মোহাম্মদ আবদুল মুহিত

এম এ মুহিত বা মোহাম্মদ আবদুল মুহিত, (জন্ম: ৪ জানুয়ারি, ১৯৭০) বাংলাদেশী পর্বতারোহী, যিনি ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ২১ মে, দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। এর আগে ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ মে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মুসা ইব্রাহীম এভারেস্ট জয় করার কৃতিত্ব অর্জন করেন।[১] মুহিত, ঐ বছরই মুসার পাশাপাশি এভারেস্ট জয়ের জন্য যান, কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তিনি সেবার ব্যর্থ হন। অবশেষে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের একজন সদস্য হিসেবে এভারেস্ট জয়ের লক্ষ্যে আবারও যাত্রা করেন ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে, এবং অবশেষে তিনি সফল হন। তার এই সফলতার খবর, ঢাকাস্থ নেপালের দূতাবাসের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচারণা বিভাগ।[২][৩]

মোহাম্মদ আবদুল মুহিত
জন্ম৪ জানুয়ারি ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ
জাতীয়তাবাংলাদেশী
পেশাপর্বতারোহী
পরিচিতির কারণদ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট বিজয়
পিতা-মাতামনোয়ার হোসেন মিয়া
আনোয়ারা বেগম
আত্মীয়জাকিয়া বেগম আঁখি

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুরে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ৪ জানুয়ারি জন্ম তার। বাবা মনোয়ার হোসেন মিয়া ও মা আনোয়ারা বেগম। তিনি পরিবারের বড় ছেলে। পরিবারে তারা ৪ বোন ও ৩ ভাই। বড় বোনের নাম জাকিয়া বেগম আঁখি। পুরান ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে এসএসসি (১৯৮৫), নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি (১৯৮৭), এবং ঢাকা সিটি কলেজ থেকে বি.কম. (১৯৮৯) পাস করেন। পেশা জীবনে তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা।[২][৩]

পর্বতারোহণসম্পাদনা

১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবরে বন্ধুদের সাথে সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে বন্ধুদের মধ্যে প্রথম ১৮০০ ফুট উচ্চতায় উঠে পর্বতারোহণ নেশায় মগ্ন হন তিনি। সেই নেশাই প্রেরণা দেয় তাকে। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ও কালাপাথার ট্রেকিংয়ে অংশ নেন এবং ভারতের দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে মৌলিক পর্বতারোহণ এবং একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে উচ্চতর পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি।[২] এছাড়াও প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন সময় হিমালয়ের চুলু ওয়েস্ট (মে ২০০৭), মেরা (সেপ্টেম্বর ২০০৭), বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ মানাসলুর (মে ২০০৮), সিংগু, ও লবুজে শৃঙ্গে আরোহণ করেন তিনি।[৩]

সাফল্যসম্পাদনা

এভারেস্ট জয়ের আগে মুহিত, এভারেস্ট থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে বিশ্বের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ শৃঙ্গ চো ওয়ো (৮,২০১ মিটার) জয় করেন (২০০৯)। বাংলাদেশী পর্বতারোহীদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই সাফল্য অর্জন করেন বলে জানা যায়।[৪][৫] এছাড়াও তিনি দুবার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিনডং-এ আরোহণ করেন।[৩]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. http://www.dw-world.de/dw/article/0,,5605963,00.html
  2. এবার এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন মুহিত, আমার পুঠিয়া; ২৫ মে ২০১১ খ্রিস্টাব্দ। পরিদর্শনের তারিখ: ৩১ মে ২০১১ খ্রিস্টাব্দ।
  3. "এবার এভারেস্টচূড়ায় বাংলাদেশের মুহিত", কালের কণ্ঠ ডেস্ক, দৈনিক কালের কণ্ঠ; পৃ. ১; ২৩ মে ২০১১ খ্রিস্টাব্দ। পরিদর্শনের তারিখ: ৩১ মে ২০১১ খ্রিস্টাব্দ।
  4. "2 mountaineers begin expedition to Cho Oyu this month"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২০০৯-০৯-০৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-০৩ 
  5. "Bangladeshi set to start expedition to Everest"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১০-০৩-২০। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-০৩ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা