব ও শিক্ষা জীবনসম্পাদনা

আবু নাসেরের জন্ম পূর্ব পাকিস্তানে মুন্সীগঞ্জ জেলায়। তার পিতার নাম ইসমাইল আলী খান ও মাতার নাম আবিদা বেগম। তিনি মুন্সিগঞ্জে লোহাজং উপজেলায় কাজীর পাগলা এ টি টি ইনস্টিটিউশনে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। ১৯৩৭ সালে তিনি প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা পাস করেন। তিনি বি.এম. কলেজ, বরিশাল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে ১৯৪২ সালে বি.এসসি (সম্মাননা) এবং ১৯৪৩ সালে এম. এস. সম্মাননা গ্রহণ করেন। এরপর তিনি রসায়ন প্রকৌশলে পড়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের শিবপুরের বঙ্গ প্রকৌশল কলেজে যান।

তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন প্রকৌশলে এমএস অধ্যয়ন করার জন্য বৃত্তি পান। সেই সময় অবিভক্ত ভারতে এ ধরনের বৃত্তি জন্য নির্বাচিত হওয়া ছিল একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। ১৯৬২ সালে তিনি আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি সম্পন্ন করতে যান। তিনি চার বছরে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। চার বছরের মধ্যে, তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দুই বছর অতিবাহিত করেন এবং তারপর তিনি তার বাকি পিএইচডি সম্পন্ন করার জন্য টেক্সাস এ এন্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। ১৯৫৫ সালে নফিল্ড ফাউন্ডেশন থেকে একটি অংশীদারত্বের আওতায় পড়াশোনা করার জন্য তিনি লন্ডনে যান।

কর্মজীবনসম্পাদনা

পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসার পর, তিনি প্রথম শিল্প মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন এবং তারপর তিনি প্রযুক্তিগত শিক্ষা অধিদফতরের সাথে যোগ দেন। স্বল্প সময়ের পর তিনি আহসানউল্লাহ প্রকৌশল কলেজে (বুয়েট) যোগদান করেন। ১৯৭০ সালে তিনি বুয়েটের উপাচার্য হন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি তার পদ-অবস্থানে অব্যাহত থাকেন। ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত বুয়েটের প্রথম সমাবর্তন আয়োজনের জন্য তাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান হন। ১৯৮০ সালে তিনি এই পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি তার মৃত্যু পর্যন্ত বুয়েটের রসায়ন প্রকৌশলের অধ্যাপক ছিলেন।

পুরস্কারসম্পাদনা

  • একুশে পদক (১৯৮৭)[১]

মৃত্যুসম্পাদনা

তিনি ১২ মে ২০০৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি চার সন্তানের জনক। তার দ্বিতীয় পুত্র খান এইচ জাহিদ বর্তমানে রিয়াদ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "একুশে পদকপ্রাপ্ত সুধীবৃন্দ ও প্রতিষ্ঠান" (PDF)moca.portal.gov.bdসংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পৃষ্ঠা ১১। ২২ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০১৯