মোহাম্মদ আতিকুর রহমান

সাবেক সেনাপ্রধান

মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ( ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩১ - ২০ ডিসেম্বর ২০২৩) একজন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এবং ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন।

মোহাম্মদ আতিকুর রহমান
সেনা প্রধান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
কাজের মেয়াদ
১৯৮৬ – ১৯৯০
পূর্বসূরীহুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
উত্তরসূরীনুরউদ্দীন খান
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৯৩১-০৯-০১)১ সেপ্টেম্বর ১৯৩১
মৃত্যু২০ ডিসেম্বর ২০২৩(2023-12-20) (বয়স ৯২)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
লেফট্যানেন্ট জেনারেল

প্রথম জীবন সম্পাদনা

মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩১ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ-ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার খারেরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আবদুর রহমান ও মাতার নাম আফজলা খাতুন। তাড়া ছয় ভাই, চার বোন। নয়াদিল্লির ‘দি ইউনিয়ন একাডেমিতে’ তিনি একাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করাকালীন ১৯৪৭ সালে পাক-ভারত বিভক্তির সময় তার পিতার কর্মস্থল রাওয়ালপিন্ডিতে চলে যান এবং সেখানে ‘দি গর্ডন কলেজে’ (আমেরিকার মিশনারি কলেজ) পড়াশুনা করেন।

সামরিক কর্মজীবন সম্পাদনা

মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ১৩ মে ১৯৫৪ সালে ৯ম পিএমএ লংকোর্সে আর্টিলারি রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসেন এবং তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি এরশাদের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হওয়া দ্বিতীয় পাকিস্তানি ফেরত অফিসার ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সময় তিনি কর্নেল ছিলেন এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রামের ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন। ১৯৮২ সালে তিনি ক্ষমতা দখলের জন্য এরশাদের অভ্যুত্থানকে সমর্থন করেছিলেন। তখন তিনি মেজর জেনারেল এবং বাংলাদেশ রাইফেলসের প্রধান ছিলেন। [১] ২৪ শে মার্চ সকালে বাংলাদেশ রাইফেলসের প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ এবং নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম এ খান বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন এবং রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের কাছে একটি লিখিত বক্তব্য রাখেন এবং তার উপর চাপ প্রয়োগ করেন। রাষ্ট্রপতি বাধ্য হন সেনা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দিতে। [২]

সেনাবাহিনীর প্রধান সম্পাদনা

এরশাদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ১৯৮৬ সালের ৩১ আগস্টে দেশের সপ্তম সেনাপ্রধান হিসাবে নিয়োগ পান জেনারেল মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। তিনি ১৯৯০ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন।[৩]

অবসর গ্রহণ সম্পাদনা

তিনি ১৯৯০ সালের ৩০ আগস্ট পূর্ণ সামরিক সম্মাননা সহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অষ্টম সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পান নুরউদ্দীন খান[৩]

পরবর্তী জীবন সম্পাদনা

অবসর গ্রহণের পর জেনারেল মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জনচক্ষুর আড়ালে রাজনীতি থেকে দূরে চলে যান। তবে ২০১৪ সালে খালেদা জিয়ার আয়োজিত ইফতার পার্টিতে যোগ দেন। [৪]

তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. Liton, Shakhawat; Halder, Chaitanya Chandra (৩ মে ২০১৪)। "Ershad wanted to grab power after Zia killing"The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১৫ 
  2. "Ershad wanted to grab power after Zia killing"The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৩-২০ 
  3. "১৮ মেয়াদে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ১৭ জন"Dhakatimes News। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১২ 
  4. হামিদ, রাহমাতুল। "পেশাজীবীদের সঙ্গে ইফতার করলেন খালেদা জিয়া"। ২০১৬-০৩-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৩-২০